Tag: ট্রাম্প

  • মিশিগানে গির্জায় ভয়াবহ হামলা: বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪, আহত বহু

    মিশিগানে গির্জায় ভয়াবহ হামলা: বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪, আহত বহু

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক বন্দুকধারীর হামলায় কেঁপে উঠল একটি গির্জা। গাড়ি চালিয়ে গির্জার ভেতরে ঢুকে তিনি গুলি চালান ও আগুন ধরিয়ে দেন। এতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।

    ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টস গির্জাটিতে রোববার সকালের প্রার্থনা চলছিল। কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন এ সময়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী থমাস জ্যাকব স্যানফোর্ড গির্জার কার পার্ক এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    স্থানীয় পুলিশ প্রধান উইলিয়াম রেনেই জানান, হামলাকারী প্রথমে গাড়ি নিয়ে গির্জায় ঢুকে পড়ে এবং অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে গির্জার ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নিহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময় মাত্র আট মিনিট স্থায়ী হয়। রেনেই বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, হামলাটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।”

    ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে এফবিআই। ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, বোমা বিশেষজ্ঞসহ শতাধিক এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজনের বাড়ি ও ফোন রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিশিগান পুলিশের মুখপাত্র কিম ভেট্টে জানান, হামলার সঙ্গে বোমার হুমকিরও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গির্জার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রার্থনার সময় এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করি।”

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে “আমেরিকায় আবারও খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, তদন্ত এফবিআইয়ের নেতৃত্বে হবে।

    এদিকে, মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমের ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য সহিংসতা’ বলে নিন্দা জানান। দেশটির সাবেক সিনেটর ও বিশিষ্ট মরমন নেতা মিট রমনি বলেন, “আমার ভাই-বোনেরা এবং তাদের গির্জা সহিংসতার শিকার হয়েছে, এটি এক গভীর ট্রাজেডি।”

    মিশিগানের এই ভয়াবহ গির্জা হামলা আবারও তুলে ধরল যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতা।

  • ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মার্কিন শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও। শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৯০০-এরও বেশি স্থানে

    শিকাগো টিচার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন পোটার জানান, এই কর্মসূচি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে এবং অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। আমরা এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারি না।”

    ‘ওয়ার্কার্স অভার বিলিয়নেয়ার’ ব্যানারে আয়োজিত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ১৪ জুন ‘নো কিংস’ শীর্ষক এবং ২ আগস্ট আরও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি সারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়েছিল। তবে এবারের শ্রমিক দিবসের বিক্ষোভের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের কৌশল, যার লক্ষ্য রিপাবলিকান প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার।

    নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, মায়ামি, আটলান্টা, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেট্রয়েট, ডেনভারসহ প্রায় সব বড় শহরেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আলাস্কা, আলাবামা, নেব্রাস্কা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওকলাহোমা, লাসভেগাস, হাওয়াই, মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ছোট-বড় শহরেও একযোগে বিক্ষোভ চলবে।

    শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, এ কর্মসূচি শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

  • আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    এবিএনএ:  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবার আলাস্কার একটি হোটেলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি শর্ত দেন— ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, তবে সম্মুখসারির যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে জানান, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার হাতে গেলে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আর অগ্রসর হবেন না। বর্তমানে এই দুই অঞ্চলের বড় অংশ রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররাও বলেছেন, বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

    এদিকে বৈঠককে ঘিরে এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, আলাস্কার ক্যাপ্টেন কুক নামের চার তারকা হোটেলের প্রিন্টারে পাওয়া গেছে বৈঠক সংক্রান্ত আট পৃষ্ঠার গোপন নথি। এতে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার স্থান, সময় এবং মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ ছিল। অতিথিদের হাতে পাওয়া এই নথির ছবি এনপিআর যাচাই করেছে।

    এই নথি ফাঁসের ঘটনা বৈঠককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে পুতিনের এই শর্ত শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ভূরাজনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টির কৌশল।

  • ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: অগ্রগতি হলেও চুক্তিহীন, ইউক্রেনে হামলার সাইরেনে স্পষ্ট বার্তা

    ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: অগ্রগতি হলেও চুক্তিহীন, ইউক্রেনে হামলার সাইরেনে স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ:  আলাস্কার এলমেনডর্ফ বিমানঘাঁটিতে লাল গালিচায় ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে শুরু হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠক। শুরুতে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও বৈঠক যত এগোয়, ততই তা অস্পষ্ট হতে থাকে।

    প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর দুই নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘোষণা দেন, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি কেউই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমাধান আসেনি।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, তবে বড় কিছু অর্জন করতে পারিনি। আলোচনা চলবে, চুক্তির সম্ভাবনা এখনো আছে।” এসময় পুতিন হেসে উত্তর দেন, “পরেরবার মস্কোতে।”

