Tag: তেলের দাম

  • উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ইরান। লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

    তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রণালিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান।

    ইরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান।

    তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    এর আগে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত বন্ধ হওয়াকে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

    গত ৭ এপ্রিল ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় তখন প্রণালিটি কার্যত সীমিত রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পরই প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

    বাণিজ্যপথ বন্ধের হুমকি

    বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

    তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের পরই এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজে বাধা দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

    তেলের বাজারে প্রভাব

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

    বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে।

    ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সরকার কর কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

  • তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    এবিএনএ: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

    সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে পেট্রলের শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায় এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ভোক্তা নাকি কোম্পানি—কে বেশি উপকৃত?

    এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে দেশে জ্বালানির দাম স্থির রাখা হয়েছিল।

    এর ফলে এসব কোম্পানি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। শুল্ক কমানোর মাধ্যমে সেই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    পটভূমি: কেন এই সিদ্ধান্ত

    গত বছর সরকার জ্বালানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো থেকে বিরত থাকতে সরকার দাম বাড়ায়নি।

    ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, সরকারের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হলো জ্বালানির দাম বাড়ানো, অন্যটি হলো আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে জনগণকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরবরাহ পরিস্থিতি

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস

    ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

    সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাস কোনো সংকট ছাড়াই সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আপাতত বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে জ্বালানির দাম।

  • যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্য বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

    জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সম্ভাবনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক লাফে ১২.৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১২.৬৬ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৫৬ ডলারে।

    দিনের লেনদেন চলাকালে এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা একদিনে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। অতীতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।

    সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক সরবরাহ ও ছয় মাস পরের চুক্তিমূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতির ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়, যা সাধারণত বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী কয়েক মাস উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব থাকতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩.২২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিকল্প সরবরাহের সুযোগ খুবই সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে কিছু তেল ছাড়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প হবে।

    উৎপাদন কমাচ্ছে তেল উৎপাদক দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদক দেশও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়েছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশেও মজুদ কমে আসায় উৎপাদন সীমিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

    কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও উৎপাদন কমিয়ে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। বাহরাইনের একটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলার পর জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

  • মাদুরো গ্রেপ্তারের খবরে তেলবাজারে ধস, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকলেন সোনার দিকে

    মাদুরো গ্রেপ্তারের খবরে তেলবাজারে ধস, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকলেন সোনার দিকে

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্পষ্ট পতন দেখা গেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

    খবরে বলা হয়, গত শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই তেলবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা দ্রুত কেটে যায়।

    জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বিশ্বের অন্যান্য উৎপাদক দেশগুলো থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে সেই ঘাটতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব। ফলে বাজারে আতঙ্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তেলের দাম কমতির দিকে গেছে।

    তবে তেলের দরপতনের বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনা ও রুপাসহ মূল্যবান ধাতুর দাম। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে এসব ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ায় এর দাম একদিনেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রুপার দামও প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • আগস্টেও জ্বালানি তেলের দামে কোনও পরিবর্তন নেই, বহাল থাকছে পূর্বের মূল্য

    আগস্টেও জ্বালানি তেলের দামে কোনও পরিবর্তন নেই, বহাল থাকছে পূর্বের মূল্য

    এবিএনএ:  চলতি আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য আগের মতোই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগস্ট মাসেও প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি হবে ১২২ টাকা দরে, পেট্রোল ১১৮ টাকা, ডিজেল ১০২ টাকা এবং কেরোসিন ১১৪ টাকায়। এই দাম ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এবং মাসজুড়েই তা বহাল থাকবে।

    মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্যের হিসাব অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগেও জুলাই মাসে তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে সরকার স্বয়ংক্রিয় দামে নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে, যার আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।

    এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের সঙ্গতি রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

  • তেল কমাতে চায় সরকার, আপত্তি জানালেন ব্যবসায়ীরা — নতুন করে বৈঠক শনিবার

    তেল কমাতে চায় সরকার, আপত্তি জানালেন ব্যবসায়ীরা — নতুন করে বৈঠক শনিবার

    এবিএনএ:  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা হলেও, তেল ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা প্রস্তাবিত মূল্য হ্রাসকে অবাস্তব ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন।

    মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, ট্যারিফ কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ও দেশের প্রধান ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি, মেঘনা, টি কে ও বসুন্ধরা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে উপস্থাপিত ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ছিল যথাক্রমে ১০৭৯ ও ১০১৭ ডলার। যা ১৫ এপ্রিলের তুলনায় সয়াবিনে ০.৭% বৃদ্ধি ও পাম অয়েলে ৩% হ্রাস পেয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতি লিটার পাম অয়েলে ১৯ টাকা এবং সয়াবিনে ১ টাকা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, কমিশনের এই বিশ্লেষণ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম আরও বেশি বলে তারা জানান। এছাড়া, কমিশনের হিসাবে ভ্যাট ও আমদানি ব্যয় যুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

    মেঘনা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের হিসাবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ১১০০ ডলারেরও বেশি। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দাম কমানো সম্ভব নয়।’

    সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার মূল্য নতুন করে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ভিত্তিতে ২৭ জুলাই আবার বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    সরকার ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে চাইলেও, ব্যবসায়ীরা বলছেন— আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দাম কমানো সম্ভব নয়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য তেলের মূল্য কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত রয়ে গেছে।