Tag: দুর্ঘটনা

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    এবিএনএ: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোণা

    নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জ

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের এক কৃষক নিহত হন।

    অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    হবিগঞ্জ

    হবিগঞ্জে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নোয়াখালী

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলায় প্রাণহানির এ ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, তিন ইউনিটের লড়াই—কারণ অজানা

    গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, তিন ইউনিটের লড়াই—কারণ অজানা

    এবিএনএ: গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকার একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে বস্তির ভেতরে আগুন লাগে। আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত হতাহতেরও কোনো খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর বস্তির মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আশপাশের ঘরবাড়িতে পানি ছিটাচ্ছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • শুটিং শেষে সমুদ্রে নামা—শেষ মুহূর্তে কী হয়েছিল অভিনেতা রাহুলের সঙ্গে?

    শুটিং শেষে সমুদ্রে নামা—শেষ মুহূর্তে কী হয়েছিল অভিনেতা রাহুলের সঙ্গে?

    এবিএনএ: টলিউড অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যু নাড়া দিয়েছে পুরো বিনোদন জগতকে। একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে তার মৃত্যুর ঘটনায় স্তব্ধ সহকর্মী থেকে ভক্তরা।

    রোববার সকালে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তবর্তী তালসারি সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ নামের একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। দিনভর কাজের পর বিকেলের দিকে ঘটে যায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।

    শুটিং ইউনিটের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল একাই সমুদ্রে নামেন। সেই সময় তার সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সৈকতেই ছিলেন। হঠাৎই পানির নিচে রাহুলের পা বালিতে আটকে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই একটি বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে, যা সামাল দিতে না পেরে তিনি পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকেন।

    পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শ্বেতা চিৎকার করে অন্যদের ডাকেন। দ্রুত ইউনিটের সদস্যরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী জানান, হয়তো রাহুল সাঁতার জানতেন না বা কোনোভাবে আটকে গিয়েছিলেন।

    উদ্ধারের পরও তখনো জীবিত ছিলেন রাহুল। দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়, যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে। পথে তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান সহকর্মীরা।

    প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী জানান, শুটিং প্যাকআপের পরপরই দুর্ঘটনার খবর পান তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার সময় গাড়ির ভেতরে রাহুলের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং সহকর্মীরা তাকে সচল রাখার চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

    সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে ইতোমধ্যে খবর দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার কাঁথি হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে দিঘার মর্গে রাখা হয়েছে তার নিথর দেহ।

    উল্লেখ্য, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন রাহুল। সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

    অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে সরব ছিলেন রাহুল। লেখালেখির মাধ্যমেও নিজের মতামত তুলে ধরতেন তিনি। তার এই অকাল প্রয়াণে শোকাহত পুরো বিনোদন অঙ্গন।

  • শুটিং সেটেই মর্মান্তিক পরিণতি—সমুদ্রসৈকতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অভিনেতা রাহুল

    শুটিং সেটেই মর্মান্তিক পরিণতি—সমুদ্রসৈকতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অভিনেতা রাহুল

    এবিএনএ: টালিউড অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জনপ্রিয় অভিনেতা Rahul Arunoday Banerjee আর নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা সীমান্তবর্তী Talsari Beach এলাকায় শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।

    জানা গেছে, একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের দৃশ্য ধারণের জন্য পুরো শুটিং ইউনিট ওই সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করছিল। কাজ চলাকালীন হঠাৎ পানিতে ডুবে যান রাহুল। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সহঅভিনেত্রী Somashree Chaki এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও তাদের একসঙ্গে শুটিং হয়েছিল এবং সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল।
    গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, হঠাৎ কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা কেউই বুঝে উঠতে পারছেন না। শুটিং শেষে সেদিনই তাদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল।

    রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন থিয়েটার দিয়ে। পরে চলচ্চিত্রে কাজ করে দর্শকদের নজর কাড়েন। বিশেষ করে Chirodini Tumi Je Amar সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি।

    এই ছবির সহশিল্পী Priyanka Sarkar-এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও একসময় তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও পরবর্তীতে তারা আবার একসঙ্গে জীবনযাপন শুরু করেন। তাদের একমাত্র সন্তান সহজ।

