Tag: তথ্যপ্রযুক্তি

  • এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এবিএনএ: কিশোর ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাট সহকারীর সঙ্গে কী বিষয়ে কথা বলছে—এখন তা জানার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে নতুন নজরদারি সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। তবে এই পদক্ষেপ ঘিরে গোপনীয়তা ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ‘ইনসাইটস’ ট্যাবে দেখা যাবে আলোচনার ধরন

    মেটা জানিয়েছে, তাদের টিন অ্যাকাউন্ট তদারকি ব্যবস্থায় ‘ইনসাইটস’ নামে একটি নতুন বিভাগ যুক্ত করা হচ্ছে। এখানে অভিভাবকেরা সরাসরি বার্তা না দেখে কিশোরদের এআই চ্যাটের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাবেন। আলোচনাগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেখানো হবে।

    উদাহরণ হিসেবে পড়াশোনা, বিনোদন, লেখালেখি, স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা—এ ধরনের বড় ক্যাটাগরি প্রদর্শিত হবে। অভিভাবকেরা চাইলে নির্দিষ্ট বিভাগে ক্লিক করে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দেখতে পারবেন। তবে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কথোপকথনের টেক্সট দেখানো হবে না।

    সীমিত তথ্য, সাত দিনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ

    মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো সর্বশেষ সাত দিনের কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এতে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগের অধীনে শারীরিক ফিটনেস, অসুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ থাকতে পারে। এর মাধ্যমে সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাবেন অভিভাবকেরা।

    শিশু নিরাপত্তা বিতর্কের মাঝেই নতুন উদ্যোগ

    শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকায় এই ফিচার চালু করছে মেটা। সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত দুটি মামলায় আইনি চাপে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ ছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো আসক্তিমূলকভাবে ডিজাইন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আদালতে প্রকাশিত কিছু নথিতে আরও উঠে আসে, এআইচালিত ভার্চ্যুয়াল ক্যারেক্টার কখনো অনুপযুক্ত বা যৌনধর্মী কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি সম্পর্কে মেটার নেতৃত্ব অবগত ছিল। এরপর থেকেই কিশোরদের জন্য এসব ফিচারে ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

    আগের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার

    গত বছরের আগস্টে কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। পরে অক্টোবরে অভিভাবকদের জন্য নতুন কিছু টুল যোগ করা হয়—যেমন ব্যক্তিগত এআই চ্যাট বন্ধ করা বা নির্দিষ্ট ক্যারেক্টার ব্লক করা। চলতি বছরের শুরুতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং বর্তমানে কিশোরদের জন্য কিছু এআই ক্যারেক্টার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সমালোচনাও রয়েছে

    তবে এই নতুন ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছেন না শিশু অধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বাড়ানোর মূল কাজ যথেষ্টভাবে হচ্ছে না। ফলে ফিচারটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

    মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের নিরাপদ এআই ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে এবং অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনাও তৈরি করছে।

  • ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া সোনালি রঙের স্মার্টফোন ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একাধিকবার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হলেও ফোনটির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব এখনো সামনে আসেনি। ফলে প্রযুক্তি মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই ফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না।

    ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এটি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। কিন্তু সেই সময় পার হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে মুক্তির সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে শুধু লেখা হয়—‘চলতি বছরের শেষ দিকে’।

    অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসবে। তবে ২০২৬ সাল শুরু হলেও এখনো নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। এমনকি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা সময়টি কোন বছরের জন্য, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

    সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—ফোনটি বাজারে না এলেও আগাম বুকিং বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ পরিশোধের পরও ক্রেতারা এখনো ফোনটি পাননি, এমনকি নির্দিষ্ট কোনো মুক্তির তারিখও জানানো হয়নি।

    ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প মোবাইলের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার কারণে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তখনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা কম।

    শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হবে। তবে পরে সেই অবস্থান থেকেও সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইন নিয়ে জটিলতার কারণেই প্রকল্পটি পিছিয়ে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীদের একাংশ দুর্বল সংযোগ, সীমিত কাভারেজ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শুরু থেকেই এই ফোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ ছিল। তার মতে, একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল।

    ২০২৬ সালেও নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা—ফোনটি শেষ পর্যন্ত বাজারে এলেও ঘোষণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নামের সঙ্গে যুক্ত এই ‘গোল্ডেন ফোন’ এখন পর্যন্ত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ক্রেতাদের অপেক্ষা বাড়ছেই। শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তব পণ্য হবে, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।