Tag: দুদক

  • দুদকে নতুন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসাইন

    দুদকে নতুন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসাইন

    এবিএনএ: বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দায়িত্ব পেলেন বিচার বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (Anti-Corruption Commission) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে Mohammad Ali Hossain-কে।

    সোমবার (৯ মার্চ) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে Ministry of Public Administration। সরকারি ওই আদেশে বলা হয়েছে, আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনকে দুদকের মহাপরিচালক (লিগ্যাল) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার চাকরি সাময়িকভাবে Cabinet Division-এ ন্যস্ত করা হয়েছে।

    দুদকের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা, মামলা সংক্রান্ত পরামর্শ ও দুর্নীতি বিরোধী তদন্তের আইনি দিক তদারকিতে মহাপরিচালক (লিগ্যাল) পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    প্রশাসন সূত্র বলছে, বিচার বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং আইন বিষয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর তিনি কমিশনের আইনি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • এনএসআইয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

    এনএসআইয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

    এবিএনএ: জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই)-এর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন তিনজন অতিরিক্ত পরিচালক, ছয়জন যুগ্ম পরিচালকসহ মোট ১৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তা।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য দুদকের ১৩ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করতেই এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

    যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, এম এস কে শাহীন ও মোহাম্মদ জহীর উদ্দিন। পাশাপাশি যুগ্ম পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, জি এম রাসেল রানা, এফ এম আকবর হোসেন, মো. নাজমুল হক, বদরুল আহমেদ ও শেখ শাফিনুল হকও তালিকাভুক্ত রয়েছেন।

    এছাড়া উপপরিচালক পদমর্যাদার কামরুল হাসান, আমিনুল হক, শেখ খাইরুল বাসার ও জহরলাল জয়ধরের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ ও অর্থ কেলেঙ্কারি: তদন্তে নামছে দুদক

    রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ ও অর্থ কেলেঙ্কারি: তদন্তে নামছে দুদক

    এবিএনএ:  বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিয়োগ প্রক্রিয়া, টেন্ডার এবং সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারি মালামাল অবৈধভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অনুসন্ধান করবে দুদক।

    দুদক সূত্র বলছে, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • রিমান্ডে সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ: আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি

    রিমান্ডে সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ: আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি

    এবিএনএ:  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে দুর্নীতির মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর পর তাঁকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    আদালত প্রাঙ্গণে দুপুরে হাজির হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে হেলমেট পরিয়ে আদালতের এজলাসে নেওয়া হলে প্রায় ৫০ মিনিট তিনি নীরবভাবে বসে থাকেন। বেলা ২টা ৫২ মিনিটে শুনানি শুরু হয়।

    দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম অভিযোগ করেন, সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট নির্মাণে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া ঠিকাদারকে আইনবহির্ভূতভাবে ঋণ দেওয়া এবং ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বসে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

    আদালতে নিজের বক্তব্যে কলিমুল্লাহ জানান, এসব অনিয়ম আগের উপাচার্যের আমল থেকে শুরু হয়, তিনি শুধু কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

    আদালত তাঁর বক্তব্য শোনার পর মন্তব্য করেন, দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। পরবর্তীতে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে দুদককে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

    প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে কলিমুল্লাহ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। দুদক যেন কার্যকরভাবে কাজ করে।” বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

    গত জুনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলাতেই তিনি এখন রিমান্ডে রয়েছেন।

  • “দীপু মনির অনৈতিক আবদার না মানায় আমি অপবাদের শিকার: আদালতে কলিমউল্লাহর বিস্ফোরক বক্তব্য”

    “দীপু মনির অনৈতিক আবদার না মানায় আমি অপবাদের শিকার: আদালতে কলিমউল্লাহর বিস্ফোরক বক্তব্য”

    এবিএনএ:  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ আদালতে অভিযোগ করেছেন, “দীপু মনি তার অনৈতিক আবদার পূরণ না করায় আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো হয়েছে।”

    বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে জামিন শুনানির সময় তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে, জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শাহনাজ আক্তার। তবে দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি জামিনের বিরোধিতা করেন।

    শুনানিতে কলিমউল্লাহ বলেন, “আমি প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেছি। ঢাকায় বসে অফিস করলেও সব দায়িত্ব পালন করেছি। আমি দীপু মনির অন্যায় আবদারে সাড়া দিইনি, তাই তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব অপবাদ ছড়িয়েছেন।”

