Tag: জেলে অপহরণ

  • সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক ফের চরমে: ১০ জেলে অপহৃত, দুই দিনেও নেই উদ্ধার—পরিবারে উৎকণ্ঠা

    সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক ফের চরমে: ১০ জেলে অপহৃত, দুই দিনেও নেই উদ্ধার—পরিবারে উৎকণ্ঠা

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের দস্যুমুক্ত ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুর্র্ধষ বনদস্যুর প্রায় ৮/১০টি বাহিনী। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে অপহৃত ১০ জেলের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও বনের গহীন অঞ্চলে জিম্মি থাকা এসব জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য আসেনি।

    এদিকে বনদস্যু ‘করিম শরীফ বাহিনী’ অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা।

    বন বিভাগ ও স্থানীয় জেলেদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার রাতে পুর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা স্টেশনের আওতাধীন বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে একদল জেলে নৌকায় করে মাছ ধরছিলেন। এসময় প্রায় ১৫-২০ জন জেলের একটি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে এবং মারধর করে তাদের কাছে থাকা মালামাল লুটে নেয়। একপর্যায়ে ১০ জেলেকে অপহরণ করে বনের গহীন অন্ধকারে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায় তারা।

    অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তারা হলেন, নাসির শেখ’র ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল শিকদার ও ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি ৫ জেলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাদরে নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রিয়জনের এমন নিখোঁজ সংবাদে ওই পরিবারগুলোর মাঝে এখন চলছে চরম আতংঙ্ক।

    অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দস্যুরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দাবী করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে জেলেদের মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বনের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জেলে প্রাণের ভয়ে বন ছেড়ে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন, যার ফলে উপকূলীয় মৎস্য আহরণ খাতে বড় ধরণের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তারা বনের বিভিন্ন সম্ভাব্য পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ এবং দস্যুদের ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাদঁপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারাও কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বিতভাবে যোগাযোগ করছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এক সময় র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সাড়াসি অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর প্রশাসনের টহল বা তৎপরতা কিছুটা শিথিলতার সুযোগে সুন্দরবনের পুনরায় নতুন নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ জেলেদের জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিত করতে পুনরায় ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সুন্দরবনের এই অপহরণ কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। যদি দ্রæততম সময়ে এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করা না যায় এবং দস্যু দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বনজীবী সাধারণ মানুষের মাঝে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ,মোংলা : বনদস্যু শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে অন্তত ১০ জেলেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করছে।

    এর মধ্যে ৫ জন বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকিরা মোরেলগঞ্জ এলাকার । সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্যতা নিশ্চিত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন।

    মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম নাসিম উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে ১১ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্য। এরমধ্যে সবুর নামের এক জেলে  ২০ হাজার টাকা বকেয়া রেখে  ফিরে এসেছে। তার বাবা নাম আব্দুল হামিদ। সে সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা । এছাড়াও একই এলাকার মানিক শেখ,  আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার, ওয়াহিদ মুন্সি কে জিম্মি রেখেছে। এসময়  মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও ৫ জন তাদের হাতে জিম্মি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    দস্যুরা এখনও পর্যন্ত মুক্তিপন বিনিময় কি দিতে হবে তা জানায়নি।

    অপরদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা  লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল  আরেফিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তারা তথ্য যাচাই ও বিশেষ নজরদার শুরু করেছেন।

  • সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। ‘আল আমিন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র দস্যু তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অপহৃত জেলে মিজান শেখ (৪০) মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজ্জাক শেখের ছেলে।

    মিজানের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই আল আমিন শেখ জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি (পাস) নিয়ে তারা গত ১৪ মার্চ সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মাছ ও কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। ১৬ মার্চ রাতে বনাঞ্চলের একটি খালে অবস্থানকালে হঠাৎ করে দস্যুরা তাদের ঘিরে ফেলে।

    এ সময় দস্যুরা মিজান শেখকে জোরপূর্বক নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে থাকা আল আমিন শেখকে নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি বাড়িতে গিয়ে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের খবর দেন।

