Tag: তাইওয়ান

  • তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

    তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ: তাইওয়ানের কাছে বিপুল অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের এক সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল চীন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০টি কোম্পানি ও ১০ জন শীর্ষ নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

    চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে দ্বীপটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস এবং বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস ইউনিট।

    এছাড়া আন্দুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা পামার লাকিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন নির্বাহীকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছে চীন। এসব ব্যক্তির চীনে প্রবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশটিতে থাকা তাদের সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত চীনের বিদেশি নিষেধাজ্ঞা বিরোধী আইনের পরিপন্থী। তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে জড়িত মার্কিন কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোর মধ্যেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদন দেয়। আটটি পৃথক চুক্তিতে এর মোট মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা তাইপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহ বলে জানানো হয়েছে।

    এই প্যাকেজে রয়েছে স্বচালিত হাউইটজার, হিমার্স রকেট লঞ্চার, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম, লয়টারিং ড্রোন ও অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানায়, তাইওয়ান ইস্যু দেশটির মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি অতিক্রম অযোগ্য লাল রেখা। এই বিষয়ে উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের সঙ্গে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন, বিনিয়োগ কিংবা সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিং ওয়াশিংটনকে ‘ওয়ান-চায়না নীতি’ মেনে চলা এবং তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে—এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • টাইফুন রাগাসার তাণ্ডব: হংকং-তাইওয়ানে ব্যাপক বিপর্যয়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

    টাইফুন রাগাসার তাণ্ডব: হংকং-তাইওয়ানে ব্যাপক বিপর্যয়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

    এবিএনএ: সুপার টাইফুন রাগাসার তাণ্ডবে হংকং ও তাইওয়ান পরিণত হয়েছে দুর্যোগকবলিত এলাকায়। প্রবল ঝড়ো বাতাস, টানা বর্ষণ আর ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    তাইওয়ানে একটি পুরনো লেকের বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১৮ জন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১২৪ জন। ফিলিপাইনসের উত্তরাঞ্চলেও ঝড়ের প্রভাবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    হংকংয়ে টাইফুনের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ঢেউয়ের আঘাতে একটি বিলাসবহুল হোটেলের কাচ ভেঙে ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয়েছে টাইফুন সতর্কতার সর্বোচ্চ স্তর। ক্যাসিনো শহর ম্যাকাওয়েও নেমে এসেছে বন্যার মতো পানি, নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নিচু এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ।

    চীনের জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দুপুর থেকে রাতের মধ্যে রাগাসা ওয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই ও ঝানজিয়াং উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে অন্তত ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দশটির বেশি শহরে শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদরা টাইফুন রাগাসাকে ‘ঝড়ের রাজা’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি ও অতিবৃষ্টি হতে পারে, যা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।