Tag: ডেঙ্গুতে মৃত্যু

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই: এক দিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই: এক দিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১২

    এবিএনএ:  ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার সকালে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১১৮ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২৯ হাজার ৪৪ জন রোগী।

    আঞ্চলিক হিসেবে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৯ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৫৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রামে ৭৭ জন, খুলনায় ২৬ জন, ময়মনসিংহে চারজন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩০ জন রয়েছেন।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এভাবে সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩১১ রোগী

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩১১ রোগী

    এবিএনএ:  ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে দেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং দু’জন রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই সময়ে নতুন করে ৩১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৮২ জন। তাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১১০ জন।

    বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি— ৯ হাজার ৩৭০ জন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৩৩ শতাংশ। তবে মৃত্যুর দিক থেকে এগিয়ে ঢাকা মহানগর, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি।

    বয়সভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা। এ বয়সে আক্রান্ত ১০ হাজারেরও বেশি রোগী, যা মোট সংক্রমণের ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি। মৃত্যুও সবচেয়ে বেশি হয়েছে এই বয়সে— ৩১ জন।

    গত একদিনে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকায় ১১২ জন, বরিশালে ৮২ জন, ঢাকা বিভাগের বাইরে ৪২ জন, চট্টগ্রামে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, খুলনায় ১৫ জন এবং ময়মনসিংহে ২ জন। তবে রংপুর ও সিলেটে কোনো নতুন রোগী ভর্তি হয়নি।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ৮৫৩ জন এবং রাজধানীতে ৪৪০ জন।

    মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১৬১ জন এবং মৃত্যু হয় ১০ জনের। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ৩৭৪ জন, মৃত্যু ৩ জন। মার্চে আক্রান্ত ৩৩৬ জন হলেও কোনো মৃত্যু হয়নি। এপ্রিলে আক্রান্ত ৭০১ জন ও মৃত্যু ৭ জন। মে মাসে আক্রান্ত ১ হাজার ৭৭৩ জন ও মৃত্যু ৩ জন। জুনে আক্রান্ত ৫ হাজার ৯৫১ জন এবং মৃত্যু ১৯ জন। জুলাই মাসে আক্রান্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৬৮৪ জন ও মৃত্যু ৪১ জন। চলতি আগস্টে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮০২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের।

    উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ২০২৩ সালে, যখন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালেও আক্রান্ত হন ১ লাখের বেশি মানুষ এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি ৪০৯

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি ৪০৯

    এবিএনএ:  দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৯ জন। এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ও চট্টগ্রাম বিভাগে, যথাক্রমে ৭৪ ও ৭২ জন। ঢাকা বিভাগের বাইরের জেলাগুলোতে ৬৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩২ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন।

    এছাড়াও, খুলনায় ২৮, রাজশাহীতে ৫১, ময়মনসিংহে ১১, রংপুরে ১৬ এবং সিলেটে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    গত এক দিনে ৫৩০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২৯ জনে। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী রোগী ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।

    সর্বশেষ তিনজন মৃত্যুসহ এ বছরের মোট ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৬ জনে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

  • জুনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ৬ গুণ, জুলাইয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার শঙ্কা

    জুনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ৬ গুণ, জুলাইয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার শঙ্কা

    এবিএনএ:  ২০২৫ সালের জুন মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় ছয় গুণ বেড়েছে। মে মাসে যেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে জুনের ২৮ দিনের মধ্যে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে এবং জুলাইয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ২৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে—১৪১ জন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, “মে মাসের তুলনায় জুনে মৃতের সংখ্যা ছয় গুণ। এ হার অব্যাহত থাকলে আগামী মাসে মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। কিন্তু সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।”

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯,৪৮৪ জন এবং মারা গেছেন ৪১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়, বরিশালে ১১ জন এবং চট্টগ্রামে ৪ জন।

    বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১,০৬৩ জন। তাদের মধ্যে ৩১২ জন ঢাকায় এবং ৭৫১ জন ঢাকার বাইরে চিকিৎসাধীন।

    পিছনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি—৩ লাখ ২১ হাজার ১৭ জন রোগী ভর্তি এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৭৫।

    🟥 পাথরঘাটায় সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু

    বরগুনার পাথরঘাটায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে উপজেলা পরিষদের চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএ) সিরাজুম মুনিরা (৩৮) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা এবং মনির মিয়ার স্ত্রী। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

    মঙ্গলবার তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ায় বরিশালে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু পথে মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে এ মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

    পাথরঘাটার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে চললেও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। মশা নিধনে পৌরসভার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।”