Tag: টিআইবি

  • রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    এবিএনএ: নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে দেশের নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষ এবং বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তির দাপট, ধর্মীয় ব্যবহার ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে—যা প্রান্তিক ভোটারদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    সোমবার নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না—সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। টিআইবির পক্ষ থেকে বিষয়টি কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কমিশনার সানাউল্লাহ তাদের উপস্থাপিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

    নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ না করে অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি ও নীতিমালা জোরদার করা দরকার। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    এবিএনএ: বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পর এক সাংবাদিক ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

    টিআইবির মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এভাবে নাগরিককে তুলে নেওয়া আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। সংস্থাটি এটিকে ‘অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিহীন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমালোচনা দমনের ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে।

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবি জানায়, এনইআইআর নীতিমালা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানানোর ফলেই সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। কখনো বলা হয় “তথ্য যাচাইয়ের জন্য”, আবার কখনো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পদবির কারণ দেখানো হয়—যা টিআইবির মতে পরস্পরবিরোধী ও অসংগত ব্যাখ্যা।

    এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মতভিন্নতা দমনে গভীর রাতে কাউকে কারণ না জানিয়ে তুলে নেওয়া কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক প্রথার উদাহরণ। অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী সমন পাঠানো এবং আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “শুধু ব্যক্তিবদল নয়, গোয়েন্দা সংস্থাসহ নজরদারি কাঠামোর মৌলিক সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে এমন নজরদারি সংস্কৃতি চলতে থাকলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কঠিন হবে।”

    সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সমালোচকদের শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতা আত্মঘাতী। সংবাদ সম্মেলন করা বা সরকারী নীতির সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়; বরং সংবিধানের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”

    টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, এনইআইআর সম্পর্কিত মতামত দেওয়ার কারণে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কাপুরুষোচিত আঘাত। এটি শুধু দেশের সংবিধান নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

  • কর্তৃত্ববাদীদের পতন হলেও কর্তৃত্ববাদী চর্চা বহাল: খুলনায় টিআইবির নির্বাহীর খোলামেলা মন্তব্য

    কর্তৃত্ববাদীদের পতন হলেও কর্তৃত্ববাদী চর্চা বহাল: খুলনায় টিআইবির নির্বাহীর খোলামেলা মন্তব্য

    এবিএনএ:  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন হলেও দেশে কর্তৃত্ববাদী চর্চা আজও বহাল রয়েছে।”

    শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত **‘ইলেকশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’**য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ভার্চুয়ালি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “হেফাজতে মৃত্যু, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, ঘুষ, অযাচিত গ্রেপ্তার এবং জামিন বাণিজ্য—সবকিছুই চলছে পুরনো ধারাতেই। এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

    এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং নিরপেক্ষ ও পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে কি না, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কতটা সুষ্ঠু—এসব দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।”

    দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে খুলনার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন টিআইবির ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, সহায়তায় ছিলেন আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।

    রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন তুলি, টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং ফ্রিল্যান্স ডাটা জার্নালিস্ট মুহাম্মদ ইমরান।

    ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে জনগণের আস্থা অর্জন করা। অতীতের মতো দলীয় প্রভাবিত নির্বাচন বা পর্যবেক্ষক নিয়োগ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভোটারদের অধিকার রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার অবস্থা পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব।”

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আগামী নির্বাচনে পরাজিত শক্তি নিশ্চুপ বসে থাকবে না। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হচ্ছে কি না এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে কি না—এসব দিকেও সাংবাদিকদের নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন।”

  • টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    এবিএনএ:   সরকারের ছত্রছায়ায় একটি রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে যে দলটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে, সেটি ‘সবাই জানে’—এনসিপি, এমন মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

    সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “এটা আর গোপন কিছু নয়—সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে সেই ‘কিংস পার্টি’। দলটির সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, একজন উপদেষ্টা পদ ছেড়ে সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আর বাকি দুইজন রয়েছেন সরকারের বর্তমান উপদেষ্টা পদে—এ থেকেই প্রমাণ হয় কারা কাদের সহযোগিতায় রাজনীতির নতুন মোড় তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও নানা বিষয়

    টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে,
    দলটি গঠিত হয়েছে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছায়া থেকে।
    – জনগণের কাছে জবাবদিহি, সুশাসন ও স্বচ্ছতার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।
    – অর্থের উৎস অস্বচ্ছ, দখলদারিত্ব, দলবাজি, এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক সংস্কৃতি ধারণ করছে।
    – এর মাধ্যমে আত্মঘাতী পথে হাঁটছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি।

    এছাড়া, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,
    “নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এখন একটি রোডম্যাপ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্থিতিশীল, তা বলা যায় না।”

    সতর্কতা টিআইবির

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
    বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও প্রশাসনে যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অনেক ঘাটতি দেখা গেছে বলে মন্তব্য করা হয়।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি।”