Tag: তাপদাহ

  • হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    এবিএনএ: তীব্র তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়েও বৃষ্টির দেখা না মেলায় গরমের তীব্রতা বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। জলসমৃদ্ধ খাবার ও ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

    জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি

    গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেশি করে পানিযুক্ত ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন—

    • তরমুজে প্রচুর পানি ও ভিটামিন থাকায় শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর
    • শসা উচ্চ জলীয় উপাদান ও ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
    • কমলা ও লেবু শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং ভিটামিন সি সরবরাহ করে
    • বিভিন্ন শাকসবজি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক
    • স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

    প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের উৎস

    • ডাবের পানি শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে
    • দই বা ঘোল অন্ত্র ঠান্ডা রাখে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে
    • লেবু, লবণ ও চিনি মিশ্রিত শরবত ঘামের মাধ্যমে হারানো লবণ-পানি পূরণ করে
    • পুদিনা পাতা শরীরে শীতলতা এনে সতেজ অনুভূতি দেয়

    যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

    গরমে কিছু খাবার হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন—

    • ডুবো তেলে ভাজা খাবার
    • অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
    • বেশি তৈলাক্ত খাবার
    • ভারী ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার

    এসব খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হিট স্ট্রেস তৈরি করতে পারে।

    হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বাড়তি পরামর্শ

    • একবারে বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন
    • খাদ্যতালিকায় কাঁচা ও হালকা খাবার রাখুন
    • ঘোল বা লাচ্ছিতে জিরা ব্যবহার করলে হজমে সহায়ক ও শরীর ঠান্ডা থাকে
    • রোদে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
    • অতিরিক্ত গরমে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

    তীব্র গরমে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শরীরের যত্ন নিলে গরমের মৌসুমেও সুস্থ থাকা সম্ভব।

  • দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    এবিএনএ: প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেই খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, অফিসকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। কখনো সকালে, আবার কখনো মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৪৩ মেগাওয়াট, তখন ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

    এর আগে বুধবার দুপুরে ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    খুলনা নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মাহাফুজ বলেন, অফিস চলাকালে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে এসিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতর প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে গরম, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান খাতুন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা থাকে, আবার দীর্ঘ সময় থাকে না। এতে গরমে অসুস্থতা বাড়ছে এবং ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি। চলমান তাপদাহের কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। শুক্রবারও তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

  • তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি এলাকাতেও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকাসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এসব অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিলেট বিভাগের কিছু এলাকা এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।