    বিচারক তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কয় সালে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন?” উত্তরে কলিমউল্লাহ জানান, “২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার আমাকে নিয়োগ দেয়।”

    বিচারক তখন বলেন, “১৩৫২ দিনের মধ্যে আপনি ১১১৫ দিন ঢাকায় ছিলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?” জবাবে তিনি বলেন, “রাতের বেলা টকশো করতাম, দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতাম।”

    এ সময় আদালত জানতে চান, “উন্নয়ন খাতে কোনো টাকা পেয়েছেন কি?” উত্তরে তিনি বলেন, “আমার আগের উপাচার্যের সময় ৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প চলছিল, আমি দায়িত্ব নিয়ে তা চালিয়ে গেছি।”

    আদালতে কলিমউল্লাহ আরও জানান, “আমাকে কোনো চিঠি বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। সকালবেলা পুলিশ বাসা থেকে ধরে এনেছে। আমি নিজেই এক পোশাকে আদালতে এসেছি।”

    বিচারক মন্তব্য করেন, “দুনিয়া থেকে বিদায়ের সময় বা জেলে যাওয়ার সময় কেউ সঙ্গে যায় না। দুর্নীতিবাজরা কবরেও একা, জেলেও একা। আপনি কী করেছেন, তা আপনি এবং আল্লাহ জানেন। তদন্ত হলে সব পরিষ্কার হবে।”

    শুনানি শেষে আদালত কলিমউল্লাহকে হাজতখানায় পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত ১৮ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

  • অবৈধ সম্পদের অভিযোগে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা!

    অবৈধ সম্পদের অভিযোগে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা!

    এবিএনএ:  অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রবিবার এই মামলাগুলো দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

    দুদকের দায়ের করা প্রথম মামলায় অভিযোগ রয়েছে, শেখ আব্দুল হান্নান নিজের বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনও পাওয়া গেছে, যা মানি লন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে।

    এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি অজানা উৎস থেকে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য দুদক পেয়েছে।

    এই মামলায় তাহমিদাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে অবৈধ সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়তা করার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

    এ ব্যাপারে দুদক জানিয়েছে, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ বিবরণীতে গরমিলের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

  • দুদকের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোহাম্মদ খালেদ রহীম

    দুদকের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোহাম্মদ খালেদ রহীম

    এবিএনএ:  দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে মোহাম্মদ খালেদ রহীম দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    দুদকের বর্তমান সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন সম্প্রতি অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ায় শূন্য পদে খালেদ রহীমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের ঘোষণা আসে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে।

    দুদকে নতুন সচিবের দায়িত্ব পেয়ে মোহাম্মদ খালেদ রহীম এখন দুর্নীতি প্রতিরোধ, তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রমে প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেবেন।

    সরকারি সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে তার অভিজ্ঞতা কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।


    👉 এই পদে নতুন নেতৃত্বের আগমনে দুদকের কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকারি মহল।

  • তারেক-জুবাইদার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

    তারেক-জুবাইদার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

    এবিএনএ:  দুর্নীতির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া বিচারিক আদালতের রায় ‘নিরপেক্ষ হয়নি’—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ থেকে শুরু করে রায় ঘোষণার প্রক্রিয়ায় আইনগত বেশ কিছু অসঙ্গতি ও ব্যত্যয় ঘটেছে, যা সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক বেঞ্চ গত ২৮ মে রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১৪ জুলাই) ওই রায়ের ৫২ পৃষ্ঠার অনুলিপি প্রকাশিত হয়, যেখানে আদালত উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুই মাস চার দিনে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আট দিনের মধ্যে রায় প্রদান বিচারিক স্বাভাবিকতা বহির্ভূত।

    রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ডা. জুবাইদা রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ প্রদান করা হয়নি, যা দুদক আইনের ২৬(১) ধারা অনুযায়ী অবশ্য পালনীয় ছিল। এই ত্রুটির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দেয়া সাজা বাতিলযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

    রায়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনই শুধু জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিলেন এবং কেউই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো তথ্য দেননি।

    আদালত আরও বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট না হওয়ায় এবং বিচারিক ত্রুটির কারণে এমনকি আপিল না করেও তারেক রহমানের সাজা বাতিলযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই তিনি দুই ধারায় মোট নয় বছরের সাজা থেকে খালাস পান।

