Tag: তত্ত্বাবধায়ক সরকার

  • ঐতিহাসিক রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: ভোটের অধিকার নিশ্চিতের আশাবাদ

    ঐতিহাসিক রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: ভোটের অধিকার নিশ্চিতের আশাবাদ

    এবিএনএ: সংবিধান থেকে বাতিল হওয়া বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ পূর্বের বাতিল রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ বলে রায় দেন, ফলে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

    আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন বহু আইনজীবী, সাংবাদিক ও আগ্রহী নাগরিক। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

    তবে আদালত জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। পরবর্তী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এর ফলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

    গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ শুনানি।

    ২০১১ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পৃথক আবেদন করেছিলেন। চারটি আবেদনের যৌথ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এই যুগান্তকারী রায় দেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বুধবার আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী ২১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, আপিল বিভাগ কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং এমন একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা চান, যা দেশে গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকালীন সংকট এড়াতে সহায়তা করবে।

    তিনি প্রশ্ন রাখেন—“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে?” তবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, রায়ের পর এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হতে পারে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ন্যায়বিচার নষ্ট হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে সিস্টেম। সেই কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। জনগণের ইচ্ছাই নির্ধারণ করেছে কে প্রধান বিচারপতি ও কে সরকারপ্রধান হবেন। এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করলে বিপ্লবের জন্ম হয়। তিনি ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও আদালতে স্মরণ করিয়ে দেন।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া ও আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন জটিলতা: বিএনপি-জামায়াত ভোটে রাজি নয়

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন জটিলতা: বিএনপি-জামায়াত ভোটে রাজি নয়

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। তারা বলছে, একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উপদেষ্টা বাছাই করবে, অন্যথায় সাবেক প্রধান বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করা হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংলাপে এই মতামত দেয় দল দুটি। তবে এনসিপিসহ বেশিরভাগ দল ভোটের মাধ্যমে উপদেষ্টা নির্বাচন করতে চায়।

    কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, বিরোধী ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি মিলে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি বিভিন্ন দলের প্রস্তাবিত নামের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে উপদেষ্টা নির্বাচন করবে।

    বিএনপি এই প্রস্তাবে একমত হয়নি। তারা চায়, সর্বসম্মতিতে নির্বাচন হোক, যাতে কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সুবিধা নিতে না পারে। জামায়াতও একই যুক্তি দেখিয়ে বলে, ভোট হলে হর্স ট্রেডিংয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে যেসব দল একমত নয়, তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে যেভাবে সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, এবারও সে রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হোক।

    জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে।

    কমিশনের নতুন একটি প্রস্তাব ছিল, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন। যদিও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এই কমিটির আওতার বাইরে থাকবে।

    সবমিলিয়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও উপদেষ্টা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও পরিষ্কার সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের আপত্তির মুখে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা আপাতত অনিশ্চিত।

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নিয়োগে র‍্যাংক চয়েজ পদ্ধতির নতুন প্রস্তাব দিল ঐকমত্য কমিশন

    তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নিয়োগে র‍্যাংক চয়েজ পদ্ধতির নতুন প্রস্তাব দিল ঐকমত্য কমিশন

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে নতুন একটি পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ‘র‍্যাংক চয়েজ’ বা পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে বাছাই করার এই প্রস্তাব দেওয়া হয় রবিবার অনুষ্ঠিত সংলাপের ১১তম দিনে।

    কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানান, এর আগের সংলাপে দুটি বিকল্প প্রস্তাব ছিল। আজ তা সংশোধন করে এই নতুন পদ্ধতির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সোমবারের মধ্যে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আশাবাদী, আলোচনা শেষে চলতি জুলাই মাসেই ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন: নতুন কাঠামো কী বলছে?

    নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে ভেঙে গেলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে, সাত সদস্যের কমিটি গঠিত হবে— যেখানে থাকবেন:

    • প্রধানমন্ত্রী

    • স্পিকার

    • সংসদ উপনেতা বা চিফ হুইপ

    • বিরোধীদলীয় নেতা

    • বিরোধীদলীয় উপনেতা বা ডেপুটি স্পিকার

    • বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

    • তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধি

    যদি সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়, তাহলে উপরের তালিকার সঙ্গে যুক্ত হবেন:

    • উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যান

    • বিরোধীদলীয় ডেপুটি চেয়ারম্যান

    • উচ্চকক্ষের নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা

    • রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য

    • অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধি

    কমিটি যদি সর্বসম্মতভাবে একজনকে নির্ধারণ করতে পারে, রাষ্ট্রপতি তাকেই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন। অন্যথায়, জোটগুলোর পক্ষ থেকে মনোনীত মোট ১৪ জনের মধ্যে শুনানি ও ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন হবে।

