Tag: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

  • প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, তবু ‘নগর ভবন’ ছুঁতে চান ইশরাক হোসেন—কেন এই নতুন সমীকরণ?

    প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, তবু ‘নগর ভবন’ ছুঁতে চান ইশরাক হোসেন—কেন এই নতুন সমীকরণ?

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের ছায়া ছাড়িয়ে নিজস্ব পরিচয় গড়ার চেষ্টা করছেন তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে গিয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া—এই অর্জন তাকে দেশের কনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের কাতারে এনে দিয়েছে। তবে ক্ষমতার মঞ্চে উঠেও তার চোখ ঢাকার পুরোনো স্বপ্নে—নগর ভবন।

    পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে রাজনীতির মাঠে

    রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না ইশরাক। বাবার মৃত্যুর পর মাঠে নামেন তিনি। খুব অল্প সময়েই শিক্ষিত, স্পষ্টভাষী ও মাঠে নামা নেতা হিসেবে দলীয় কর্মী ও নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন।

    শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতা

    ঢাকার স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেন। University of Hertfordshire থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

    সিটি নির্বাচন ও আইনি লড়াইয়ের অধ্যায়

    ২০২০ সালের বিতর্কিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে থাকা তাকে ‘লড়াকু’ রাজনীতিকের পরিচিতি দেয়। ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে তার পক্ষে রায় আসে—যা নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

    এমপি থেকে প্রতিমন্ত্রী—রাজনীতির নতুন অধ্যায়

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হওয়ার পরপরই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, কল্যাণ কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই।

    আবারও মেয়র পদে লড়াইয়ের ইঙ্গিত

    মন্ত্রীসভায় থেকেও ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতির টান ছাড়তে পারেননি ইশরাক। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানান। সমর্থকদের মতে, বাবার অসমাপ্ত নগর উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নই তার প্রধান লক্ষ্য।

    রাজপথের সংগ্রাম ও তরুণদের সংযোগ

    আধুনিক ভাষ্য, প্রযুক্তি-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের রাজনীতির এক আলাদা মুখ হয়ে উঠছেন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা, মামলা-মোকদ্দমা ও গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে কর্মীদের কাছে।

    সামনে চ্যালেঞ্জ কোথায়

    জাতীয় নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব আর ঢাকার নগর রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা—দুটি ময়দান একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই তার রাজনৈতিক যাত্রা আরও শক্ত ভিত পাবে।

  • মাতুয়াইলে ভয়াবহ আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ ঢাকা

    মাতুয়াইলে ভয়াবহ আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ ঢাকা

    এবিএনএ: ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল টানা কয়েকদিন ধরে আগুনে পুড়ছে। ময়লার স্তূপে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ডেমরা, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল বর্জ্যস্তূপের বিভিন্ন অংশে একযোগে আগুন জ্বলছে। ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে ভেসে আশপাশের জনপদ ঢেকে দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকের কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার সমস্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

    আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, আগুন এক জায়গায় নয়—ময়লার পাহাড়ের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকায় নেভাতে সময় লাগছে। বিশাল আয়তনের ল্যান্ডফিলে আগুনের উৎস শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    পরিবেশবিদরা বলছেন, ঢাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যার বড় অংশই শেষ পর্যন্ত ড্রেন, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ল্যান্ডফিলে বারবার অগ্নিকাণ্ড এই দুর্বল ব্যবস্থাপনারই ফল।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের তাগিদ দিয়ে পরিবেশ সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি নেই। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে মানুষকে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হয় না। ল্যান্ডফিলে ফেলে শুধু ময়লা পুঁতে রাখার বদলে প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিলে দূষণ কমবে এবং অর্থনৈতিক মূল্যও তৈরি হবে।

    এদিকে, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও নির্ধারিত স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও দূষণ রোধ সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই ঢাকার বর্জ্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

  • নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    এবিএনএ:  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠ শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় সংঘর্ষ কাভার করতে যাওয়া একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হন, এমনকি একজনকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান প্রিন্স তার সমর্থকদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত দলের আরেক পক্ষের নেতা আরিফ চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়। দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

    পরে দেখা যায়, আরিফুজ্জামানের অনুসারী সন্দেহে নগর ভবনের এক কর্মী শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও ইশরাক সমর্থকরা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে আরেক ব্যক্তিকেও প্রিন্সের অনুসারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পুলিশ পরে দুইজনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    ঘটনার বিষয়ে আরিফুজ্জামান প্রিন্স দাবি করেন, নগর ভবনে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রবেশকে প্রতিহত করতে প্রতিনিয়ত বহিরাগতরা হুমকি ও হামলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, তারা একত্রে প্রবেশের চেষ্টা করলেই প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়।

    অন্যদিকে, আরিফ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নগর ভবনে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত আটজনকে আহত করে।

    এই সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শিশির জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন, এমন সময় তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়। এমনকি তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়।

    এনটিভির রিপোর্টার নাজিবুর রহমানও জানান, তাকে এবং তার ক্যামেরাম্যানকে ভয় দেখিয়ে ভিডিও ধারণ থেকে বিরত রাখা হয়।

    এই ঘটনায় নগর ভবনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইশরাকপন্থীদের বিরুদ্ধে।

  • ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলন থামবে না, জরুরি সেবা চলবে আগের মতো

    ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলন থামবে না, জরুরি সেবা চলবে আগের মতো

    এবিএনএ:

    বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রার্থী ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, তাকে মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এ আন্দোলনের কারণে নগরবাসীর জরুরি নাগরিক সেবা ব্যাহত হবে না।

    রবিবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ইশরাক এই ঘোষণা দেন। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছি। জনগণের সেবা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ নজর থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডিএসসিসির দায়িত্ব নেওয়ার বৈধ অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই আমার শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

    এদিকে, সকাল থেকেই বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ইশরাকের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন এবং তাকে দ্রুত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

    আন্দোলনের ফলে জনজীবন কিছুটা প্রভাবিত হলেও ইশরাক নিশ্চিত করেন যে, চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা চালু থাকবে।

    ডিএসসিসির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও, সাধারণ নাগরিকদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন—আন্দোলন চললেও সেবামূলক কার্যক্রম থেমে থাকবে না।


  • ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ইসি, আদেশের কপি হাতে পেল কমিশন

    ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ইসি, আদেশের কপি হাতে পেল কমিশন

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আদালতের দেওয়া আদেশের অনুলিপি হাতে পেয়েছে। এই আদেশ পর্যালোচনা করে আগামীকাল (রবিবার) কমিশনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে শপথ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আদালতের আদেশের অনুলিপি আমরা হাতে পেয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে কমিশনে আলোচনা হবে।”

    এর আগে বিকেলে আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “ইশরাক হোসেনের বিষয়েও আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, কালকের বৈঠকে আদেশের সারসংক্ষেপ ও আইনি দিক বিবেচনা করে গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এর আগে, ২৯ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক আবেদনের নিষ্পত্তি করে ইশরাক হোসেনের শপথ নিতে আর বাধা নেই বলে পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি রয়েছে।

    শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী ইসি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও তারা আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে, যা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যত্যয়। বরং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল ইসিকে সহযোগিতা করা, বাধা নয়।

    সবমিলিয়ে, আদালতের রায়ের আলোকে এখন সবার নজর ইসির আগামী দিনের পদক্ষেপের দিকে। ইশরাক হোসেন কবে নাগাদ শপথ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে সম্ভাব্য ঘোষণা আসতে পারে আগামীকাল।

  • ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    এবিএনএ: 

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ ও শপথে বিরত রাখার আবেদন সংক্রান্ত রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    এ রায়ের ফলে, ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ছাত্র ও জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    পরে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২৭ মার্চের রায়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। আদালত ১০ দিনের মধ্যে এ গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেয়, যা ২৭ এপ্রিল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    তবে একইদিনেই গেজেট ও শপথ গ্রহণ বন্ধে দুটি আইনি নোটিশ দিয়ে আপিলের ঘোষণা দেন রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি। এরপর মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট করেন। এতে গেজেট ও রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শপথ বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

    আদালতে আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও কায়সার কামাল যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার কেবল মামলার বিবাদী পক্ষের, যেমন সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের। অন্য কেউ রিট দায়ের করতে পারেন না, তাই এই রিট আইনত অযোগ্য।

    দুই পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন নির্ধারণ করে আদালত এবং রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

    এর ফলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের আর কোনো আইনি বাধা রইল না। ইতোমধ্যে তার সমর্থকেরা মৎসভবন ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ইশরাককে মেয়র ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, শপথ না নেওয়ার আবেদন

    ইশরাককে মেয়র ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, শপথ না নেওয়ার আবেদন

    এবিএনএ:  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথগ্রহণ ঠেকাতে এবং তাকে মেয়র ঘোষণা করা রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে।

    বুধবার মো. মামুনুর রশিদ নামে একজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী আকবর আলী রিট আবেদন করেন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে বিষয়টি শুনানির জন্য তোলা হবে।

    রিট আবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যেন ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ না করায় এবং একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে প্রতারণা জালিয়াতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণের নতুন মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। অথচ তার আগেই দুই নাগরিকের পক্ষে এক আইনজীবী নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়ে গেজেট প্রকাশ শপথ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।

    মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম পূর্বঘোষিত ফল বাতিল করে ইশরাককে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

    এই রায়ের পর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে মতামত চায় এবং মাত্র পাঁচ দিন পরেই, ২৭ এপ্রিল গেজেট জারি করা হয়।

    নতুন রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—এই রায় গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া কতটা আইনগতভাবে সঠিক হয়েছে, এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার।

    আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। শপথ গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, বিষয়টি এখন পুরোপুরি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।