    অভিনয়ের পাশাপাশি রাহুল উপস্থাপনা করতেন ‘সহজ কথা’ নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠানও। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি তিনি আবার টেলিভিশন ধারাবাহিকে নিয়মিত অভিনয়ে ফিরেছিলেন। সর্বশেষ Bhole Baba Par Karega ধারাবাহিকে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছিল।

    এই আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, ভক্ত এবং বিনোদন অঙ্গনে শোকের মাতম চলছে।

  • দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বিশেষ করে কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষসহ ফেনী ও হবিগঞ্জের দুর্ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রোববার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ঈদের আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা জাতির জন্য গভীর বেদনার। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। রেলক্রসিং, সেতু ও সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বার্তায় উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া ও কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন।

    আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এই কমিটিগুলো গঠন করেছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এছাড়াও ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

  • ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের ঠিক আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে ৯টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

    ঈদের আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক ব্যবসায়ীর জন্য এসব দোকানই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম।

    ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি জানান, ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন পণ্য মজুদ ও দুটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

    অন্যদিকে ‘মীম অ্যান্ড মুন’ সারের দোকানের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা পুরোপুরি আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র, লন্ড্রি ও সেলুনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সদরঘাটে ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা—সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের, নিখোঁজ আরও ২

    সদরঘাটে ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা—সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের, নিখোঁজ আরও ২

  • শরণখোলায় আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষকের বাড়ি, মুহূর্তেই ছাই সবকিছু

    শরণখোলায় আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষকের বাড়ি, মুহূর্তেই ছাই সবকিছু

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিক্ষকের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

    রবিবার (৮ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের ছেলে এবং এসবি তাফালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সালেহের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় তার স্ত্রী শিশুদের জন্য রান্না করতে চুলা জ্বালিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পরবর্তীতে আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ও ফ্রিজ বিস্ফোরণের মতো শব্দে ফেটে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আবু সালেহ জানান, আগুনে তার শিক্ষাগত সনদপত্র, চাকরির নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, জমির দলিল, নগদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা, তার স্ত্রী ও মায়ের স্বর্ণালংকারসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আফতাব ই আলম বলেন, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে এলাকার রাস্তা সরু হওয়া এবং আশপাশের খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সমস্যা হয়।

    এদিকে সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি দিয়ে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস এলেও পানির সংকটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয়।

    শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

  • ভোরের আগুনে মৃত্যুপুরী উত্তরা: সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ৬ জনের

    ভোরের আগুনে মৃত্যুপুরী উত্তরা: সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ৬ জনের

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান ছয়জন, আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও ১৩ জনকে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টার দিকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—ফজলে রাব্বী (৩৮), হারিস হোসাইন (৫২), রাহাব (১৭), আফসানা, রোদেলা আক্তার (১৪) এবং আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে হঠাৎ কাচ ভাঙার শব্দ শুনে দরজা খুলতেই চারদিকে ঘন ধোঁয়া দেখতে পান। দ্রুত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভবন ত্যাগ করেন তিনি। ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা মিলিয়ে একটি ডুপ্লেক্স ইউনিট ছিল, যেখানে কাঠের সিঁড়ি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    এ ঘটনায় কয়েকজন ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে গেট তালাবদ্ধ থাকায় সিঁড়িতে আটকে পড়েন। ফলে ধোঁয়ার মধ্যে তারা বের হতে পারেননি।

    ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ঘরের ভেতরে বিপুল পরিমাণ আসবাব থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • শরণখোলায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    শরণখোলায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    এবিএনএ,শরণখোলা: বাগেরহাটের শরণখোলায় খালে ডুবে লাবিব (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু লাবিব শরণখোলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের পুত্র।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারী) দুপুরের দিকে শিশু লাবিব সবার অলক্ষ্যে উত্তর কদমতলা গ্রামের বাড়ীর সামনের খালে পড়ে ডুবে যায়। প্রতিবেশীরা খালে শিশুটির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। পরে স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ তাসনুভা আলম বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।