Tag: ডাকসু নির্বাচন

  • ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপার প্রমাণ, সংখ্যায় বড় অমিল

    ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপার প্রমাণ, সংখ্যায় বড় অমিল

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার কোথায় এবং কতগুলো ছাপানো হয়েছিল— তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বহুল আলোচিত এ ব্যালট নীলক্ষেতের একটি প্রেসেই ছাপানো হয়েছে এবং সংখ্যাতেও বড় গরমিল রয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, ব্যালট সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় উন্নতমানের ছাপাখানায় প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য আর নথিপত্র বলছে, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের জালাল প্রেসেই ছাপা হয়েছিল এগুলো। প্রেস মালিক মো. জালালও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মো. ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ পান এবং তিন দিনেই প্রায় ৯৬ হাজার ব্যালট ছেপে দেন।

    এদিকে কাটিংয়ের কাজ হয় মক্কা পেপার কাটিং হাউসে। দোকানের কর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ২২ রিম কাগজ কাটা হয়, যাতে প্রায় ৮৮ হাজার ব্যালট তৈরি হয়। এ হিসাবের সঙ্গে জালাল প্রেসের তথ্যের মধ্যে দেখা দিয়েছে ৮ হাজার ব্যালটের গরমিল।

    অন্যদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট ছাপানো ও ওএমআর মেশিনে গণনার টেন্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠান আঞ্জা করপোরেশনের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন দাবি করেছেন, তাদের কেরানীগঞ্জের প্রেসেই ১ লাখ ৫৩ হাজার ব্যালট ছাপা হয়েছে। তবে তথ্যপ্রমাণ দেখানো হলে তিনি দায় চাপান কর্মচারীদের ওপর।

    অন্য হিসাব অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। একজন ভোটারকে ছয়টি ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ব্যালট পেপার। অথচ জালাল প্রেস, মক্কা কাটিং এবং আঞ্জা করপোরেশনের দেওয়া তথ্যের মধ্যে বিশাল অমিল পাওয়া গেছে।

    বিষয়টি নিয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “এটি হাইলি স্পেশালাইজড প্রসেস, যেটির জন্য বিশেষ মেশিন লাগে। একমাত্র একটি ব্র্যান্ডই আবেদন করেছিল।” নীলক্ষেতে ছাপানোর প্রমাণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

  • ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় জামায়াত শিবির বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, ছাত্রলীগের ভোট জামায়াতকে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় প্রয়াত বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “ডাকসুর নির্বাচনে বিএনপি হেরেছে বলা যেতে পারে। কিন্তু আমি বলতে চাই, এত ভোট জামায়াত কোথা থেকে পেল? আসলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমেই ছাত্রলীগের ভোট তারা নিয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডাকসুর নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ২০০৮ সালের মতো আবারও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। তখন যেমন হয়েছিল, এবারও তাই ঘটেছে। জামায়াত একটি ‘মোনাফেকের দল’, অথচ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আঁতাত থেকেই এসব সম্ভব হয়েছে।”

    নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “যেভাবেই হোক তারা জয়ী হয়েছে। আমি এই কমিটিকে স্বাগত জানাই। আশা করি তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”

    আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা সবসময় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে চায়। আজও সেই ষড়যন্ত্র চলছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অথচ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ আছে শুধু বিএনপির হাতেই।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

  • ঢাবি ভিপি প্রার্থী আবিদের ঘোষণা: “আমার পথচলা এখানেই থেমে নেই”

    ঢাবি ভিপি প্রার্থী আবিদের ঘোষণা: “আমার পথচলা এখানেই থেমে নেই”

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা এখানেই শেষ নয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দাবি আদায়ের জন্য ছাত্রনেতা হিসেবেই প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

    বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি কখনো ভাবিনি এতদূর আসতে পারব। আন্দোলন-সংগ্রামের পথই আমাকে আজকের জায়গায় এনেছে। এই নির্বাচনে শুরু থেকেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। তবে এখনও আশা রাখি, সব অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসবে।”

