Tag: টিয়ারশেল

  • সায়েন্সল্যাবে রণক্ষেত্র: ঢাকা কলেজ–আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের তীব্র সংঘর্ষ, বন্ধ মিরপুর রোড

    সায়েন্সল্যাবে রণক্ষেত্র: ঢাকা কলেজ–আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের তীব্র সংঘর্ষ, বন্ধ মিরপুর রোড

    এবিএনএ: রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সায়েন্সল্যাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা কলেজ ও ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উভয় কলেজের শিক্ষার্থীরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতিতে জড়ায়। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হলেও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর রোডের নিউমার্কেট অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। মিরপুর থেকে নিউমার্কেট এবং উল্টো দিকের সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৯ নভেম্বর নিউমার্কেট থানার উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবারও উভয় কলেজের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে ঢাকা কলেজের দুটি বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

  • সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষ, গাড়ি ও বাসে ভাঙচুর

    সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষ, গাড়ি ও বাসে ভাঙচুর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার দুপুরে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সরিয়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

    দুপুর সোয়া একটার দিকে ঘটনাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা সংসদ এলাকা থেকে বেরিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তারা পুলিশের গাড়ি, ট্রাক ও বাসে ভাঙচুর চালান।

    টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে থমথমে পরিস্থিতি

    পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আশপাশের জনসাধারণ আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে।

    এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সংসদের দক্ষিণ গেটের সামনের সড়কে ও তাবু এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    সংসদ এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে

    দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পুলিশ পুরো সংসদ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালায়।

    অন্যদিকে খামারবাড়ি সড়কেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

    সংঘর্ষের সূত্রপাত

    এর আগে সকাল ১০টার দিকে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত’ সদস্যরা বিভিন্ন দাবিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো ও আহতদের স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা প্রয়োজন।

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদ এলাকা এক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। যদিও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে, তবু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি সামাজিক সংলাপ ও সহনশীলতার প্রয়োজন এখন আরও বেশি বেড়েছে।