Tag: ঝড়ো হাওয়া

  • টানা বৃষ্টির সতর্কতা, চার বিভাগে ভারী বর্ষণ

    টানা বৃষ্টির সতর্কতা, চার বিভাগে ভারী বর্ষণ

    এবিএনএ: দেশের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দেশের কয়েকটি বিভাগে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আগামী কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৩ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

    কোথায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশালের দু-এক জায়গায়ও বৃষ্টি হতে পারে।

    এ সময় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

    পাঁচদিনজুড়ে থাকতে পারে বৃষ্টির প্রবণতা

    আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এ সময় দেশের অন্যান্য বিভাগেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    রোববার পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে দেশের কিছু এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকতে পারে।

    তাপমাত্রায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সময় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টদেরও আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে টানা ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে মাছ ধরার শত শত ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন নিরাপদ খালে। মোংলা, কচিখালী, কটকা, সুপতি ও দুবলা এলাকা থেকে শুরু করে শরণখোলা এবং রাজৈর উপকূলেও দেখা গেছে ট্রলারভর্তি খাল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। ফলে সমুদ্রজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ংকর ঢেউ ও ঝড়ো বাতাস। এরই প্রেক্ষিতে মোংলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, উত্তাল সমুদ্রের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

    বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অসংখ্য ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে ঠাঁই নিয়েছে। যেহেতু ১ জুন থেকে সুন্দরবনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই এই ট্রলারগুলোর উপর কড়া নজরদারি চলছে। কেউ আশ্রয়ের অজুহাতে মাছ ধরতে গেলে, তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা হবে।”

    মোংলা বন্দরে টানা বৃষ্টির কারণে পণ্য ওঠানামাও ব্যাহত হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সাতটি জাহাজে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েকদিনেও সাগরে ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোতেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুমি বায়ু। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঘন বজ্রমেঘ, যা উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার, ২০ জুন, আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরজুড়ে বায়ুচাপের তারতম্য ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর ফলে বজ্রমেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এর প্রভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে যেন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামুদ্রিক ঝুঁকি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তাই উপকূলীয় জনপদ ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।