    আবিদ আরও বলেন, “মানুষ হিসেবে আমি হয়তো সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তবে মাত্র ২০ দিনের প্রচারণায় আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে। সবাইকে হয়তো ছুঁতে পারিনি, কিন্তু আমি আশ্বস্ত করছি—আমার যাত্রা এখানেই থেমে নেই, এটি আরও দীর্ঘ।”

    তিনি অঙ্গীকার করেন, ছাত্রদলের একজন নেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ চালিয়ে যাবেন। “আমরা রাজপথের প্রহরী হয়ে লড়াই করব এবং ইনশাআল্লাহ এর প্রতিফলন আগামী ডাকসুতে সবাই দেখতে পাবেন।”

    ফেসবুক পোস্টের শেষে আবিদ লিখেছেন— “আবিদ আপনাদের কখনো ছেড়ে যাবে না।”

  • ডাকসু ভোটে চমক: সাদিক, ফরহাদ ও মহিউদ্দিনের বিপুল জয়

    ডাকসু ভোটে চমক: সাদিক, ফরহাদ ও মহিউদ্দিনের বিপুল জয়

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন এস এম ফরহাদ।

    গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সারারাত ধরে চলে ভোটগণনা। বুধবার সকালে সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

    ভিপি পদে সাদিক কায়েম ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

    জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ পদে ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

    সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও শিবির সমর্থিত প্যানেলের মো. মহিউদ্দিন খান জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।

    অন্যদিকে, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ও ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল কাদের পান ১ হাজার ৩ ভোট।

    তবে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন দাবি করেছেন, “এই নির্বাচন ছিল একটি মডেল নির্বাচন। কোনও ধরনের কারচুপির সুযোগ ছিল না।”

  • ডাকসু নির্বাচনে ফল প্রত্যাখ্যান: আবিদুল ইসলাম খানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    ডাকসু নির্বাচনে ফল প্রত্যাখ্যান: আবিদুল ইসলাম খানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলকে ‘পরিকল্পিত প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।

    মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “দুপুরের পরই অনুমান করেছিলাম, ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে সাজানো হবে। সংখ্যাগুলো নিজের মতো করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই পরিকল্পিত প্রহসনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”

    এর আগে দিনভর ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি এবং পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ তোলেন। ফলাফল ঘোষণার সময় আবিদুল ইসলাম খানের এই প্রতিক্রিয়া নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ছাত্রদল-শিবিরের বাকযুদ্ধে উত্তেজনা, পুলিশ প্রস্তুত

    ছাত্রদল-শিবিরের বাকযুদ্ধে উত্তেজনা, পুলিশ প্রস্তুত

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলের আগে ঢাবি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভোট গণনার সময় ছাত্রদল ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, বিকেল থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, জামায়াত ও বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে।

    ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের কারণে ঢাবি এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা হচ্ছে।”

    ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, “ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।”

    ছাত্রশিবির সমর্থিত নেতা সাদিক কায়েম বলেন, “ছাত্ররা যাকে ম্যান্ডেট দেবে, তা মেনে নিতে হবে। সকল প্রার্থীকে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের উচিত তা বন্ধ করা।”

    নির্বাচনের ফলাফলের আগে ঢাবি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি। ছাত্রদলের নেতা ও কর্মীরা স্লোগান দেন, “নির্বাচনে কারচুপি, মানি না মানব না।”

    আবিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনে ভোট কারচুপি করেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দেওয়া হয়নি। ভোট গণনার দুই ঘণ্টা পার হওয়ার পর ছাত্রদলের এজেন্টদের ভোট গণনা কক্ষে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া আমরা নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেব না।”

    উল্লেখ্য, প্রায় ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে এবং বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

  • নির্বাচন বানচালে নাটক করছে ছাত্রদল, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    নির্বাচন বানচালে নাটক করছে ছাত্রদল, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে ভোট বানচাল করার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নাটক করে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে বহিরাগত জড়ো করার অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী সাদিক কায়েম

    মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় মধুর ক্যান্টিনে সাদিক, ফরহাদ ও মহিউদ্দিনের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ জানান।

    সাদিক বলেন, “ছাত্রদল বিকেল থেকে নানা ধরনের নাটক করছে ভোট প্রভাবিত করার জন্য। রোকেয়া হলে ভয়াবহ জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে তারা নাটক করছে। ইউল্যাব কেন্দ্রে আমাদের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তারা একজন শিক্ষককেও লাঞ্ছনা করেছে। ভিসিকে আঙ্গুল তুলেও কথা বলেছেন। তারা নয়টি পয়েন্টে বিএনপি-যুবদলের লোকজন জড়ো করেছে, যাতে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমরা জামায়াত-শিবিরের লোক আনেছি। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রকৃতপক্ষে তাদেরই লোকজন বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়েছে। আমরা আহ্বান জানাই, ছাত্রলীগের মতো আচরণ করবেন না এবং প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

    সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির নেতারা বললেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।

  • ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে টিএসসিতে উত্তেজনা

    ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে টিএসসিতে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদলসহ কয়েকজন প্রার্থী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামসহ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থীরা টিএসসিতে গিয়ে ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসন তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় প্রার্থীরা ভেতরে প্রবেশের দাবি জানিয়ে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন—“ভোট চোর ভোট চোর, শিবির ভোট চোর”, “প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না।”

    প্রার্থীদের অভিযোগ, টিএসসিতে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনে ব্যালট বাক্সের দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল না। তারা দাবি করেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট বাক্স লুকিয়ে কারচুপি করছে। স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী হাসিবুল অভিযোগ করেন, “শিবির প্রার্থীদের ভোট গণনার সময় ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।”

    অবস্থান কর্মসূচি আধাঘণ্টারও বেশি সময় চলার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রশাসন গেট খুলে দিলেও ছাত্রদল নেতারা ভেতরে প্রবেশ না করে টিএসসি ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

    টিএসসি থেকে বের হয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন কারচুপি লুকোতে চাইছে। তাই আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন মানি না।”

    এ ঘটনার পর টিএসসির এলইডি স্ক্রিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।

  • লাইভ সম্প্রচারের পর সাংবাদিক শিবলীর মৃত্যু, সহকর্মীদের চোখে অশ্রু

    লাইভ সম্প্রচারের পর সাংবাদিক শিবলীর মৃত্যু, সহকর্মীদের চোখে অশ্রু

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন কভার করতে গিয়ে লাইভ শেষে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন চ্যানেল এস টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার তরিকুল ইসলাম শিবলী। তার হঠাৎ মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কার্জন হলের সামনে থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করেন শিবলী। ভোটারদের অভিমত তুলে ধরছিলেন পাঠকদের সামনে। কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত সহকর্মীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিবলীর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের জোয়ার ওঠে। সহকর্মীরা ফেসবুকে নানা স্মৃতি শেয়ার করেন। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, কিছুক্ষণ আগে যিনি লাইভে প্রাণবন্তভাবে কথা বলছিলেন, তিনিই হঠাৎ নেই।

    চ্যানেল এস-এর অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর শাফি উদ্দিন আহমেদ জানান, ডাকসু নির্বাচন কভার করতে পাঁচ সদস্যের টিম গিয়েছিল। শিবলী ছিলেন তিন রিপোর্টারের একজন। তিনি শুধু সংবাদ সংগ্রহ করতেন না, আন্তরিকভাবে দায়িত্বও পালন করতেন। সকালেই সহকর্মীদের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন ফেসবুকে, যেখানে তার মুখভরা হাসি ছিল।

    প্রায় এক বছর ধরে চ্যানেল এস-এ কাজ করছিলেন শিবলী। তিনি উত্তরায় স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে বসবাস করতেন। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তার প্রথম জানাজা হবে কর্মস্থল সেগুনবাগিচায়।

    শিবলীর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ শোকাহত। অনেকেই বলেছেন, “যিনি মাঠে থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খবরের সঙ্গে ছিলেন, তাকেই হারালাম সংবাদ কভারেজের মাঝেই।”