    তবে বৈঠকের ঠিক সময়েই ইউক্রেনে হামলার সাইরেন বাজতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে পুতিনের শক্তির প্রদর্শন বলেই মনে করছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, বৈঠকে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কেবলমাত্র তাদের দুজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। ফলে টারমাক থেকে বৈঠকের কক্ষে যাওয়ার সময় লিমোজিনে দুই নেতার গোপন আলাপই থেকে গেল রহস্যে ঘেরা।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করার পর থেকেই পুতিনের মুখে ছিল হাসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে থাকা পুতিন এই বৈঠকের মাধ্যমেই সম্মান পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্প-পুতিনের করমর্দনকে “ঐতিহাসিক” হিসেবে প্রচার করা হয়। বৈঠকে বড় কোনো চুক্তি না হলেও পুতিন যেন কূটনৈতিকভাবে নিজের বিজয়টাই হাসিমুখে ঘোষণা করলেন।

  • পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    এবিএনএ:  প্রায় চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আলাস্কায়। আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় অ্যাঙ্কারেজের এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন যৌথ বিমানঘাঁটিতে বসবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বিকেলের বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ওয়াশিংটনে ফিরবেন। বৈঠকের আগে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি নিয়ে আসছেন না, বরং উদ্দেশ্য পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসানো। তাঁর মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে নেতৃত্ব দেবে ইউরোপ, এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং বহু মানুষের জীবন রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে সতর্ক করে দেন—পুতিন যদি যুদ্ধ থামাতে রাজি না হন, তবে রাশিয়াকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

    আলাস্কায় যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, পুতিন সঙ্গে রুশ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি তিনি ইতিবাচক মনে করছেন। তবে যুদ্ধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া স্বাভাবিক বাণিজ্য সুবিধা পাবে না। আলোচনায় অগ্রগতি হলে বাণিজ্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, বৈঠকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান উপস্থাপন করবে, তবে ফলাফল নিয়ে আগে থেকে কিছু বলবেন না। পুতিন ইতোমধ্যে আলাস্কায় পৌঁছেছেন, এর আগে তিনি রাশিয়ার মাগাদান শহরে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও একটি শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেছেন।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বৈঠক শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া–ইউক্রেন ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখছি।”

  • ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    এবিএনএ:  রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের আগে এক ঝটিকা সফরে জার্মানি গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার বার্লিনে পৌঁছে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এ সফরের সময় জেলেনস্কি চ্যান্সেলরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টিও ওই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। আগামী শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনার কথা রয়েছে, যা জেলেনস্কির এই সফরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেন কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছাড় দিতে পারে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দোনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার যে কোনো প্রস্তাব কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করবে। তার মতে, এমন ছাড় ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে।

    রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। এএফপি জানিয়েছে, রুশ সেনারা পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডোব্রোপিলিয়ার কাছে আকস্মিক হামলা চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার জবাব কিয়েভ কঠোরভাবে দেবে এবং এটি রাশিয়ার এক ধরনের কৌশল, যাতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে নিজেদের অগ্রগতি তুলে ধরা যায়।

    এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, মস্কো জাপোরিঝিয়া, পকরোভস্ক ও নভোপাভলভ এলাকায় নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াই জিতেছে এবং ইউক্রেন ইতোমধ্যেই পরাজিত হয়েছে।

  • ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে দরিদ্র দেশগুলোর কোটি টাকার লবিং যুদ্ধ!

    ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে দরিদ্র দেশগুলোর কোটি টাকার লবিং যুদ্ধ!

    এবিএনএ: বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কয়েকটি দেশ মার্কিন প্রভাবশালী রাজনীতিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ লবিস্টদের মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করছে। তাদের উদ্দেশ্য— ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা বজায় রাখা বা পুনরুদ্ধার করা।

    সোমালিয়া, হাইতি, ইয়েমেনসহ অন্তত ১১টি দেশ ইতোমধ্যে ট্রাম্প-সম্পর্কিত লবিস্টদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব দেশের বেশিরভাগই মার্কিন ত্রাণ সংস্থা ইউএসএইড-এর পূর্বতন সুবিধাভোগী। ট্রাম্প জানুয়ারিতে পুনরায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পরই ইউএসএইড বন্ধের ঘোষণা দেন, যা গত সপ্তাহে কার্যকর হয়েছে।

    গ্লোবাল উইটনেসের তদন্ত বলছে, ইউএসএইড বন্ধ হওয়ার পর কিছু দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে খনিজ সম্পদ, ব্যবহার করে রাজনৈতিক লবিংয়ে জড়িয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো উল্লেখযোগ্য, যারা মার্কিন খনিজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ১৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ লবিং ফার্ম ব্যালার্ড পার্টনার্সের সঙ্গে ১২ লাখ ডলারের চুক্তি করে কঙ্গো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে চাইছে।

    উল্লেখ্য, ব্যালার্ড পার্টনার্স ২০১৬ সাল থেকেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ, এমনকি তাঁর নির্বাচনী প্রচারে অন্যতম বড় দাতা হিসেবেও পরিচিত।

    এদিকে, সোমালিয়া ও ইয়েমেন বিজিআর গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স নামক লবিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে যথাক্রমে ৫.৫ লাখ ও ৩.৭২ লাখ ডলারে। বিজিআরের সাবেক অংশীদার শন ডাফি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

    বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চুক্তিগুলো মানবিক সাহায্যের বদলে প্রাকৃতিক সম্পদের বিনিময়ে হতে পারে, যা দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আরও দুর্বল করে তুলবে। গ্লোবাল উইটনেসের ট্রানজিশন মিনারেল বিভাগের প্রধান এমিলি স্টুয়ার্ট বলেন, “এই দেশগুলো এখন আরও বেশি মরিয়া। ফলে তারা তাদের মূল্যবান সম্পদ শোষণের ঝুঁকিতে পড়ছে।”

    বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে, ধনী দেশগুলোর সঙ্গে দরিদ্র দেশগুলোর এমন সম্পর্ক নতুন করে ভাবনার জন্ম দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    এবিএনএ:

    ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেই আলোচনায় পুতিন জানান, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেন যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার জবাব রাশিয়াকে দিতেই হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মস্কো আগে থেকেই বলেছিল—যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো শান্তি আসছে না, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।”

    এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ১২ মার্কিন রাজ্যের আইনি লড়াই

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ১২ মার্কিন রাজ্যের আইনি লড়াই

    এবিএনএ: 

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্য। প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে শুল্ক আরোপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তারা ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

    নিউ ইয়র্ক, ইলিনয়, ওরেগনসহ মোট ১২টি ডেমোক্রেটিক-শাসিত রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, যা তার সাংবিধানিক ক্ষমতা লঙ্ঘন করে।

    তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প “জাতীয় জরুরি অবস্থা” ঘোষণার মাধ্যমে একচেটিয়াভাবে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন করে দেশীয় শিল্পকে রক্ষার অজুহাতে বহির্বিশ্ব থেকে পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছেন।

    ⚖️ আদালতে শুনানি শুরু:

    ম্যানহাটন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল মামলার শুনানি শুরু করেছে। মামলাকারী রাজ্যগুলোর যুক্তি, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি নয় বরং এটি একটি অর্থনৈতিক ইস্যু, যা ‘জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমদানির তুলনায় রফতানি কম হওয়া দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় শিল্পখাতের জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করেছে।

    📌 পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

    এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল শুল্কনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের রায় আগামী সপ্তাহে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে একই আদালতে ক্ষুদ্র ব্যবসা সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি আদালত রাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তবে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে শুল্ক আরোপের পথ কঠিন হয়ে পড়বে।

  • যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ডলার, তাকেই করমর্দন করলেন ট্রাম্প!

    যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ডলার, তাকেই করমর্দন করলেন ট্রাম্প!

    এবিএনএ:  যে নেতার মাথার দাম ছয় মাস আগেও ছিল কোটি মার্কিন ডলার, সেই আহমেদ আল-শারার সঙ্গেই হাত মেলালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারা আজ আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    সিরিয়ার সাবেক যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী তকমা পাওয়া নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি এখন পরিচিত আহমেদ আল-শারা নামে। তিনি নেতৃত্ব দেন হায়াত তাহরির আল-শামকে—যা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট আল-নুসরা ফ্রন্ট থেকে জন্ম নিয়েছিল।

    ডিসেম্বরে হায়াত তাহরির আল-শাম সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। শারা ক্ষমতায় আসার পরপরই কূটনৈতিকভাবে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে উদ্যোগী হন।

    এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই সিরিয়ার নতুন সরকারকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এবং ‘অ-যুদ্ধমুখী’ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা শুরু করেন শারা। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলস্বরূপ, ডিসেম্বরে দামেস্ক সফরে আসে একটি উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র শারার বিরুদ্ধে জারি করা কোটি ডলারের পুরস্কার বাতিল করে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প শারার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা মিনিটে, যা শেষ হয় ৩৩ মিনিট পর। এই বৈঠককে ট্রাম্প ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একটি নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    আন্তর্জাতিক মহলে এই বৈঠক সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন নতুন কূটনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে, আবার কেউ একে আখ্যা দিচ্ছেন “অবাক করা কৌশলগত পলিসি শিফট”।

    এক সময় যাকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, এখন সেই নেতার হাতেই বিশ্বশক্তির নেতারা রাখছেন বিশ্বাসের বার্তা।