Tag: জ্বালানি খাত

  • ভারত থেকে আবারও এলো ৫ হাজার টন ডিজেল—জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত

    ভারত থেকে আবারও এলো ৫ হাজার টন ডিজেল—জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ভারত থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ধাপে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।

    জানা গেছে, ভারতের শিলিগুড়ির নুমালীগড় রিফাইনারি টার্মিনাল থেকে এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গভীর রাতে, প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে তেল পরিবহন সম্পন্ন হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পাইপলাইনে ডিজেল পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

    পার্বতীপুর ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব চৌধুরী জানান, কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে চার ধাপে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।

    তিনি আরও জানান, এর আগের মাসেও একই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক সরবরাহ দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করছে এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।

  • পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    এবিএনএ: কারিগরি ত্রুটি মেরামত শেষে আদানি পাওয়ারের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হয়েছে। দুই ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রি

    কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে থাকা আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট মেরামত শেষে আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির দুই ইউনিট থেকেই এখন পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

    পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটের দিকে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে দুই ইউনিট থেকেই একযোগে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। নিরাপত্তার কারণে তখন ইউনিটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আংশিক কমে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও কিছুটা প্রভাবিত হয়।

    ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, সমস্যা সমাধান করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ায় এখন আবার স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে প্ল্যান্টটি।

    দুই ইউনিট একসঙ্গে চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ডে বাড়ছে উৎপাদন।

  • ২০ হাজার কোটি টাকা না পেলে অন্ধকারে দেশ! গ্রীষ্মেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

    ২০ হাজার কোটি টাকা না পেলে অন্ধকারে দেশ! গ্রীষ্মেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

    এবিএনএ:  আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। তবে এই অর্থ সময়মতো না পেলে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে গড়ে ব্যয় হচ্ছে ১২ টাকার বেশি, সেখানে তা বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় ৭ টাকায়। ফলে প্রতিটি ইউনিটে উল্লেখযোগ্য লোকসান গুনতে হচ্ছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করছে সরকার।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা ও পরিকল্পনার অসামঞ্জস্য এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়ার চাপ বড় একটি কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরের বেশিরভাগ সময় অলস থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তাদের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

    তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে শুধুমাত্র এই খাতেই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এই ভর্তুকি প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ দরকার। এছাড়া বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি এবং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও বিপুল ব্যয় হচ্ছে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর চাপও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভর্তুকির ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে, যা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় দাম সমন্বয় ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    সব মিলিয়ে, প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দ্রুত নিশ্চিত না হলে গ্রীষ্মকালেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।

  • জ্বালানি খাতে কড়া নজরদারি: দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বসছে ট্যাগ অফিসার

    জ্বালানি খাতে কড়া নজরদারি: দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বসছে ট্যাগ অফিসার

    এবিএনএ: দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এবার দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সিদ্ধান্ত

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাম্পগুলোতে সরাসরি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মনোনীত করবেন। উপজেলা পর্যায়ে এই দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, যারা তাদের আওতাধীন প্রতিটি পাম্পের জন্য একজন করে কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন।

    দায়িত্ব ও কার্যক্রম

    নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন। তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে পেট্রোল পাম্পগুলোর কার্যক্রম তদারকি করা এবং প্রতিদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করা।

    সরকারের লক্ষ্য

    সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আসবে এবং অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি খাতকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

    পরবর্তী নির্দেশনা

    সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে দ্রুত ট্যাগ অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন করে তাদের তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।