    অপহরণের পরপরই বনদস্যুরা মিজানকে মুক্তি দিতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় মিজানের বড় ভাই হুমায়ন শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ঋণ করে জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েছিল আমার ভাই। এখন একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চাপ—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।”

    তবে মোংলা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মহরম জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় কর্মরত জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

  • সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সুন্দরবনে থামছেনা বনদস্যুদের হাতে জেলে অপহরণ। বুধবার রাতে আরো দুই জেলেকে অপহরণন করেছে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা। শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়–য়াগাং এলাকায় বনদস্যুরা এই ৩ জেলেকে অপহৃত হয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে।

    তারা হলেন, রায়হান (২২) ও সুমন (২৪) এদের বাড়ী বাগেরহাটের শরণখোলার শরণখোলা গ্রামে। অপরদিকে,অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুইমহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।

    সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডে নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে।

    সুন্দরবনের শুটকি জেলে পল্লী শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইল ফোনে এতথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিন পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে ও বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল। এদেও মধ্যে মুক্তি পাওয়া ১৪ জেলে রয়েছে।

    এদিকে শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে গতকাল শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ: সুন্দরবন জুড়ে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে সাগর ও নদীঘেঁষা জনপদে জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের দাবিতে নিপীড়নের খবরে গত কয়েক দিনে বহু জেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রাণভয়ে সাগরে নামা বন্ধ করায় উপকূলজুড়ে কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা ঘাটে নোঙর করে আছে। স্থানীয় মহাজনদের দাবি, এতে শেষ মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যু দমনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বনের ভেতরে বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু হয়েছে। দুবলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ দুর্গম খাল ও চ্যানেলে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার বা দস্যু আটক সম্ভব না হলেও অভিযান থামছে না। অপহৃতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং বনাঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করাই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    জেলে প্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্ধার ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাগরে নামতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

  • বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ, মো.শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দস্যুরা বেপরোয়া হওয়ায় জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে।

    পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সেমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জেলেকে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন, হরিদাস বিশ্বাস (৫০),গোপাল বিশ্বাস (৪৫),রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস(৩৫),তুষার বিশ্বাস(৪০),মনিরুল বিশ্বাস (৪৮), ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। এদের বাড়ী খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
    এ ছাড়া সোমবার দিবাগত রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমনজাহাঙ্গীর বাহিনী হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোলের ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। অপহৃত জেলেরা হচ্ছে, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস,শিবপদ বিশ্বাস,রশিদ সরদার,প্রকাশ বিশ্বাস,ইয়াসিন মোড়ল,শিমুল,রুপ কুমার বিশ্বাস,গণেশ বিশ্বাস,উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এ সকল জেলেদের বাড়ী পাইকগাছা,কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে । দস্যুদের দমন করা না গেলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন বলে কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • সুন্দরবনে আতঙ্ক: জেলেদের নৌকায় হানা, দুই জেলেকে তুলে নিলো জাহাঙ্গীর বাহিনী

    সুন্দরবনে আতঙ্ক: জেলেদের নৌকায় হানা, দুই জেলেকে তুলে নিলো জাহাঙ্গীর বাহিনী

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা (বাগেরহাট): পূর্ব সুন্দরবনের টিয়ারচর এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী দুই জেলেকে অপহরণ করেছে। শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শেলারচর থেকে অপহৃত জেলেদের মহাজন মোঃ মিজান বহদ্দার রবিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, শনিবার (১০ জানুয়ারী) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরবনের টিয়ারচর এলাকায় নদীতে মাছ ধরারত অবস্থায় তার জেলেদের নৌকায় চড়াও হয় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। তার দুই জন জেলেকে দস্যুরা তাদের ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়। দস্যুরা মুক্তিপণের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য অন্য জেলেদের কাছে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন,সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার খাজুরা এলাকার আবু হানিফ (৩২) ও খায়রুল ইসলাম (৩০)। জেলে অপহরণের ঘটনায় শেলারচরের জেলেদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে বলে মিজান বহদ্দার জানিয়েছেন।

    শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী খুলনার আরিফ হোসেন মিঠু জানান, গোটা সুন্দরবনে বনদস্যুদের তান্ডবে এখন জেলে মৎস্যজীবিরা দিশেহারা। দস্যুদের নীরবে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা দিয়ে জেলেদের মাছ ধরতে হচ্ছে। দস্যুদের আগে টাকা না দিলে জেলেদের অপহরণ করছে দস্যুরা। এমন কি গত মাসে তার ৪ জন জেলেকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর বাহিনী। দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তার জেলেদের মুক্ত করে এনেছেন জানিয়ে ব্যবসায়ী মিঠু সুন্দরবনে দস্যু দমনে র‍্যাব ও কোষ্টগার্ডের অভিযান জোরদারের দাবী জানিয়েছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শেলারচর ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার আঃ সবুর টিয়ারচরে দুই জেলেকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের নবাগত রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম টিয়ারচরে জেলে অপহরণের বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

     

  • বঙ্গোপসাগরের মোহনায় উত্তেজনা: দুই নৌকাসহ ৯ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

    বঙ্গোপসাগরের মোহনায় উত্তেজনা: দুই নৌকাসহ ৯ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হয়েছেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ৯ জন বাংলাদেশি জেলে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মাছ ধরার নৌকাও জব্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহপরীর দ্বীপ থেকে চারটি মাছ ধরার নৌকা সাগরে গিয়েছিল। মাছ শিকার শেষে ঘাটে ফেরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিলে দুটি নৌকা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকি দুটি নৌকা আটক হয়।

    আটক হওয়া নৌকাগুলোর মালিক শাহপরীর দ্বীপের ডাংগর পাড়ার বাসিন্দা রাশেদ ও মো. ফারুক। অপহৃত জেলেদের সংখ্যা মোট ৯ জন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় নৌঘাট সংশ্লিষ্টরা।

    শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া নৌঘাটের সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, “সকালে আমাদের ঘাটের নৌকাগুলো সাগর থেকে ফিরছিল। হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দেয়। এতে দুইটি নৌকা ও ৯ জন জেলে তাদের হাতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

    এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “দুটি নৌকাসহ ৯ জন জেলেকে ধরে নেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, গত প্রায় দশ মাসে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী সাগর এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে বিজিবির মধ্যস্থতায় প্রায় ২০০ জন জেলেকে বিভিন্ন সময়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ১৫০ জন জেলে তাদের হাতে আটক রয়েছেন। এ কারণে উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেক জেলে।

  • সেন্টমার্টিন উপকূলে আরাকান আর্মির হামলা: তিনটি ট্রলারসহ ২১ জেলে অপহরণ

    সেন্টমার্টিন উপকূলে আরাকান আর্মির হামলা: তিনটি ট্রলারসহ ২১ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ:  সেন্টমার্টিন উপকূলে নাফ নদীতে আবারও ভয়াবহ সশস্ত্র হস্তক্ষেপ করল মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’। এবার তিনটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ২১ জন জেলেকে অপহরণ করেছে সংগঠনটি।

    স্থানীয় বোট মালিক ও জেলে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাটে ফেরার পথে সেন্টমার্টিনের মেরুল্ল্যা এলাকার কাছ থেকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।

    টেকনাফ কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির পরিচালক সাজেদ আহমেদ বলেন, “আমাদের ঘাটের তিনটি ট্রলারসহ ২১ জন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল মিয়ানমারের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় স্থানীয় জেলেরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।”

    ঘটনার শিকার ট্রলারগুলোয় ছিলেন আয়ুব মাঝি, আবদুল হামিদ মাঝি ও নুরু মাঝি। ট্রলারগুলো বর্তমানে মিয়ানমারের মেরুল্ল্যা খালে নোঙর করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম বলেন, “ঘন ঘন এই অপহরণে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। সরকারিভাবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।”

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৪ জুন আরাকান আর্মি একইভাবে ১৫ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার অপহরণ করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত আট মাসে এভাবে প্রায় ২৩০ জন জেলে অপহরণ করেছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। যদিও পরে ২০০ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

    এ বিষয়ে টেকনাফের ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন জানান, “ঘটনার খবর পেয়েছি, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।”


    👉 সরকারের উচিত দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিকভাবে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো।