Tag: ডিএসসিসি

  • জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    এবিএনএ: রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বসহ হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

    ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা জাতীয় ঈদগাহে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করে।

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সরকারি আমলা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদের নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত অযুখানা, চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষভাবে নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও অযুর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

  • ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ডিএসসিসির কঠোর পদক্ষেপ—সায়েদাবাদে উচ্ছেদ হবে অবৈধ কাউন্টার

    ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ডিএসসিসির কঠোর পদক্ষেপ—সায়েদাবাদে উচ্ছেদ হবে অবৈধ কাউন্টার

    এবিএনএ: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং সড়কে যানজট কমাতে বেশ কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার নগর ভবন এ অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম । এতে ডিএসসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    সভায় জানানো হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ টিকিট কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অবৈধ কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদ

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সায়েদাবাদ আন্ত;জেলা বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কের পাশে থাকা অবৈধ টিকিট কাউন্টার ও দোকানগুলো নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে সরিয়ে ফেলা হবে। সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালানো হবে।

    নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টার বরাদ্দ

    টার্মিনালের ভেতরে কেবল প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও ট্রাফিক পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

    নির্ধারিত বাস-বে ব্যবহার বাধ্যতামূলক

    টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার না করে বাসগুলোকে নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জন্য বাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিট অবস্থান করতে পারবে।

    যাত্রীসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন

    যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে টার্মিনালে নতুন তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর আলাদা কক্ষ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঈদের আগেই টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ শেষ করা, শৌচাগার সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নজরদারি

    ঈদ উপলক্ষে বাড়তি যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে কোনো পরিবহন যেন অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারে—এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে পরিবহন মালিকদের প্রতি।

    পরিত্যক্ত বাস অপসারণ

    টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক বিভাগকে। এতে সড়কের যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • শপথ নয়, দায়িত্বশীল আচরণই এখন জরুরি: আসিফ মাহমুদ

    শপথ নয়, দায়িত্বশীল আচরণই এখন জরুরি: আসিফ মাহমুদ

    এবিএনএ:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ইস্যু নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে মুখ খুললেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণই সকলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত।

    সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগ কোনো আইন লঙ্ঘন করেনি। গেজেট প্রকাশের পর মামলা বিচারাধীন ছিল এবং ততদিনে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে আইনি দিক থেকে শপথ গ্রহণের আর কোনো সুযোগ থাকেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারীদের কাছ থেকে আরও দায়িত্ববান ও পরিপক্ব আচরণ প্রত্যাশিত। নগর ভবন দখল করে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা এক ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং এটি সরাসরি আইনের শাসনের প্রতি অবমাননা।”

    অবরোধের প্রভাব তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “গত মাসে চলমান অবরোধের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নাগরিক সেবা হ্রাস পেয়েছে। তবুও আমরা নাগরিক সেবা চালু রাখতে ওয়াসা অফিসে বসেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যে নেতৃত্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক, তার কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ মোটেই কাম্য নয়।”

    উল্লেখ্য, ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রাতেও এর প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ঘিরে রয়েছে নানা জল্পনা।

  • ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলন থামবে না, জরুরি সেবা চলবে আগের মতো

    ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলন থামবে না, জরুরি সেবা চলবে আগের মতো

    এবিএনএ:

    বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রার্থী ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, তাকে মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এ আন্দোলনের কারণে নগরবাসীর জরুরি নাগরিক সেবা ব্যাহত হবে না।

    রবিবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ইশরাক এই ঘোষণা দেন। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছি। জনগণের সেবা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ নজর থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডিএসসিসির দায়িত্ব নেওয়ার বৈধ অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই আমার শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

    এদিকে, সকাল থেকেই বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ইশরাকের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন এবং তাকে দ্রুত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

    আন্দোলনের ফলে জনজীবন কিছুটা প্রভাবিত হলেও ইশরাক নিশ্চিত করেন যে, চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা চালু থাকবে।

    ডিএসসিসির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও, সাধারণ নাগরিকদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন—আন্দোলন চললেও সেবামূলক কার্যক্রম থেমে থাকবে না।


  • নগর ভবন বন্ধ, ডিএসসিসির মশা নিধন পরিকল্পনা গৃহীত হলো ওয়াসা ভবনে!

    নগর ভবন বন্ধ, ডিএসসিসির মশা নিধন পরিকল্পনা গৃহীত হলো ওয়াসা ভবনে!

    এবিএনএ:

    নগর ভবন এখনও তালাবদ্ধ থাকলেও থেমে নেই মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম। এডিস মশার ভয়াবহ বিস্তার রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে ওয়াসা ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো জরুরি বৈঠক।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই বৈঠকে ডিএসসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৪ জুন থেকে প্রতিদিন ফগার মেশিন দিয়ে ৩০ লিটার পরিবর্তে ৬০ লিটার কীটনাশক ব্যবহার করা হবে।

    মশা নিয়ন্ত্রণে আরও সিদ্ধান্ত হয়—মশককর্মীদের সকালের পাশাপাশি বিকেলেও উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, কীটনাশক সঠিক অনুপাতে মেশানো হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা হবে, এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করা হবে।

