Tag: ট্রুথ সোশ্যাল

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

  • ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে United StatesIran সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং বিরোধ নিরসনে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সংঘাত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরানও। তারা সতর্ক করে দেয়, মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে।

    আল্টিমেটামের সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘ভালো অগ্রগতির’ দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির দাবি করা হলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাময়িক স্থগিতাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

  • ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি নিয়ে উত্তেজনা, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চয়তায়

    ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি নিয়ে উত্তেজনা, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চয়তায়

    এবিএনএ:  ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রতিনিধি মার্ক কার্নি জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং এটি আর সহ্য করা যাচ্ছে না। এজন্যই সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কানাডার।

    এই ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টা পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “ওয়াও! কানাডা এখন বলছে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এতে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করাটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ওহ কানাডা!!!”

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন তার প্রশাসন ‘লিবারেশন ডে’ নামে নতুন শুল্কনীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

    এই নীতিতে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি হয়নি, তাদের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে। যদি চুক্তি আজকের মধ্যে না হয়, তাহলে আগামী শুক্রবার থেকে কানাডার পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

    ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে চীন ও মেক্সিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এখনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

    এদিকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন মাত্রার কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    গাজায় খাদ্য ও মানবিক সংকটও দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। বুধবার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আরও সাতজন মারা গেছে।

    এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, “গাজায় বাস্তবেই মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আমি ইসরায়েলের সঙ্গে একত্রে কাজ করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।”

    মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • ইলন মাস্কের নতুন “আমেরিকা পার্টি”: তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প

    ইলন মাস্কের নতুন “আমেরিকা পার্টি”: তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও টেসলা-স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ক ঘোষণা করেছেন নতুন রাজনৈতিক দলের—‘আমেরিকা পার্টি’। দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দু’দলের বাইরে নিজেকে প্রকাশের ইঙ্গিত দেন মাস্ক। অবশেষে গত শনিবার এক্স (পুরনো টুইটার) পোস্টে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় দলের প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

    আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে “হাস্যকর” আখ্যা দিয়েছেন। রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,

    “আমাদের সবসময় দ্বিদলীয় ব্যবস্থা ভালো করেই চলে এসেছে। তৃতীয় দল গড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনো যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নয়।”

    ট্রাম্পের পরদিন Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে দেখা যায়,

    “ইলন মাস্ক গত পাঁচ সপ্তাহে যেন ‘ট্রেন দুর্ঘটনায়’ আটকে গেলেন—আমি সত্যিই দুঃখিত।”

    সেক্ষেত্রে মাস্কের গাড়ি-বিশ্বে বৈদ্যুতিক যানবাহন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটিকেও ট্রাম্প থেঁতলে দেন। ট্রাম্প দাবি করেন,

    “ইভি ম্যান্ডেট অনুসারে সবাইকে দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার নির্দেশনা দিতেও চাইছিল। যা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার নয়।”

    ট্রাম্পের নতুন কর ও ব্যয়ের আইনেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ট্যাক্সছার কথা তুলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে ক্রেতারা 자유—গ্যাসচালিত, হাইব্রিড কিংবা ইভি, যেকোন গাড়ি কিনতে পারবেন, কারো ওপর বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নেই।

    মাস্ক ও ট্রাম্প একসময় রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাস্ক ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে বড় ব্যাংকআদান করে সাহায্য করেন। পরে ট্রাম্পের প্রশাসনে মাস্ককে সরকারি দক্ষতা দপ্তরের প্রধান করেছিলেন, যা দ্রুত শেষ হয় মতবিরোধের কারণে।

    মাস্কের তৃতীয় দল গঠন ও ট্রাম্পের কথিত দ্বিদলীতন্ত্র রক্ষা নিয়ে বিতর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘আমেরিকা পার্টি’ কতটা জনপ্রিয়তা পায় এবং মার্কিন নির্বাচনী ময়দানে কী প্রভাব ফেলে।

  • ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন— “বোমা ফেলো না, পাইলটদের ফিরিয়ে আনো এখনই”। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘন্টাখানেক পরই এই বার্তা দেন ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, এএফপি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানেও তিনি একই বার্তা দেন— বোমা হামলা চালানো হবে ‘চুক্তিভঙ্গ’।

    ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলেন,

    “ইসরায়েল, দয়া করে বোমা ফেলো না। এটা হলে বড় ধরনের চুক্তিভঙ্গ হবে। তোমাদের পাইলটদের এখনই ফিরিয়ে আনো।”

    এই সময় ট্রাম্প জানান, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরায়েল বলেছে তারা প্রস্তাবে রাজি, এবং ইরান জানিয়েছে, যদি ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে, তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না।

    কিন্তু, একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় তারা ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অপরদিকে, তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    অ্যাক্সিওস বলেছে, ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জানিয়েছেন তিনি হামলা বাতিল করতে পারবেন না। কারণ, ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হামলা হবে সীমিত পরিসরে এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সময়ে ট্রাম্পের এই বার্তা স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবধানতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত বহন করছে।

  • ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে রহস্যজনক এক মন্তব্য করে নতুন করে কৌতূহলের জন্ম দিলেন তিনি।

    সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ট্রাম্প নাকি ইরানে হামলার একটি পরিকল্পনায় মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি এখনই সেটি কার্যকর না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কারণ, তিনি মনে করছেন ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরে আসবে।

    এই প্রতিবেদন ঘিরেই শুরু হয় জোর বিতর্ক। ট্রাম্প এরপর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আমার ইরান সংক্রান্ত ভাবনা সম্পর্কে কিছুই জানে না!”

    তিনি আরও বলেন, “আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। সবাই আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করছে, কিন্তু আমি এখনো কিছু ঠিক করিনি। দেখা যাক সামনে কী হয়।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘রহস্যপূর্ণ কৌশল’ নতুন নয়— অতীতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন ধোঁয়াশাপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

  • ইরান-ইসরায়েল শান্তি চুক্তি সময়ের ব্যাপার মাত্র—ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ময়কর দাবি

    ইরান-ইসরায়েল শান্তি চুক্তি সময়ের ব্যাপার মাত্র—ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ময়কর দাবি

    এবিএনএ:

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী যে, দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনায় থাকা ইরান ও ইসরায়েল এখন শান্তির পথে হাঁটতে যাচ্ছে। তার মতে, এই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খুবই নিকটবর্তী।

    নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব দ্রুতই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তির সূচনা দেখতে পাব। বহু ফোনকল এবং বৈঠক ইতোমধ্যে চলছে।” তবে এই আলোচনার ধরন বা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

    ❖ আগে যুদ্ধের প্রশংসা, এখন শান্তির বার্তা

    যখন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, ট্রাম্প সেই আক্রমণকে “দারুণ” এবং “সফল” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। অথচ বর্তমানে তিনি শান্তি স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন—যা তার অবস্থানে এক ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

    ❖ বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে মার্কিন ভূমিকা ধোঁয়াশাপূর্ণ

    ওয়াশিংটন ভিত্তিক রিপোর্টার রোসিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, ট্রাম্পের “অনেক কল ও বৈঠক” নিয়ে কথা বলা এই প্রথম—যেখানে বর্তমান বাইডেন প্রশাসন এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কূটনৈতিক কার্যক্রমে এখন দ্বৈত বার্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি আংশিকভাবে সীমিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার পূর্বাভাস ওয়াশিংটন আগেই পেয়েছিল, এবং সেই অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ❖ মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান

    বর্তমান মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইরান-ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতকে কোনোভাবেই বাড়তে দিতে চায় না। পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হলেও, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ওয়াশিংটনের আগ্রহ অটুট রয়েছে।

    বিশ্ব কূটনীতিতে এই মুহূর্তে ইরান-ইসরায়েল ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের দাবি বাস্তব হয়ে উঠলে, তা হবে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।


    📌 মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বিশ্লেষণ পেতে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।

  • চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইরানকে আবারও সতর্কবার্তা

    চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইরানকে আবারও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ:

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি তেহরান চুক্তিতে না আসে, তবে পরবর্তী হামলা আরও ভয়ঙ্কর হবে।

    ট্রাম্প শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমি তাদের অনেকবার সতর্ক করেছি, বলেছি—এখনই সময় চুক্তিতে আসার। কিন্তু তারা তা করেনি। রক্তপাত আর ধ্বংস এরই মধ্যে অনেক হয়েছে, তবে সব কিছু শেষ হওয়ার আগে এখনও সময় আছে।”

    তিনি আরও বলেন, “যা একসময় পারস্য সাম্রাজ্য ছিল, তা রক্ষা করো। আর কোনো প্রাণহানি নয়, আর কোনো ধ্বংস নয়। এখনই সিদ্ধান্ত নাও, নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।”

    এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এলো যখন রবিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি নিয়ে ষষ্ঠ দফার আলোচনা হবার কথা রয়েছে। আলোচনার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পরিকল্পনা তিনি আগেই জানতেন। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন—এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

    প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৩২০ জনের বেশি।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—

    • মোহাম্মদ বাঘেরি, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

    • হোসেইন সালামি, আইআরজিসি প্রধান

    • ঘোলামালি রশীদ, সামরিক কমান্ডার

    • ফেরেয়দুন আব্বাসি, পরমাণু বিজ্ঞানী ও এআইওআই-এর সাবেক প্রধান

    • মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি, পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী

    এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানি।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইসরায়েলের হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সামরিক সঙ্কটের সূচনা হতে পারে। এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, সেটাই দেখার বিষয়।