Tag: জ্বালানি সংকট

  • ২৫ মার্চে ব্ল্যাকআউট বাতিল: শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা

    ২৫ মার্চে ব্ল্যাকআউট বাতিল: শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা

    এবিএনএ:  একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যা স্মরণে সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানানো হয়, নির্ধারিত ২৫ মার্চ রাতের ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি আর বাস্তবায়ন করা হবে না।

    এর আগে, ২৩ মার্চ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল—গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী অন্ধকার কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রসঙ্গত, এরও আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ বছর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ২৫ মার্চের ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তও জ্বালানি সাশ্রয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুরুতে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। বিশেষ করে NATO সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখানোয় ওয়াশিংটন অস্বস্তিতে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান কৌশল না থাকায় এখন চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। সাবেক কূটনীতিক Aaron David Miller মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের মতে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য। কিন্তু মিত্রদের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও স্থলযুদ্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন—তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনমত তার বিপক্ষে যেতে পারে।

    অন্যদিকে, হঠাৎ করে ‘বিজয় ঘোষণা’ দিয়ে সরে আসার কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরান আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। বর্তমানে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত রেখেছে।

    সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক—সব দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও মস্কো তেহরানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। এই বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    তবে কূটনৈতিক আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে রাশিয়া কতটা সহায়তা দিচ্ছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিছু ইরানি বিশ্লেষকের মতে, দেশটি দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সংকটের মুখে থাকলেও মস্কোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা মিলছে না।

    এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের কারণে। সেখানে দাবি করা হয়, রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিল—যদি ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানকে তথ্য সরবরাহ বন্ধ করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা লাভবান হলেও পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। মস্কোর আশঙ্কা, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

  • ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এবার ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার কারণে শুরুতে স্বস্তি থাকলেও নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট।

    পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে বাসচালক ও মালিকদের। ফলে সময়মতো বাস ছাড়তে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে। এর আগে চার দিনের টানা ছুটির কারণে এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।

    ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুতেও তেমন চাপ নেই বলে জানা গেছে।

    তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, তেলের অপ্রতুলতা এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাস কোম্পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ট্রিপ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

    বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাপ বাড়লেও তেলের অনিশ্চয়তার কারণে বাসের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে।

    অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহনে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সামনে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। সেই চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

    সব মিলিয়ে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও ‘তেলের টেনশন’ এখন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • জ্বালানি সংকটে ঈদের আগে বিপাকে যাত্রী: ঢাকা–ইলিশা রুটে গ্রীন লাইনের নৌযান চলাচল বন্ধ

    জ্বালানি সংকটে ঈদের আগে বিপাকে যাত্রী: ঢাকা–ইলিশা রুটে গ্রীন লাইনের নৌযান চলাচল বন্ধ

    এবিএনএ: জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা–ইলিশা নৌপথে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী নৌযানের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক যাত্রী।

    নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান Green Line Water Ways Limited জানিয়েছে, তাদের যাত্রীবাহী জাহাজ MV Green Line-3 শুক্রবার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করতে পারেনি। একই কারণে শনিবারও নৌযানটির যাত্রা স্থগিত থাকবে।

    শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহে অপ্রত্যাশিত সংকট তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জ্বালানি অপ্রাপ্যতার কারণে সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

    তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সবকিছু ঠিক থাকলে ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে ইলিশার উদ্দেশ্যে এমভি গ্রীন লাইন-৩ আবারও যাত্রা শুরু করবে।

    নৌপরিবহন কোম্পানিটি যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক এই সমস্যার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ জানিয়েছে।

    ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে যাত্রা বাতিল হওয়ায় অনেক যাত্রীকে বিকল্প পরিবহনের কথা ভাবতে হচ্ছে।

  • যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্য বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

    জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সম্ভাবনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক লাফে ১২.৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১২.৬৬ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৫৬ ডলারে।

    দিনের লেনদেন চলাকালে এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা একদিনে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। অতীতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।

    সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক সরবরাহ ও ছয় মাস পরের চুক্তিমূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতির ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়, যা সাধারণত বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী কয়েক মাস উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব থাকতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩.২২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিকল্প সরবরাহের সুযোগ খুবই সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে কিছু তেল ছাড়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প হবে।

    উৎপাদন কমাচ্ছে তেল উৎপাদক দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদক দেশও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়েছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশেও মজুদ কমে আসায় উৎপাদন সীমিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

    কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও উৎপাদন কমিয়ে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। বাহরাইনের একটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলার পর জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

  • যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে জাহাজ, পৌঁছাতে পারে ১৪ মার্চ

    যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে জাহাজ, পৌঁছাতে পারে ১৪ মার্চ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ ও ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করার পর এটিই কাতারের প্রথম এলএনজি চালান বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার থেকে ছেড়ে আসা এই জাহাজটি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম সংকেত পাঠিয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

    জাহাজ ট্র্যাকিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার কাতারের এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে একটি ট্যাঙ্কার যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির পানির নিচের অংশের গভীরতা বা ড্রাফট লেভেল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লেব্রেথাহ’ নামের ট্যাঙ্কারটি কাতারের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি টার্মিনাল ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এটি আগামী ১৪ মার্চ বাংলাদেশের কোনো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ‘আল ঘাশামিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজেও এলএনজি লোড করা হয়েছিল। তবে সেটি এখনো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব জাহাজ শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি সরবরাহ যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, চলমান সংঘাতের কারণে সেই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ‘লেব্রেথাহ’ জাহাজটি আপাতত ভাসমান গুদাম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

    এর আগে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। সেই ঘটনার আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এসব চালান বা গন্তব্য নিয়ে কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন সীমা: মোটরসাইকেলে ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০:সরকারের জরুরি নির্দেশনা

    জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন সীমা: মোটরসাইকেলে ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০:সরকারের জরুরি নির্দেশনা

    এবিএনএ: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনায় দেশের ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি না করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানায়, এখন থেকে মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে।

    বিভিন্ন যানবাহনের জন্য নির্ধারিত সীমা

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার

    • প্রাইভেটকার: সর্বোচ্চ ১০ লিটার

    • জিপ বা মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার

    • পিকআপ বা স্থানীয় বাস (ডিজেল): ৭০ থেকে ৮০ লিটার

    • দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক (ডিজেল): সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার

    কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত

    বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে ডিলাররা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

    এছাড়া কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের উদ্যোগ

    বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে নিয়মিত তেল আমদানি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নতুন চালান দেশে আসছে এবং বিভিন্ন ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তা পাঠানো হচ্ছে।

    কর্তৃপক্ষ আশা করছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ বা অতিরিক্ত মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    তেল কেনার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত

    ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে বিপিসি।

    ১. তেল নেওয়ার সময় গ্রাহককে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রশিদ দিতে হবে।
    ২. পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের ক্রয় রশিদের মূল কপি দেখাতে হবে।
    ৩. ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করবেন।
    ৪. ফিলিং স্টেশনগুলোকে মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে।
    ৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো বরাদ্দ অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

    মূল্য বাড়েনি, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

    বিপিসি আরও জানিয়েছে, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি বাধ্যতামূলক। সংকটের অজুহাতে বেশি দাম নেওয়া আইনত অপরাধ।

    এছাড়া প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

    সরকার দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

  • রমজানে বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে গ্রাহকদের জন্য ৭ জরুরি নির্দেশনা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ

    রমজানে বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে গ্রাহকদের জন্য ৭ জরুরি নির্দেশনা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ

    এবিএনএ: বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি ও বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে পবিত্র রমজান মাস, গ্রীষ্মকাল এবং সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে গ্রাহকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার লক্ষ্যে গ্রাহকদের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, এসব নির্দেশনা মেনে চললে বিদ্যুতের অপচয় কমবে এবং সবার জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেচ মৌসুমে কৃষি কার্যক্রম চালু রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সেচ পাম্প রাত ১১টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয় নিশ্চিত করতে ‘ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই’ পদ্ধতিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিভাগটি। একইসঙ্গে দোকানপাট, শপিং মল, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

    নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। দুর্ঘটনা এড়াতে অবৈধ হুকিং বা অননুমোদিত বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ইজি বাইক, অটোরিকশা ও অন্যান্য ব্যাটারিচালিত যানবাহনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    পাশাপাশি বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে এসি, ওয়েল্ডিং মেশিন, লন্ড্রি মেশিন, ওভেন বা মাইক্রোওভেন, হিটার, পানির পাম্প, ইস্ত্রি এবং বৈদ্যুতিক বিলবোর্ডসহ বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, গ্রাহকেরা যদি এসব নির্দেশনা মেনে চলেন, তাহলে রমজান ও সেচ মৌসুমে সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অনেক সহজ হবে।