    এছাড়া, প্রতিটি অঞ্চলে বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও জমে থাকা পানি পরিষ্কারে নজরদারি জোরদার করতে ডেঙ্গু মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই টিমের আহ্বায়ক এবং সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

    ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ডেঙ্গু ও করোনা বিষয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজকে। যেকোনো তথ্যের জন্য তার মোবাইল নম্বর: ০১৮৪১২১১০৯৮।

    সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. জিল্লুর রহমান, সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে গত ১৪ মে থেকে নগর ভবন তালাবদ্ধ রয়েছে। যার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থানান্তর করে ওয়াসা ভবনে আয়োজন করা হয়।

  • ভোটারদের নিয়ে নিজেই শপথ নেব: মেয়র পদে হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

    ভোটারদের নিয়ে নিজেই শপথ নেব: মেয়র পদে হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রপদে শপথ গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে। বিএনপি নেতা ও ডিএসসিসির নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষিত ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, সরকার যদি দ্রুত শপথ গ্রহণের সুযোগ না করে, তবে তিনি নিজেই ঢাকার ভোটারদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করে চেয়ারে বসবেন এবং শপথ নেবেন।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন ইশরাক।

    তিনি বলেন, “নগর ভবন কিভাবে চলবে সেটা ঠিক করবে ঢাকাবাসী, কোনো অনির্বাচিত উপদেষ্টা বা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবেই আমি দায়িত্ব পালন করবো।”

    ইশরাক আরও অভিযোগ করেন, “মেয়র পদে শপথে বিলম্ব করে সরকার জনগণের রায় অস্বীকার করছে। এটা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।”

    এ নিয়ে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা। ফলে ডিএসসিসির হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলে বিএনপি। ইশরাক হোসেন সে সময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

    তবে ওই গেজেট ও রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়, যা আদালত খারিজ করে দেয় ২২ মে। পরে ‘লিভ টু আপিল’ দাখিল করা হলে ২৯ মে আদালত তা নিষ্পত্তি করে বলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে স্বাধীন।

    এই অবস্থায় বিএনপি ও ইশরাক হোসেনের দাবি—গেজেট প্রকাশের পর আর বিলম্বের সুযোগ নেই, অবিলম্বে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • ‘রাজপথ ছাড়বো না’—ডিএসসিসি ইস্যুতে ইশরাকের আহ্বানে উত্তাল রাজধানী

    ‘রাজপথ ছাড়বো না’—ডিএসসিসি ইস্যুতে ইশরাকের আহ্বানে উত্তাল রাজধানী

    এবিএনএ: 

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে শপথ গ্রহণ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর রাজপথ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ডিএসসিসি মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন তার সমর্থকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন— “একটা কথাই বলবো, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছাড়বেন না।”

    বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই বার্তা দেন। তার এই আহ্বানের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

    🚧 বিক্ষোভে অচল রাজধানী:

    মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ এলাকা এবং যমুনা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন ইশরাকের অনুসারীরা। একইসঙ্গে ডিএসসিসি নগর ভবনের সামনেও আরেকটি বড় অংশ জড়ো হয়ে পড়েছে। এতে নগর ভবনের সামনের সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

    এর ফলে রাজধানীর ওইসব এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। ব্যস্ততম এই এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।

    🔥 রাজনৈতিক বার্তা পরিষ্কার:

    ইশরাক হোসেনের এই অবস্থান এবং আহ্বান বিএনপির আন্দোলন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি তার বার্তায় আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য যে মূল্য দিতে হয়, আমরা তা দিতেই রাজপথে এসেছি। এখান থেকে পিছু হটা চলবে না।”

    বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলীয় ফোরামে ইশরাককে নিয়ে শপথ ইস্যুতে সৃষ্ট জটিলতা আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিতে পারে।

    📌 সতর্ক প্রশাসন:

    অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও দেখা গেছে সতর্ক অবস্থানে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • ইশরাককে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব না দিলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে: নগর ভবন ঘেরাওয়ে হুঁশিয়ারি

    ইশরাককে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব না দিলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে: নগর ভবন ঘেরাওয়ে হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগর ভবনের সামনের এলাকা। সোমবার বিকেলে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে নগর ভবনের সামনেই পালন করা হবে একটানা অবস্থান কর্মসূচি।

    আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র সাবেক সচিব মশিউর রহমান এদিন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, “এই যৌক্তিক দাবি বারবার জানানো সত্ত্বেও সরকার রহস্যজনকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এমন হঠকারী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আগামীকাল পর্যন্ত এই দাবি না মানা হয়, তাহলে এর দায় সরকারের ঘাড়েই যাবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”

    এর আগেই সোমবার সকাল ১১টা থেকে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে নগর ভবনের সামনে এবং আশপাশে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। বঙ্গমার্কেট গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন সড়কও অবরোধ করে দেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকাতেই সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা।

    এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আগের দিনগুলোতেও আন্দোলনকারীরা সচিবালয় অভিমুখে বিশাল মিছিল বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার রবিবারের কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের একটিই দাবি—ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে দ্রুত মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে।

    মশিউর রহমান আরও বলেন, “এই আন্দোলন কেবল ইশরাককে নিয়ে নয়, এটি ঢাকাবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই। আমরা পিছু হটছি না, এই লড়াই চলবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত।”