Tag: তাওহীদ হৃদয়

  • সাইফ–হৃদয়ের লড়াই বৃথা, শেষ দিকে ব্যাটিং ধসে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের হতাশাজনক হার

    সাইফ–হৃদয়ের লড়াই বৃথা, শেষ দিকে ব্যাটিং ধসে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের হতাশাজনক হার

    এবিএনএ: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের দোরগোড়ায় গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ২৬ রানের হার মেনেছে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের দুটি দায়িত্বশীল ফিফটি ম্যাচে আশা জাগালেও শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ছন্দ হারায় স্বাগতিকরা।

    এর আগে ব্যাট করতে নেমে হেনরি নিকলস ও ডিন ফক্সক্রফটের অর্ধশতকে ভর করে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

    এরপর সাইফ হাসান ও লিটন দাস জুটি গড়ে ইনিংস মেরামত করেন। তাদের ৯৩ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। সাইফ ফিফটি স্পর্শ করলেও কিছুটা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আউট হন লিটন। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।

    দুজনের ৫২ রানের জুটি ভাঙতেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। ৪১তম ওভারে আফিফ হোসেনকে ফেরান ব্লেয়ার টিকনার। তখনও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল—৫৭ বলে দরকার ছিল ৬৪ রান, হাতে পাঁচ উইকেট।

    কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় ধস। টিকনারের আক্রমণে দ্রুত বিদায় নেন মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। শেষ দিকে চার ওভারে ৩৫ রান দরকার থাকলেও চাপ সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ।

    শেষ জুটিতে তাওহীদ হৃদয় ছক্কা মেরে ৫৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। তবে ম্যাচ শেষ করার আগেই ৪৯তম ওভারে ক্যাচ হয়ে ফিরতে হয় তাকে। ৬০ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা।

    বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩৭ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ২২১ রানে অলআউট হয়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্লেয়ার টিকনার ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। স্মিথ তিন উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

  • রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের তুলনামূলক স্বল্প রানের ২০৭ রানের সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে পরিণত হয়। রিশাদের অসাধারণ বোলিংয়ে ৭৪ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

    বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন রিশাদ হোসেন। তিনি ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচে তুলে নেন ৬টি উইকেট—যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০১৩ সালে।

    শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার ফিরলে চাপে পড়ে দল। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭১ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি আনে। শান্ত ৬৩ বলে ৩২ রান ও হৃদয় ৯০ বলে ৫১ রানের ধীর ইনিংস খেলেন।

    অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলের রান দুইশ’র ঘরে তোলেন। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন—মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে ইনিংসে প্রাণ সঞ্চার করেন। ফলে দুই বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ২০৭ রানে।

    জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। তবে রিশাদের স্পিন জাদুতে মাত্র ৯২ রানেই পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। তিনি একে একে ব্রেন্ডন কিং, কেসি কার্টি, শেরফান রাদারফোর্ডসহ শীর্ষ ব্যাটারদের বিদায় করেন। কিং সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্যরা ছিলেন পুরোপুরি অসহায়।

    মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান একে একে শেষ দিকের উইকেটগুলো তুলে নিলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিশাদ হোসেন।

  • রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়: দুইশ’র পরেই থেমে গেল বাংলাদেশের ইনিংস

    রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়: দুইশ’র পরেই থেমে গেল বাংলাদেশের ইনিংস

    এবিএনএ: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০১ রানের একমাত্র জুটি ছাড়া বাকিরা ছিলেন ব্যর্থ। শেষ পর্যন্ত দুইশ’র ঘর পেরিয়ে মাত্র ২১১ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।

    ইনিংসের শুরুটা একেবারেই মন্থর ছিল। ওপেনার তানজিদ তামিম মাত্র ১০ রান করে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের হাতে। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত (২) একইভাবে ফিরেন ওমরজাইয়ের বলে। কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেও অভিষিক্ত সাইফ হাসান ২৬ রানের ইনিংসে থামেন সীমানায় ক্যাচ দিয়ে।

    চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে দলের হাল ধরেন। তাদের ব্যাটে আসে ১০১ রানের দারুণ জুটি। হৃদয় ৮৫ বল খেলে ৫৬ রান করেন, মিরাজ খেলেন ৮৭ বলে ৬০ রানের ইনিংস। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগলেও পরে রশিদ খানের ঘূর্ণিতে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে পুরো দল।

    রশিদের নিখুঁত গুগলিতে একে একে আউট হন মিরাজ, জাকের আলী (১০) ও নুরুল হাসান সোহান। ওমরজাই তিন উইকেট তুলে নিয়ে শুরুতে ধাক্কা দেন, আর গজনফর ইনিংসের শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন ৪৫তম ওভারে।

    বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচে সর্বাধিক রান আসে মিরাজ (৬০) ও হৃদয়ের (৫৬) ব্যাট থেকে। বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের বেশি রান করতে পারেননি। ফলে প্রথম ম্যাচেই চাপে পড়ে টাইগাররা।

  • হোয়াইটওয়াশ এড়াতে গর্জে উঠল টাইগাররা, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঝলমলে ব্যাটিংয়ে ১৯৬ রান

    হোয়াইটওয়াশ এড়াতে গর্জে উঠল টাইগাররা, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঝলমলে ব্যাটিংয়ে ১৯৬ রান

    এবিএনএ:

    পাকিস্তানের মাঠে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে আজ মরিয়া হয়ে নামে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়েছে টাইগাররা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই দেখিয়েছে আক্রমণাত্মক মনোভাব।

    প্রথম দুই ম্যাচে হেরে সিরিজ আগেই হারিয়েছে লাল-সবুজের দল। আজকের ম্যাচ ছিল সম্মান রক্ষার লড়াই। এমন পরিস্থিতিতে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। পাওয়ার প্লেতে আসে ৫৩ রান। ইমন মাত্র ২৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, এবং একাদশ ওভারের শুরুতে বিশাল ছক্কায় দলীয় স্কোর নিয়ে যান তিন অঙ্কে।

    উদ্বোধনী জুটিতে তামিম-ইমন যোগ করেন ১১০ রান। এরপর তামিম ৩২ বলে ৪২ রান করে আউট হলে ভাঙে প্রথম উইকেট। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইমনও ফিরে যান শাদাব খানের বলে ক্যাচ দিয়ে। তিনি করেন ৩৪ বলে ৬৬ রান, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।

    তৃতীয় উইকেটে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তবে অধিনায়ক লিটন ১৮ বলে ২২ রান করে বোল্ড হন হাসান আলীর বলে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও, ব্যাটাররা থামেননি।

    শেষ দিকে আফিফ হোসেন, হৃদয় ও জাকির হাসানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১৯৬ রানের সংগ্রহে। প্রতিপক্ষের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য এখন ১৯৭।

     

    টাইগারদের এ পারফরম্যান্স দলীয় আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি, ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আশার আলো জ্বালিয়েছে। এখন দেখার পালা, এই সংগ্রহ রক্ষা করতে কতটা সফল হয় বাংলাদেশের বোলাররা।