Tag: ডিএমপি

  • নিষিদ্ধ পলিথিন রুখতে যৌথবাহিনীর কঠোর অভিযান, আর কোনো ছাড় নয়

    নিষিদ্ধ পলিথিন রুখতে যৌথবাহিনীর কঠোর অভিযান, আর কোনো ছাড় নয়

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, এমন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও যারা এখনও নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি ও বাজারজাত করছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার শুরু হবে যৌথবাহিনীর কঠোর অভিযান

    বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রি, বিতরণ ও বাণিজ্যিক পরিবহন বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান চলবে। অভিযানে প্রশাসন, র‍্যাব, পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার একযোগে অংশ নেবে।

    রিজওয়ানা হাসান বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এখন আর আলাপচারিতা নয়— এটি বাস্তবায়নের সময়। সকল পক্ষের অংশগ্রহণে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

    🔻 মোবাইল কোর্টে অভিযান

    এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জে এক মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের দায়ে মামলা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করা হয়।

    একইদিন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একটি পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এছাড়া, বিদ্যুৎ মিটার খুলে জব্দ করা হয়েছে।

    🔻 কারা ছিলেন সভায়?

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কামরুজ্জামান, র‍্যাবের এডিজি (অপারেশনস) কর্ণেল ইফতেখার আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, ঢাকার জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

  • ডিউটিতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশে কড়া বার্তা

    ডিউটিতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশে কড়া বার্তা

    এবিএনএ: ডিউটির সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর এই দায়িত্ব পালনের সময় মনোযোগে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মে মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি এসব কথা বলেন।

    তিনি জানান, “ডিউটি পোস্টে মোবাইল ফোন ব্যবহার পুলিশের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং কার্যকর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এটি বন্ধ করতে হবে।”

    আইজিপি আরও বলেন, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। জনগণ ডিএমপির কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আশা করে।” তিনি মোবাইল ডিউটি, গার্ড ডিউটি এবং কূটনৈতিক এলাকার দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় তিনি জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় জনগণকে একটি নিরপেক্ষ ও নিরাপদ ভোটদান পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ডিএমপির প্রতিটি সদস্যকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

    সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “অপরাধ ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতারে সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। সকল ইউনিটকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদ বোধ করে।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বে কোনো ধরনের পক্ষপাত যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

    সভায় মে মাসে দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    এই নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব সময়ে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।

  • সপ্তাহের কর্মদিবসে সড়ক বন্ধ নয়: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের কড়া বার্তা

    সপ্তাহের কর্মদিবসে সড়ক বন্ধ নয়: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানীর যানজট এবং জনভোগান্তি এড়াতে কর্মদিবসে সড়ক অবরোধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে রাজধানীর মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এবং পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত—বাধাগ্রস্ত হয়।”

    মঙ্গলবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত “সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে ডিএমপি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (GRSP)-এর আয়োজিত এ কর্মশালায় ডিএমপির ৬০ কর্মকর্তা অংশ নেন।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঢাকায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ করছি—অফিস চলাকালীন সময়ে যেন সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি না দেওয়া হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত করে কারণ চিহ্নিত করা গেলে তা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। তাই পুলিশ সদস্যদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা জরুরি।”

    অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সারওয়ার বলেন, “চালক, পথচারী ও যাত্রী—সবাই যদি নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলেন, তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।”

    এছাড়া কর্মশালায় অংশ নেন বিআইজিআরএস ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম, জিআরএসপি’র ব্র্যাট হারম্যান, পিটার জোনস এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজনসহ আরও অনেকে।

    ডিএমপি কমিশনার সকল ট্রাফিক সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন সড়কে গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইন বাস্তবায়নে আরও সচেষ্ট হতে।


  • সচিবালয় ঘিরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কড়া বার্তা ডিএমপির

    সচিবালয় ঘিরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কড়া বার্তা ডিএমপির

    এবিএনএ, ঢাকা:


    রাজধানীর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকা সচিবালয় এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে—এ কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

    সোমবার (২৬ মে) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,

    “গত ১০ মে ২০২৫ তারিখে ডিএমপি কমিশনার কর্তৃক জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং আশেপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, শোভাযাত্রা, মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।”