    নির্বাচন পদ্ধতি: র‍্যাংক চয়েজ

    সরকারি দল ও প্রধান বিরোধীদল প্রত্যেকে পাঁচজন করে ১০ জনের নাম দেবে। তৃতীয় বৃহত্তম দল দুইজন করে চারজনের নাম দেবে।

    এই ১৪ প্রার্থীর নাম নিয়ে সংসদে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর—

    • সরকার বিরোধীদলের তালিকা থেকে ১ জন বাছাই করবে

    • বিরোধীদল সরকারের তালিকা থেকে ১ জন বেছে নেবে

    • উভয়পক্ষ তৃতীয় বৃহত্তম দলের তালিকা থেকে ১ জন করে বাছাই করবে

    • তৃতীয় বৃহত্তম দল সরকারের-বিরোধীদলের তালিকা থেকে ১ জন বেছে নেবে

    ফলাফলে থাকবে ৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। এই ৫ জনের মধ্য থেকে কমিটির সদস্যরা র‍্যাংক চয়েজ পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে যার সর্বোচ্চ র‍্যাংকিং থাকবে, তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে।

  • জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    এবিএনএ: জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি। তবে তারা চায় না এই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। পরিবর্তে দলটি সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে “জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪” উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতিসহ একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১১তম দিনের সংলাপ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ হয় না। ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও মূল সংবিধানে ছিল না, বরং পরে তপশিলে যুক্ত হয়। একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানকেও চতুর্থ তপশিলে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।”

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ়ভাবে চাইছে—জুলাই ঘোষণা যেন সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় জায়গা পায়। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতিমালা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

    ঘোষণাপত্র ও সংবিধান বিতর্ক
    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, “সরকার এনসিপির ইচ্ছায় বিএনপির সঙ্গে ঘোষণাপত্র নিয়ে মধ্যস্থতা করছে। কিছুদিন আগে সরকারের এক উপদেষ্টা বিএনপিকে নতুন একটি খসড়া দিয়েছে, যাতে আগের মতামতের কিছু প্রতিফলন আছে।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি ও জুলাই অভ্যুত্থান একই তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

    এদিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “এই ঘোষণাকে তপশিলে রেখে গুরুত্ব খাটো করা চলবে না। এটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকতে হবে।”

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ভিন্ন মত
    সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন দুটি প্রস্তাব উঠে আসে। একটিতে সংসদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি—তিনটি দলই জানায়, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মত দেবে।

    বিএনপি চায়, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে একটি বিকল্প হিসেবে রাখার সুযোগ রাখা হোক। জামায়াত চায়, অতীতের মতোই সাবেক প্রধান বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের ধারা থাকুক। আর এনসিপি প্রস্তাব করেছে, সংসদের উচ্চকক্ষের ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হোক।

    প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ
    কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। জামায়াত, এনসিপি ও আরও কয়েকটি দল এই প্রস্তাবে একমত। তবে বিএনপি চায়—জ্যেষ্ঠ তিন বিচারপতির মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিন। পরবর্তীতে বিএনপি প্রস্তাব করে, জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্যে থেকেই নিয়োগ দেওয়া হোক।

    কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলবে। সালাহউদ্দিন জানান, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত নেই, তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন—এটাই বিএনপির আপডেট প্রস্তাব।

  • রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    এবিএনএ: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। দলটি জানায়, বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ করেছে। তবে কিছু কিছু ইস্যুতে মতানৈক্য রয়ে গেছে, যা কমিশনের কার্যক্রমকে কিছুটা ধীর করেছে।

    রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৬টি সংস্কার কমিশনের আলোচনায় বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

    ফখরুল বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, র‍্যাব বিলুপ্তিসহ অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুদক কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে একমত হলেও একটিতে তারা আদালতের অনুমতির বিধান বহাল রাখতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন কমিশনের ২০৮ প্রস্তাবের মধ্যে ১৮৭টিতে তারা একমত, ১১টিতে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে।

    বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯ সুপারিশের মধ্যে ৬২টিতে একমত হয়ে ৯টিতে আংশিক মত দিয়েছে দলটি। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে ২৪৩ সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে একমত হয়েছে, কিন্তু ২৪টির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানিয়েছে।

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশিরভাগেই বিএনপি একমত হয়েছে। বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়ে ছাড় দিয়েছে দলটি। এমনকি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও সংসদে বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতির পদ দানের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও ঐকমত্য হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    বিএনপির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সংস্কারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, জাতীয় স্বার্থে যেসব বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়, তাতে দল আপসহীন। সেইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।