Tag: দুর্নীতি অভিযোগ

  • জাওয়াদ নির্ঝরের পোস্ট ঘিরে মৌলভীবাজার এসপিকে দায়িত্ব ছাড়তে নির্দেশ

    জাওয়াদ নির্ঝরের পোস্ট ঘিরে মৌলভীবাজার এসপিকে দায়িত্ব ছাড়তে নির্দেশ

    এবিএনএ: মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে অবিলম্বে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তাকে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্মারকে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

    স্মারক অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব দ্রুত হস্তান্তর শেষে আগামী ১৬ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এসপি রিয়াজুল ইসলামকে।

    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

    প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, কয়েক কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ না করায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    পোস্টে আরও বলা হয়, গত ৫ মে ১২ জেলার পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলির ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একজন এসপির বদলিকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

                                https://www.facebook.com/search/top?q=jawad%20nirjhor

    জাওয়াদ নির্ঝরের অভিযোগ অনুযায়ী, আড়াই কোটি টাকার সমঝোতার ভিত্তিতে রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি একটি আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে আংশিক অর্থ পরিশোধ করলেও বাকি অর্থ নিয়ে টালবাহানা করছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া পোস্টে রিয়াজুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়। সেখানে তাকে বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আজীবন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়েও এখনো সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

  • মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিস্ফোরণ—ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

    মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিস্ফোরণ—ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

    এবিএনএ,মোংলা:  মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সীমাহীন অনিয়ম এবং রোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার আর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করায় উত্তাপ্ত হয়ে উঠছে মোংলার রাজনৈতিক অঙ্গন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকান্ড এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে কলেজ ছাত্রছাত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
    বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা সরকারি কলেজের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ডাক্তারদের হাতে লাঞ্ছিত ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া, সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে রোগী দেখা এবং নিম্নমানের চিকিৎসা সেবার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলেই সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

    বিক্ষোভ কর্মসুচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় ছাত্রদল নেতা সজিব মিয়া শান্ত এবং যুবদল নেতা মোঃ মানিককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত’ দাবি করে অবিলম্বে নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

    আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রধানত কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, দুর্নীতিবাজ ও দুর্ব্যবহারকারী চিকিৎসকদের অবিলম্বে অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরিব অসহায় মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধের নিশ্চয়তা দেওয়া।

    এদিন মোংলা সরকারি কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা এতে অংশ নেন। তারা স্লোগান দেন, ডাক্তারদের অনিয়ম সইবে না আর মোংলাবাসী” এবং “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো, শান্ত-মানিকের মুক্তি দাও”। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আগামীতে মোংলায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    এই কর্মসূচির ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মকান্ড ও তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে।