Tag: ডেমোক্র্যাট

  • মধ্যবর্তী নির্বাচনে হার মানলেই বিপদ? অভিশংসনের আশঙ্কায় রিপাবলিকানদের কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে হার মানলেই বিপদ? অভিশংসনের আশঙ্কায় রিপাবলিকানদের কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্বেগের সুর শোনা গেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী না হলে ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসনের পথে হাঁটতে পারে।

    মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতেই হবে। তার ভাষায়, পরাজয় মানেই ডেমোক্র্যাটদের হাতে তাকে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হওয়া।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে ফলাফল প্রতিকূল হলে ট্রাম্পের নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। এমনকি কংগ্রেসে একাধিক তদন্তের মুখেও পড়তে পারেন তিনি। সে কারণেই নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে ঐক্য জোরদারে জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প।

    প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি ও সিনেটে ৩৩টি আসন ধরে রাখা দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যদিও তিনি নিজে দলের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পের দাবি, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক, যেখানে রিপাবলিকানরা নতুন রেকর্ড গড়বে।

    তবে সম্মেলনের দীর্ঘ বক্তব্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায়নি। বরং ট্রাম্প এসব সমস্যার দায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপান। বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত মন্তব্যও করেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    এর আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন দুই দফা অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প এবারও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। তবে দলের ভেতরেই এ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে, যা আসন্ন ভোটাভুটিতে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

  • কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসে ব্যয় বিল পাস না হওয়ায় মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশটিতে সরকারি শাটডাউন শুরু হয়েছে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৭ বছর আগে দেশটি সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউনের মুখোমুখি হয়েছিল, যা টানা ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় প্রতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে। এর আগে কংগ্রেসে বাজেট অনুমোদন না হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ছাড়া অধিকাংশ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শাটডাউন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক কর্মী বেতন পাবেন না। এমনকি ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই এ অচলাবস্থার মূল কারণ। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবি করলেও রিপাবলিকানরা তা প্রত্যাখ্যান করে। সিনেটে ভোটাভুটিতে রিপাবলিকানদের প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট, কিন্তু তারা পেয়েছে মাত্র ৫৫। ফলে ব্যয় বিল পাস হয়নি এবং শাটডাউন কার্যকর হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হতে পারেন। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন, বিল পাস না হলে ডেমোক্র্যাট সমর্থক কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে।

  • সিনেটে এক ভোটে পাস ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’

    সিনেটে এক ভোটে পাস ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’

    এবিএনএ:  মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’ এক ভোটের ব্যবধানে সিনেট পেরিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫১-৫০ ভোটে গৃহীত হয়। পক্ষে-বিপক্ষে ভোট সমান হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স—তিনি টাই ব্রেকিং ভোট দেন বিলটির পক্ষে।

    বিলটির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট দলের ৪৭ জন সদস্য ভোট দেন। একইসঙ্গে তিন রিপাবলিকান সিনেটর—টম টিলিস (নর্থ ক্যারোলাইনা), সুসান কলিন্স (মেইন) ও র‌্যান্ড পল (কেন্টাকি)—বিপক্ষে অবস্থান নেন। ফলে দলের মধ্যেও মতবিরোধ প্রকাশ পায়।

    বিলে মূলত কর ছাড় সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা খরচ কমানো, সেনাবাহিনীর বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ আরও ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এখন বিলটি পাঠানো হয়েছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। তবে কিছু রিপাবলিকান সদস্য ইতিমধ্যে বিলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাইয়ের আগেই বিলটিতে স্বাক্ষর করে আইনে রূপ দিতে আগ্রহী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করতে চান।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কর ছাড় নীতির সম্প্রসারিত রূপই এই বিল। এতে নতুনভাবে অতিরিক্ত সময়ের আয়ে কর ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনা ব্যয় ও সীমান্ত সুরক্ষার খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।

    তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো—মেডিকেইড ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির বাজেট থেকে প্রায় ৯৩০ বিলিয়ন ডলার কমানো হবে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির জন্য বাইডেন সরকারের দেওয়া সুবিধাও বাতিল হবে এই বিলের আওতায়।

    এই বিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়—প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি কতটা সহজে পাশ হয়।