Tag: তৃণমূল রাজনীতি

  • ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পবিত্র ঈদুল ফিতর দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর জন্য এবারের ঈদ ছিল বিষণ্নতায় ঘেরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও কারাবাসের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঈদের সময় অন্তত দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে জানান তারা।

    মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জানা গেছে, অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেননি। কোথাও সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা সবার মধ্যে পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, চাল ও নগদ সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না এবং প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

    এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ঈদের দিন তো দূরের কথা, এর আগেও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মীদের খোঁজখবর নেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, তারা কোনো পদ বা সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দলের আদর্শে বিশ্বাস করেই রাজপথে সক্রিয় থাকেন। কিন্তু ঈদের মতো সময়ে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

    তাদের আরও অভিযোগ, নেতারা নিজেদের প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশার দিকে নজর দিচ্ছেন না।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এমন অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেত্রী নাইনুর লিপি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল অনুকূল অবস্থানে থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হচ্ছে না। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মোংলা পৌর যুবদলের এক নেতা জানান, দুর্দিনে কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও দলীয় পর্যায়ে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন।

    এদিকে, বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সহায়তা কারা পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    তবে একই এলাকায় ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

    সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ মোংলার তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকল। এখন দেখার বিষয়, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেন কি না।

  • সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে ভাঙনের সুর: স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৃণমূলে অস্থিরতা

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে ভাঙনের সুর: স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৃণমূলে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) বাড়ছে অস্বস্তি। স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, যার প্রভাব পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর। একদিকে ভোটের মাঠে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন দলেরই বিদ্রোহী নেতারা, অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন কর্মীরা।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অন্তত ৫২টি আসনে বিএনপির ৭১ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের অনেকেই বর্তমানে বা অতীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে কেউ কেউ বাদ পড়লেও বেশ কয়েকটি আসনে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন। ইতোমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নয়জনকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠ ছাড়তে নারাজ অনেক নেতা।

    স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি ছয়টি আসনে ঘোষিত বিকল্প প্রার্থী নিয়েও বিব্রত অবস্থায় রয়েছে দল। চূড়ান্তভাবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এই অনিশ্চয়তায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভক্তি স্পষ্ট হচ্ছে। দলীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যশোরের কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোথাও বিকল্প প্রার্থীকে ‘শেষ ভরসা’ হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা, আবার কোথাও চরম আপত্তি জানানো হচ্ছে। এতে সংগঠনের ভেতরে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে।

    এদিকে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে যেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি, সেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতায় বিপাকে পড়েছেন জোটের প্রার্থীরা। জোট নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই বিদ্রোহ নির্বাচনী হিসাবকে এলোমেলো করে দিতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আনা হয়েছে।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বোঝাতে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি বৈঠকে বসবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ অনড় থাকলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি।

    নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ইস্যু সামলানোই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ।

  • আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মুখে রাজপথে টিকে থাকা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বাগেরহাটে সদ্য দলবদল করা সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে এমন সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগেও যারা আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ও সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই এখন ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে নির্বাচনের মাঠে। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গ।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক এবং অতীতে চিতলমারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। একসময় জাতীয় পার্টি, পরে আওয়ামী লীগ এবং সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

    এই দুই প্রার্থীর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

    ফেসবুকে চিতলমারীর এক বাসিন্দা লেখেন, “১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ আসা লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা চরম হতাশ।” একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আরও অনেকে, কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও তুলেছেন।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছু করার নেই। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছি।

    জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এটি মেনে নিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা আজ অবহেলিত।

    অন্যদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত কপিল কৃষ্ণ মন্ডল দাবি করেন, তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    সোমনাথ দে বলেন, যারা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তারাই তার মনোনয়নে ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা সাবেক সভাপতি এম এ সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—দাবি না মানা হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।