    এই রায়ে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা আদালতে বারবার বলেছি এই মামলার বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দ্রুত সাক্ষ্য ও সাজা দিয়ে প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা হয়েছে।”

    ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুদক রাজধানীর কাফরুল থানায় এই মামলাটি দায়ের করে। মামলায় বলা হয়, তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী এবং শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তথ্য গোপন করেছেন। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট এই মামলার রায়ে তাদের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

    দীর্ঘ প্রবাস শেষে ডা. জুবাইদা রহমান চলতি বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন। এরপর আপিল দায়ের করলে হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং জরিমানা স্থগিত করেন। রায় প্রকাশের মাধ্যমে এখন মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • দুর্নীতির তদন্তে সাবেক মন্ত্রী গাজীর কোটি টাকার সম্পদ ও শেয়ার অবরুদ্ধ

    দুর্নীতির তদন্তে সাবেক মন্ত্রী গাজীর কোটি টাকার সম্পদ ও শেয়ার অবরুদ্ধ

    এবিএনএ:  সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিপুল সম্পদ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ প্রদান করেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ১২টি কোম্পানির শেয়ার, নয়টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি অবরুদ্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে।

    দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকার আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ লুকানোর কিংবা অন্যের নামে হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। তদন্ত চলমান অবস্থায় এসব সম্পদ স্থানান্তর বন্ধ করতে অবরুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

    আদালত মোট ২৪ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশ দেন। একইসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশে যাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যাতে তিনি তদন্ত চলাকালে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলমান তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে এবং প্রয়োজনে সম্পদের পরিমাণ ও অবরুদ্ধের পরিধি বাড়ানো হতে পারে।

    এ ঘটনায় রাজনীতিসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার তদন্ত ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

  • ২৯০ কোটি টাকা রক্ষায় বিটিসিএল নিয়ে দুদকের দারস্থ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

    ২৯০ কোটি টাকা রক্ষায় বিটিসিএল নিয়ে দুদকের দারস্থ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

    এবিএনএ:  বিটিসিএলের ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনিয়ম ও ২৯০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অপচয় ঠেকাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

    সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিটিসিএলের ফাইভজি প্রস্তুতি প্রকল্পে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন।

    ফয়েজ বলেন, “বিটিসিএল বর্তমানে যেই ফাইবার প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, সেটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নেওয়া হয় এবং সেই সময়েই টেন্ডার ও অফেরতযোগ্য এলসি প্রদান করা হয়। এতে ২৯০ কোটি টাকা পরিশোধ হয়েছে, অথচ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়নি।”

    তিনি জানান, বিটিসিএলের প্রতিযোগীরা ইতিমধ্যেই তাদের নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করে ফেলেছে, অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে পিছিয়ে আছে। এর ফলে বিটিসিএল দ্রুত বাজার থেকে ছিটকে পড়তে পারে।

    বিশেষ সহকারী বলেন, “বর্তমানে দেশের ইন্টারনেট চাহিদা প্রতি বছর গড়ে ৪৫% হারে বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২০০ টেরাবাইট ছাড়াবে। অথচ বিটিসিএলের বর্তমান সক্ষমতা জেলা পর্যায়ে মাত্র ১ জিবিপিএস। এমন গতিতে দেশের ডিজিটাল কাঠামো টিকবে না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “বুয়েটের গবেষণা অনুযায়ী প্রকল্পে ভুল তথ্য ও প্রযুক্তিগত ঘাটতি ছিল। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসার আগেই এর এলসি পরিশোধ হয়ে গেছে। সঠিক ইকুইপমেন্ট না এলে টাকা ও সময় উভয়ই নষ্ট হবে।”

    তৈয়্যব আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি এবং একটি চিঠিতে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করেছি। প্রস্তাব দিয়েছি, একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পের ইকুইপমেন্ট যাচাই করা হোক। যাতে টাকাও রক্ষা পায়, বিটিসিএলও টিকে থাকে।”

    তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে তাকে ও তার দপ্তরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    ফয়েজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের কোনো দুর্নীতিতে জড়িত নয়। সব কার্যক্রমই হয়েছে আগের সরকারের সময়। আমরা শুধু প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।”

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি প্রকল্পটি স্থগিত থাকে, তাহলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনর্থক হয়ে যাবে এবং বিটিসিএলের বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।