Tag: দুর্নীতি

  • নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    এবিএনএ: নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় মোড় এসেছে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই। শপথ নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের বিশেষ ইউনিট।

    পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গণমাধ্যমকে জানান, একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাবেক বিশেষ বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনটি এই সুপারিশ দেয়।

    পটভূমি: সহিংস বিক্ষোভ ও অভিযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ‘জেন-জি’ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

    বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রমেশ লেখক। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। ওই দুই দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী অলি। এর আগেই পদ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক।

    অন্তর্বর্তী সরকার ও তদন্ত

    পদত্যাগের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও জনঅভ্যুত্থানের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

    নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের বার্তা

    গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করেন বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

    নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আইনের প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি ও রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন,
    “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচারের পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আইনের চোখে সবাই সমান।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একদিকে যেমন আইনের শাসনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে।

  • ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    এবিএনএ: ভূমিকম্পকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচার, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। ভূমিকম্প তারই অন্যতম একটি নিদর্শন।

    তিনি বলেন, কোরআনে অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নবীদের অস্বীকার করেছে, দ্বীনের বিরোধিতা করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। সালেহ (আ.)-এর উম্মত যখন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন উটনিকে হত্যা করেছিল, তখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। একইভাবে লুত (আ.)-এর উম্মত সমকামিতার মতো নোংরা পাপাচারে লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদ উল্টে দেন এবং পাথর বর্ষণ করেন।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে পাপাচারের কারণে অতীতের জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধানের বিরোধী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও শাস্তিযোগ্য। অথচ আজ সেটিকে “অধিকার” বলে বৈধ করার দাবি উঠছে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে গণহারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি ডেকে আনে এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রস্তুতি। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে তওবা করা, পাপ থেকে বিরত থাকা, ইমান মজবুত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা।

    অন্যদিকে, অতি জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে এক লাখেরও বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। অথচ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এখনো খুবই সীমিত।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যদি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীর পেছনে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশও ভূমিকম্প প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করত, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

    শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক হয়ে ইমানি জীবনযাপন, তওবা ও সামাজিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না, যদি আল্লাহর রহমত না থাকে। ভূমিকম্প আমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।”

  • ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বিআইডব্লিউটিএর দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

    ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বিআইডব্লিউটিএর দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

    এবিএনএ:  ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জ্বালানি তেল সরবরাহের ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের জ্বালানি তেল সরবরাহ সংক্রান্ত ঠিকাদারি কাজে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

    এ অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিম এবং উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুল করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অন্য যেসব ব্যক্তি জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে।

  • নেপালে সংসদ ভবনে আগুন: উত্তাল বিক্ষোভের মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়রের শান্ত থাকার আহ্বান

    নেপালে সংসদ ভবনে আগুন: উত্তাল বিক্ষোভের মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়রের শান্ত থাকার আহ্বান

    এবিএনএ:  দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেপাল। টানা বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে হামলা চালিয়ে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ করেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি জানান, শত শত বিক্ষোভকারী মূল চত্বরে প্রবেশ করে ভাঙচুরের পর আগুন লাগায়। এতে সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুধু সংসদ ভবনই নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘরও আক্রান্ত হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তরুণদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। তাই এখন আর প্রাণহানি বা সম্পদ ধ্বংস কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি-বেসরকারি সম্পদ আমাদের সবার যৌথ সম্পদ, এগুলো নষ্ট করলে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা নিজেরাই।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জাতীয় সম্পদ ধ্বংস মানে সবার ক্ষতি। দয়া করে শান্ত থাকুন এবং সংযম প্রদর্শন করুন। এখান থেকেই আপনাদের প্রজন্মকে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।”

    এর আগে সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত ও ৪০০ জনের বেশি আহত হন। এই সহিংসতা ও জনচাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরও তরুণদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, কাঠামোগত সংস্কার ও রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এ আন্দোলন এখন এক নতুন বাঁকে পৌঁছেছে। দ্রুত সমাধান না হলে নেপালের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

  • টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    এবিএনএ:   সরকারের ছত্রছায়ায় একটি রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে যে দলটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে, সেটি ‘সবাই জানে’—এনসিপি, এমন মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

    সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “এটা আর গোপন কিছু নয়—সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে সেই ‘কিংস পার্টি’। দলটির সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, একজন উপদেষ্টা পদ ছেড়ে সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আর বাকি দুইজন রয়েছেন সরকারের বর্তমান উপদেষ্টা পদে—এ থেকেই প্রমাণ হয় কারা কাদের সহযোগিতায় রাজনীতির নতুন মোড় তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও নানা বিষয়

    টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে,
    দলটি গঠিত হয়েছে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছায়া থেকে।
    – জনগণের কাছে জবাবদিহি, সুশাসন ও স্বচ্ছতার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।
    – অর্থের উৎস অস্বচ্ছ, দখলদারিত্ব, দলবাজি, এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক সংস্কৃতি ধারণ করছে।
    – এর মাধ্যমে আত্মঘাতী পথে হাঁটছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি।

    এছাড়া, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,
    “নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এখন একটি রোডম্যাপ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্থিতিশীল, তা বলা যায় না।”

    সতর্কতা টিআইবির

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
    বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও প্রশাসনে যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অনেক ঘাটতি দেখা গেছে বলে মন্তব্য করা হয়।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি।”

  • আন্দোলন থামিয়েও রেহাই নেই! এনবিআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিপাকে মধ্যস্থতাকারীরা

    আন্দোলন থামিয়েও রেহাই নেই! এনবিআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিপাকে মধ্যস্থতাকারীরা

    এবিএনএ:  এনবিআরের চলমান উত্তেজনার মাঝেই সরকার চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবসর ও এক কমিশনারকে বরখাস্ত করেছে। এদের মধ্যে আছেন এনবিআরের কর, শুল্কনীতি, মূসক নীতি ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধে আন্দোলন থামিয়ে কাজে ফিরেছিলেন। সরকারের আশ্বাস ছিল—কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু বর্তমানে যা ঘটছে, তা পুরোপুরি উল্টো। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী নেতারাও।

    বুধবার যাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন এনবিআরের কর বিভাগের আলমগীর হোসেন, শুল্কনীতি ও আইসিটি বিভাগের হোসেন আহমদ, মূসক নীতি বিভাগের আবদুর রউফ ও কমিশনার মো. শব্বির আহমেদ। এর আগে মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার জাকির হোসেনকে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজনকে জনস্বার্থে অবসর দেওয়া হয়েছে।

    বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ বলেন, “ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করা হয়েছিল দেশের স্বার্থে। সরকার আশ্বস্ত করেছিল, কারও চাকরি যাবে না। এখন যা হচ্ছে, তাতে আমরাও বিব্রত।”

    আন্দোলন প্রত্যাহারকারী কর্মকর্তারা জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ীদের সম্মান রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন বন্ধ করেন। কিন্তু এখন সেই কর্মকর্তারাই শাস্তির মুখে।

    দুদক একাধিক দফায় এনবিআরের সদস্য ও অতিরিক্ত কমিশনারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অর্থ উপার্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের।

    ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করে আন্দোলন করা সমর্থনযোগ্য নয়, তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা উচিত ছিল। যেভাবে কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙা হচ্ছে, তা দেশের জন্যও ক্ষতিকর।”

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে বিভাজনের পর থেকেই এনবিআরের কর্মকর্তারা সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক বন্ধ হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব প্রশাসনে।

    সরকারের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা এখন আরও সতর্ক এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চান বলে জানিয়েছেন।

  • স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক

    স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক

    এবিএনএ, ঢাকা:

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দপ্তরের দুই সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সাময়িকভাবে স্থগিত (ব্লক) করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

    দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

    আবেদনে আরও বলা হয়, তারা অর্জিত সম্পদ হস্তান্তর করে বিদেশে পলায়নের পরিকল্পনা করছেন বলে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এতে দুর্নীতির অনুসন্ধান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    আদালত তাদের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেন:

    • দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সাময়িকভাবে ব্লক করা

    দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে গেলে এসব সম্পদের ট্রেসিং ও বাজেয়াপ্ত করার কাজ ব্যাহত হতে পারে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন এই আদেশ। এই ধরণের আইনি পদক্ষেপ জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।