Tag: ডায়াবেটিস সচেতনতা

  • ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    এবিএনএ :অনেকেই দিন শুরু করেন এক গ্লাস টাটকা ফলের রস দিয়ে। এটি অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু অজানা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডায়াবেটিস রোগীরাই নন—যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের ক্ষেত্রেও ফলের রস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

    কেন ফলের রস রক্তে শর্করা বাড়ায়?

    ফলের রসে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে, যা খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। কিন্তু যখন ফল থেকে রস তৈরি করা হয়, তখন এর অধিকাংশ ফাইবার বা আঁশ বাদ পড়ে যায়। এই ফাইবার সাধারণত শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে। ফলে আঁশ ছাড়া রস পান করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে—যাকে বলা হয় ‘গ্লুকোজ স্পাইক’।

    যদিও সুস্থ শরীর ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে এই শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বারবার এমন স্পাইক দীর্ঘমেয়াদে ভালো প্রভাব ফেলে না।

    গবেষণা কী বলছে?

    আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসে শিশুদের উপর চালানো একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রস পান করে (প্রতিদিন ৮ আউন্স বা তার বেশি), তাদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই প্রবণতা বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

    প্যাকেটজাত ফলের রস কি নিরাপদ?

    বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের রস অনেক সময় আরও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয়। এমনকি ঘরে তৈরি তাজা রসও যদি বেশি পরিমাণে পান করা হয়, তাহলে ক্যালোরি বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

    তাহলে কী করবেন?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অক্ষত থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। যদি রস পান করতেই হয়, তবে তা অল্প পরিমাণে পান করা উচিত এবং খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।

    সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই সুস্থ থাকা সম্ভব—ছোট একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।