Tag: ঢাকাই সিনেমা

  • “যেকোনো সময় মরে যেতে পারি”—মাহিয়া মাহির হঠাৎ পোস্টে ভক্তদের উদ্বেগ

    “যেকোনো সময় মরে যেতে পারি”—মাহিয়া মাহির হঠাৎ পোস্টে ভক্তদের উদ্বেগ

    এবিএনএ: ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি আবারও আলোচনায়। ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা আপডেট নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলেও এবার তার একটি স্ট্যাটাস ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী। সেখান থেকেই নিজের ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্ট দেন মাহি। সেখানে তিনি লেখেন, তার মনে হচ্ছে যেকোনো সময় তিনি মারা যেতে পারেন।

    তবে এমন মন্তব্যে ভক্তরা শঙ্কিত হয়ে পড়লেও পোস্টের পরবর্তী অংশে মাহি নিজের অনুভূতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, হঠাৎ করেই খুব কাছ থেকে একটি মৃত্যুর ঘটনা দেখেছেন, যা তাকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

    মাহি আরও লেখেন, তার সামনে থাকা কোনো মানুষও যে অল্প সময়ের মধ্যে মারা যেতে পারে—এই উপলব্ধি তাকে ভীষণভাবে বিচলিত করছে। এর আগে এত কাছ থেকে মৃত্যু দেখার অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি মানসিক চাপ অনুভব করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    তবে ঠিক কার মৃত্যু বা কী পরিস্থিতিতে তিনি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অভিনেত্রী। তার এই পোস্ট থেকে বোঝা যায়, জীবনের অনিশ্চয়তা তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

  • আলো নিভে গেছে, নীরবতা গ্রাস করেছে: সিনেমার প্রাণকেন্দ্র এফডিসি কি সত্যিই ভূতুড়ে ভবনে পরিণত?

    আলো নিভে গেছে, নীরবতা গ্রাস করেছে: সিনেমার প্রাণকেন্দ্র এফডিসি কি সত্যিই ভূতুড়ে ভবনে পরিণত?

    এবিএনএ: এক সময় যেখানে প্রতিদিন শোনা যেত “লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন”—আজ সেখানে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। ঢাকাই সিনেমার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এখন কার্যত অচল এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শুটিং ফ্লোরে নেই ব্যস্ততা, ডাবিং স্টুডিওতে নেই কণ্ঠের কোলাহল, আর ঝলমলে আলোয় ভরা সেই পরিবেশ এখন শুধুই স্মৃতি।

    ২০২২ সালে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি নয়। সংশোধিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবতা নিয়ে সংশয় কাটেনি। ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকায়।

    ১৯৫৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান একসময় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নেয় আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ—যাঁরা দায়িত্বে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই সিনেমার উন্নয়নের বদলে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এর ফলেই ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারিয়েছে এফডিসি।

    অর্থনৈতিক দিক থেকেও চরম সংকটে রয়েছে সংস্থাটি। ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত ভর্তুকি ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এফডিসি। গত এক দশকে সরকার থেকে প্রায় ৮০ কোটি টাকার অনুদান ও ঋণ নিতে হয়েছে। অথচ লোকসান কমেনি; বরং নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের মোট লোকসান ছাড়িয়েছে ১৪২ কোটি টাকা।

    প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এফডিসি পিছিয়ে পড়েছে বহু বছর। আধুনিক ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, এডিটিং সফটওয়্যার কিংবা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট সুবিধা—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে চরম ঘাটতি। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি পুরোনো ও অচল। ফলে নির্মাতারা বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরঞ্জাম ভাড়া নিতে। শুটিং ও ডাবিংয়ের কাজও বাইরে করাতে হচ্ছে।

    বর্তমানে এফডিসিতে কার্যকর শুটিং ফ্লোরের সংখ্যা কমে এসেছে। আগে যেখানে নয়টি ফ্লোর ছিল, সেখানে এখন কার্যত ব্যবহারের উপযোগী মাত্র কয়েকটি। অনেক শুটিং স্পট নষ্ট হয়ে গেছে, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নেই বললেই চলে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়া, নষ্ট এসি—এসব অভিযোগ এখন নিয়মিত।

    এফডিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা মনে করে, আন্তরিক উদ্যোগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি জানিয়েছেন, সেবা মূল্য কমানো ও নিয়ম সহজ করার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আয় কিছুটা বেড়েছে। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে এবং সঠিক পরিকল্পনায় এগোলে এফডিসিকে আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

    তবে চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এফডিসিকে বিকল্প ব্যবহারের চিন্তা ও ‘গবেষণাগার’ হিসেবে রূপান্তরের প্রস্তাব। তাঁদের আশঙ্কা, এতে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

    সাত দশকের ঐতিহ্য বহন করা এই প্রতিষ্ঠান এখন দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত মোড়ে। আলো-ঝলমলে অতীত ফিরে আসবে, নাকি এফডিসি সত্যিই রূপ নেবে এক ভূতুড়ে ভবনে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

  • সালমান শাহ ছিলেন প্রেরণার মহাতারকা: আবেগঘন স্মৃতিচারণায় শাবনূর

    সালমান শাহ ছিলেন প্রেরণার মহাতারকা: আবেগঘন স্মৃতিচারণায় শাবনূর

    এবিএনএ:  ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর ৫৪তম জন্মদিন আজ (১৯ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার)। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই মৃত্যুর কারণে তিনি বিদায় নিলেও কোটি ভক্তের মনে এখনো অমর হয়ে আছেন এই তারকা।

    চলচ্চিত্রে সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় জুটি ছিলেন সালমান শাহ ও শাবনূর। তাদের পর্দার রসায়ন দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। এ জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়ে তুলেছিল।

    অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত শাবনূর বিশেষ এই দিনে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ভক্তদের উদ্দেশ্যে। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন স্বপ্নের নায়ক। প্রয়াত সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুবতারা, যিনি এক অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম। তিনি এখনো আমাদের হৃদয়ে বেঁচে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল।”

    তিনি আরও জানান, “সালমান শাহর কালজয়ী সিনেমাগুলো এখনো দর্শকের হৃদয়ে অমলিন। চলচ্চিত্রে যারা নায়ক হতে এসেছেন, প্রায় সবাই বলেছেন—সালমান শাহ-ই ছিলেন তাদের প্রেরণার উৎস।”

    সবশেষে শাবনূর লিখেছেন, “জন্মদিনে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় তোমায় স্মরণ করছি। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।”

  • ‘এশা’ নামে ডাকছে দর্শক, এটাই আমার কাজের বড় স্বীকৃতি: পূজা ক্রুজ

    ‘এশা’ নামে ডাকছে দর্শক, এটাই আমার কাজের বড় স্বীকৃতি: পূজা ক্রুজ

    এবিএনএ:  সিনেমা জগতে এখন এক নতুন পরিচিত নাম—পূজা ক্রুজ। ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ ছবিতে অভিনয়ের পর দর্শকের মুখে এখন ঘুরছে শুধুই ‘এশা’ নামটি। আর সেই নামেই এখন পূজাকে চিনে নিচ্ছে মানুষ। দর্শকের এমন ভালোবাসায় আপ্লুত পূজা বললেন, “যখন কেউ আমাকে এশা বলে ডাকে, তখনই মনে হয় এই পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।”

    সিনেমাটির মুক্তির পর নিয়মিতই বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছেন পূজা, সরাসরি দর্শকের অভিজ্ঞতা জানতেই এই প্রচেষ্টা। “অনেক মেয়েই এসে বলেছে, তাদের নামও এশা। তাই সিনেমাটি দেখতে এসেছে,” জানান তিনি।

    পূজা বলেন, “এশা চরিত্রটি সম্পূর্ণ আমার বিপরীত। আমি চঞ্চল, প্রাণবন্ত। অথচ এশা চুপচাপ, শান্ত। তবুও একটা মিল আছে—দুজনেই স্পষ্টভাষী।” কঠিন পরিস্থিতিতে, শীতের রাতে রক্তাক্ত দৃশ্যের শুটিং কিংবা কস্টিউমের অস্বস্তি—সবই পেছনে ফেলে চরিত্রে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন তিনি।

    এই চরিত্রের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন পূজা। প্রাচ্যনাটের অভিনয় স্কুলে ছয় মাসের কোর্স, থিয়েটারে ‘মলুয়া’ চরিত্রে পারফর্ম, পরিচালক সানী সানোয়ারের অধীনে ওয়ার্কশপ—সবই ছিল প্রস্তুতির অংশ। পূজার মতে, “আমি সিনেমা করতে এসেছি বলেই নাটকে যাইনি।”

    এ ছবিতে তাঁর সহশিল্পী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত পূজা। “তিনি একজন সিনিয়র অভিনেত্রী হয়েও দারুণ আন্তরিক। আমার প্রশংসাও করেছেন, যা আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।”

    স্কুলজীবন থেকেই ছিল পূজার তারকাসুলভ মনোভাব। মঞ্চে নাচ করলেই দর্শক অপেক্ষা করতেন, কখন আসবেন পূজা, কখন শেষ হবে তাঁর নাচ। সেই মেয়েটিই এখন বড় পর্দায়।

    শুধু অভিনয় নয়, পূজা ভালোবাসেন রান্না, ভ্রমণ আর বন্ধুদের খাওয়ানো। তাঁর হাতের গরুর মাংস আর ডিমের দোপেঁয়াজার প্রশংসা করেন সবাই। বন্ধুমহলে তিনি ‘রাঁধুনি’ নামেই পরিচিত।

    পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে পূজা সবসময় ছিলেন দায়িত্বশীল। পড়াশোনা করেছেন টঙ্গীর নোয়াগাঁও স্কুল, হলি ক্রস কলেজ ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া থেকে। মা-বাবা আর ছোট দুই বোনের ভালোবাসা ও সাপোর্ট তাঁকে দিয়েছেন এগিয়ে চলার সাহস।

    ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়েও স্পষ্ট পূজা। তিনি বলেন, “আমি বাণিজ্যিক সিনেমাতেই কাজ করতে চাই—নাচ, গান, অ্যাকশন, সব থাকবে।” আর যদি কখনও অভিনয় না করতেন? তাঁর এককথায় উত্তর—“অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নই তো ছিল, আর কিছু ভাবিনি কখনো।”

    ‘এশা মার্ডার’ যেন সেই স্বপ্ন পূরণের একটি শক্তিশালী ধাপ। সময়ের গল্পে পূজা ক্রুজ আজ শুধু অভিনেত্রী নন, হয়ে উঠেছেন আত্মবিশ্বাসী এক অনুপ্রেরণা, যাঁকে এখন সবাই ডাকছে নিজের তৈরি করা চরিত্রের নামে—এশা।