Tag: ডেঙ্গু ২০২৫

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: এক সপ্তাহে ১৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে প্রতিদিন

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: এক সপ্তাহে ১৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে প্রতিদিন

    এবিএনএ: দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বছরজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩৫ জনে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রোগী।

    অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবারের মধ্যে বরিশাল বিভাগে সর্বাধিক ১২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৯৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা বিভাগে ৮৫ জন করে মোট ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮০ জন, রাজশাহীতে ৫৫ জন, খুলনায় ৩২ জন, ময়মনসিংহে ১৭ জন, রংপুরে ৩ জন এবং সিলেটে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৩৫ জন। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেই সর্বাধিক ৬৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, বরিশালে ১৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২ জন, রাজশাহীতে ৬ জন, খুলনায় ৫ জন এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি ৫২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১৮৪ জন।

    উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে দেশে সর্বাধিক ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং ওই বছরই রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ঘটে।

  • ডেঙ্গুতে ফের দুই প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৯৫ জন

    ডেঙ্গুতে ফের দুই প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৯৫ জন

    এবিএনএ:  

    দেশজুড়ে ফের ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী।

    রোববার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে রয়েছেন ৫৮ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, ঢাকার বাইরের এলাকায় ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৪ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৫০ জন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জন, রাজশাহীতে ৪৮ জন, রংপুরে ৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নতুন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯৩ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৪ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ হাজার ৬৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।

    গত এক দিনে মৃত্যুবরণকারী দুইজনের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম বিভাগ ও অন্যজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়ালো ৮৬ জনে।

    ২০২৪ সালে পুরো বছরজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেন ৫৭৫ জন। আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল আরও ভয়াবহ—আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণই পারে মৃত্যুর হার কমাতে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪২৫! পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪২৫! পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

    এবিএনএ:  দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৫ জন নতুন রোগী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যমতে, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ হাজার ১৮৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

    এদিকে জুলাই মাসের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এ মাসে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

    বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৩৫১ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন ৩৮৬ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভাগগুলোতে রয়েছেন ৯৬৫ জন।

    বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো—নতুন ভর্তি হওয়া ৪২৫ জনের মধ্যে ১২০ জনই বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাইরের অঞ্চল থেকে এসেছেন, যা প্রমাণ করে রোগটি এখন গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রতি মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ওঠানামা করেছে। জানুয়ারিতে ১,১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬, এপ্রিলে ৭০১ এবং মে মাসে ১,৭৭৩ জন রোগী ভর্তি হন। এই সময়ে জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন এবং মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হয়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৃষ্টি এবং অপ্রতুল মশক নিধনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। জনসচেতনতা এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সবচেয়ে জরুরি।

  • জুনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ৬ গুণ, জুলাইয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার শঙ্কা

    জুনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ৬ গুণ, জুলাইয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার শঙ্কা

    এবিএনএ:  ২০২৫ সালের জুন মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় ছয় গুণ বেড়েছে। মে মাসে যেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে জুনের ২৮ দিনের মধ্যে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে এবং জুলাইয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ২৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে—১৪১ জন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, “মে মাসের তুলনায় জুনে মৃতের সংখ্যা ছয় গুণ। এ হার অব্যাহত থাকলে আগামী মাসে মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। কিন্তু সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।”

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯,৪৮৪ জন এবং মারা গেছেন ৪১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়, বরিশালে ১১ জন এবং চট্টগ্রামে ৪ জন।

    বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১,০৬৩ জন। তাদের মধ্যে ৩১২ জন ঢাকায় এবং ৭৫১ জন ঢাকার বাইরে চিকিৎসাধীন।

    পিছনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি—৩ লাখ ২১ হাজার ১৭ জন রোগী ভর্তি এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৭৫।

    🟥 পাথরঘাটায় সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু

    বরগুনার পাথরঘাটায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে উপজেলা পরিষদের চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএ) সিরাজুম মুনিরা (৩৮) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা এবং মনির মিয়ার স্ত্রী। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

    মঙ্গলবার তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ায় বরিশালে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু পথে মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে এ মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

    পাথরঘাটার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে চললেও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। মশা নিধনে পৌরসভার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।”