Tag: তওবা

  • কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে? জানুন সঠিক শরয়ি বিধান ও করণীয়

    কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে? জানুন সঠিক শরয়ি বিধান ও করণীয়

    এবিএনএ: ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ ইবাদত। তবে মানবজীবনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় শরিয়তে রয়েছে কিছু ছাড় এবং বিকল্প বিধানও।

    কাদের জন্য রোজা স্থগিতের সুযোগ রয়েছে

    যারা অসুস্থ, সফরে রয়েছেন, অথবা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী—যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তারা রমজানে রোজা না রেখে পরবর্তীতে তা কাজা করে নিতে পারেন।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের রোজা অন্য সময়ে পূরণ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যারা একেবারেই অক্ষম, তারা ফিদিয়া আদায় করতে পারেন।

    কাজা রোজা দ্রুত আদায়ের গুরুত্ব

    যেসব রোজা কোনো কারণে রাখা সম্ভব হয়নি, সেগুলো বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা উত্তম। কারণ, মানুষের জীবন অনিশ্চিত—অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কাজা রোজা ফেলে রাখা ঠিক নয়।

    কাজা রোজা ভেঙে গেলে কী করবেন?

    কাজা রোজা আদায়ের সময় সেটি ভেঙে ফেলা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়, যদি না কোনো বৈধ কারণ থাকে। তাই রোজা রাখার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

    • বিনা কারণে ভেঙে ফেললে:
      যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজা রোজা ভেঙে ফেলে, তবে এটি গুনাহের কাজ। এজন্য আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে এবং পুনরায় সেই রোজাটি অন্য দিনে কাজা আদায় করতে হবে।
    • ওজর বা বৈধ কারণে ভাঙলে:
      অসুস্থতা বা অন্য কোনো বৈধ কারণ থাকলে রোজা ভাঙা যাবে। সেক্ষেত্রেও পরে একটি রোজা কাজা রাখতে হবে।

    কাফফারা কি দিতে হবে?

    কাজা রোজা ভেঙে ফেললে সাধারণত কাফফারা দিতে হয় না। কাফফারা শুধুমাত্র রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—বিশেষ করে পানাহার বা দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে।

    শেষ কথা

    রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই কাজা রোজাও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আদায় করা প্রয়োজন। সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই ইবাদত পূর্ণতা পায়।

  • রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    এবিএনএ: শেষের পথে পবিত্র রমজান মাস। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের দশক—যে সময়টি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শুরু হবে ঈদুল ফিতর, আর বিদায় নেবে বরকত, রহমত ও কোরআন নাজিলের এই মহিমান্বিত মাস।

    ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই রমজানই হয়তো অনেকের জীবনের শেষ রমজান হতে পারে। তাই শেষ সময়টুকুকে অর্থবহ করে তুলতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা বাড়ানো জরুরি।

    তওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি
    মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। রমজানেও নানা ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তাই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পারো” (সুরা নূর: ৩১)।

    আরেক স্থানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্মে অবিচল থাকে, আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমাশীল (সুরা ত্বহা: ৮২)।
    গুনাহের পর দ্রুত তওবা করে নিজেকে পবিত্র করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

    রমজানের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
    রমজান ইবাদতের বিশেষ মাস হলেও নানা ব্যস্ততায় অনেকেই পূর্ণভাবে আমল করতে পারেন না। তাই এ মাসে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বাকি সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত।

    সারা বছরের জন্য নেক আমলের তাওফিক চাওয়া
    রমজান কেবল একটি মাস নয়, বরং সারা বছরের জন্য ইবাদতের প্রশিক্ষণ। রজব ও শাবান মাস থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতির পর রমজানে ইবাদতের অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস যেন সারা বছর বজায় থাকে, সে জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি।

    সদকাতুল ফিতর আদায়ের গুরুত্ব
    রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায়। এটি রোজার ত্রুটি দূর করে এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে। যারা এখনো আদায় করেননি, তারা ঈদের নামাজের আগে এটি পরিশোধ করে নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, রমজানের শেষ সময়টুকু আত্মশুদ্ধি, তওবা, দোয়া ও দানের মাধ্যমে কাটাতে পারলে তা একজন মুমিনের জন্য পরকালীন সফলতার পথ খুলে দিতে পারে।

  • ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    এবিএনএ: ভূমিকম্পকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচার, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। ভূমিকম্প তারই অন্যতম একটি নিদর্শন।

    তিনি বলেন, কোরআনে অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নবীদের অস্বীকার করেছে, দ্বীনের বিরোধিতা করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। সালেহ (আ.)-এর উম্মত যখন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন উটনিকে হত্যা করেছিল, তখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। একইভাবে লুত (আ.)-এর উম্মত সমকামিতার মতো নোংরা পাপাচারে লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদ উল্টে দেন এবং পাথর বর্ষণ করেন।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে পাপাচারের কারণে অতীতের জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধানের বিরোধী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও শাস্তিযোগ্য। অথচ আজ সেটিকে “অধিকার” বলে বৈধ করার দাবি উঠছে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে গণহারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি ডেকে আনে এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রস্তুতি। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে তওবা করা, পাপ থেকে বিরত থাকা, ইমান মজবুত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা।

    অন্যদিকে, অতি জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে এক লাখেরও বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। অথচ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এখনো খুবই সীমিত।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যদি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীর পেছনে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশও ভূমিকম্প প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করত, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

    শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক হয়ে ইমানি জীবনযাপন, তওবা ও সামাজিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না, যদি আল্লাহর রহমত না থাকে। ভূমিকম্প আমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।”