Tag: দুর্যোগ

  • দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: দেশের একাধিক অঞ্চলে রাতের মধ্যে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে Bangladesh Meteorological Department। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি নদীবন্দরকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার রাতে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়সহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, রাত ১টার মধ্যে আবহাওয়ার এ পরিবর্তন ঘটতে পারে।

    এছাড়া ঢাকা, বরিশাল, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলেও অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    এ কারণে ওইসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীপথে চলাচল না করার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে বজ্রঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে। তাই সবাইকে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    এবিএনএ: মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সানদাকান শহরের একটি ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩২ মিনিটে উপকূলীয় এলাকার কামপুং বাহাগিয়া নামের ভাসমান গ্রামটিতে আগুন লাগে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানা যায় এবং ভোর ৪টার দিকে এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

    দমকল বিভাগ জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পুড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর বেশিরভাগই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

    ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে অথবা অন্যদের সহায়তা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দমকল বিভাগ, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার ও সাবাহ রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    এবিএনএ: শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন উপকূলে হঠাৎ করে ভয়াবহ কম্পনে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি গাছপালাও দুলে ওঠে। পুকুর-দিঘির পানিতে স্পষ্ট ঢেউ দেখা যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকে মুখে দোয়া পড়তে পড়তে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

    বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা লীলা দেবনাথ জানান, নাতিকে খাওয়ানোর সময় হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে শিশুটিকে কোলে নিয়েই বাইরে ছুটে যান তিনি। তার ভাষায়, জীবনে এমন দোল কখনও টের পাননি। একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। বাজার এলাকায় দোকানের মালামাল পড়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র নড়ে ওঠে এবং রান্নাঘরের থালা-বাসন মেঝেতে পড়ে যায়। জুমার নামাজ চলাকালে একটি মসজিদেও কম্পন অনুভূত হয়। মুসল্লিরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    পুরোনো সরকারি কোয়ার্টারে থাকা এক চাকরিজীবী নারী বলেন, কম্পনে দেয়ালের ফাটল বড় হয়েছে—এ অবস্থায় সেখানে থাকা নিরাপদ নয় বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এনজিওকর্মী ও দোকানিরাও জানান, প্রথমে ভারী যানবাহনের কম্পন মনে হলেও পরে চারদিকে ‘ভূমিকম্প’ চিৎকার শুনে তারা দ্রুত বাইরে চলে যান।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। উপকূলজুড়ে অনুভূত এই কম্পনে বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে ভয় ও উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবে গেছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

    অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবে গেছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

    এবিএনএ:  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোর পানি হঠাৎ করেই বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বরিশাল নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

    নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে আশপাশের বাসাবাড়ি ও সড়কগুলো হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ভাটিখানা, পলাশপুর ও সাগরদি ধান গবেষণা রোডের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টার পর দক্ষিণাঞ্চলের মেঘনা, তেতুলিয়া ও কীর্তনখোলাসহ সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে কীর্তনখোলার পানি ছিল বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে।

    তবে ভাটা শুরু হলে পানি সরে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

    কুয়াকাটা ও বরগুনার পাথরঘাটা থেকেও একই ধরনের প্লাবনের খবর পাওয়া গেছে। সাগরে প্রচণ্ড জোয়ার ও তীব্র বাতাসের কারণে তীরবর্তী এলাকাগুলো তলিয়ে যায়।

    নিম্নচাপের কারণে গতকাল রাত থেকেই বরিশাল ও আশপাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, যা আজ সারাদিন ধরে চলে। ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকলেও দুপুরের পর হঠাৎ দমকা বাতাস শুরু হয়।

    বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, আজ বিকেল ৩টায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে গেছে এবং আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল ও খুলনা বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    বরিশাল নদী বন্দরের কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা জানান, নদীতে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যদিও এখনো লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়নি, তবে গতকাল থেকেই স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার মানুষজন আতঙ্কে রয়েছেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।