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়,

    “নির্বিঘ্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে তা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

    ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই নির্দেশনা অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    📌 নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত

    ঢাকা শহরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে সচিবালয় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয় নিয়মিত। এরই ধারাবাহিকতায় এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বা আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে এমন সতর্কতা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

  • ঢাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা: হুঁশিয়ারি দিল ডিএমপি

    ঢাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা: হুঁশিয়ারি দিল ডিএমপি

    এবিএনএ: 

    আইন হাতে তুলে নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করলে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক বাড়িতে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা এবং পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয় এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    ডিএমপি জানায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-ফোন করে একজন জানান যে ধানমণ্ডি নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করছে। খবর পাওয়ার পর ধানমণ্ডি থানার ওসি ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।

    ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, প্রায় ১৫-২০ জন ব্যক্তি বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করতে চাচ্ছে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা উত্তেজিত আচরণ করে এবং একজন ব্যক্তিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

    পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের মুচলেকা গ্রহণ করে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে ধরনের কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে।

    বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি আরও জানায়, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো চেষ্টা করলে, কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হয়রানি করার প্রমাণ পাওয়া গেলে, তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।

    ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পুলিশের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।”

    এই হুঁশিয়ারি নাগরিকদের সচেতন করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল, ডিবির হাতে আটক ১১ আওয়ামী কর্মী

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল, ডিবির হাতে আটক ১১ আওয়ামী কর্মী

    এবিএনএ: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকার গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রবিবার এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে দলটির ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, গুলিস্তানে আচমকা মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী। আইন ভঙ্গ করায় ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    প্রসঙ্গত, ছাত্র সাধারণ জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, চলতি বছরের ১২ মে সরকার একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ তাদের সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির যেকোনো প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি, সভা-সমাবেশ, মিছিল, কিংবা সম্মেলনের আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে মিছিল করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে। এমন ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পর যেকোনো ধরণের সংগঠনবদ্ধ কার্যকলাপ অপরাধের শামিল এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

    ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকার নিষিদ্ধ সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনার নতুন রূপ নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

  • ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার তিন হামলাকারী

    ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার তিন হামলাকারী

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্য তার দুই বন্ধুর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ১০-১২ জনের একটি দল, যাদের মধ্যে কেউ একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাম্যের উরুতে আঘাত করে।

    ডিএমপি জানায়, মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সাম্য তার দুই বন্ধু নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ফিরছিলেন। পথে রমনা কালীমন্দিরের উত্তরে পুরনো ফোয়ারার কাছে একটি দল তাদের গতি রোধ করে মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে, হামলাকারীরা ইট দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে এবং এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাম্যের ডান পায়ের উরুর পেছনে আঘাত করে। রক্তক্ষরণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাম্য। হামলাকারীরা ভয় দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

    আহত অবস্থায় সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পরদিন ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্যের বড় ভাই শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিনজনকে শনাক্ত করে। গ্রেফতার তিনজন হলেন—তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) পলাশ সরদার (৩০)। তাদের শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয়।

    সাম্য ছিলেন স্যার এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর ওপর ধরনের নৃশংস হামলা গোটা শিক্ষাঙ্গনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ বাকি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা কত দ্রুত সম্ভব হয়।

  • বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    এবিএনএ:  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তারে আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন নেই—এমন নির্দেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

    বুধবার (মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের রায়েই স্থির থাকেন। এর ফলে এই সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো বাড়তি প্রশাসনিক অনুমতির দরকার হবে না। একইসঙ্গে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

    এর আগে এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক অফিস আদেশে জানিয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে। তাই এমন মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এই আদেশে অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার নিষিদ্ধও করা হয়।

    তবে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন একটি রিট দায়ের করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    জানা গেছে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া অনেক মামলায় অভিযোগপত্রে এমন অনেকের নাম রয়েছে যাদের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ক্ষেত্রে বাদী নিজেই মামলার বিস্তারিত জানেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তবে আদালতের রায়ে সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকছে না, ফলে এখন বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামিদের সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে।