Tag: জুলাই আন্দোলন

  • ‘এসআইকে আগুনে পুড়িয়েছি’—ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি, হবিগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার

    ‘এসআইকে আগুনে পুড়িয়েছি’—ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি, হবিগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি থানায় আগুন দেওয়ার এবং এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন। এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাহদী হাসানকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক যুবককে আটক করে। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। আটকের প্রতিবাদে পরদিন মাহদী হাসানের নেতৃত্বে থানার সামনে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

    পুলিশ জানায়, আন্দোলনের একপর্যায়ে মাহদী হাসান সরাসরি ওসির কক্ষে প্রবেশ করে নিজেকে জুলাই আন্দোলনের নেতা দাবি করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি অতীতে থানা পোড়ানো ও পুলিশের সদস্যকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো সহিংস ঘটনার দাবি করেন, যা প্রশাসনের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরে আটক যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে হুমকির ভিডিও ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • “গোলাম হতে চাই না”– আদালতে নিজ বক্তব্য রাখলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

    “গোলাম হতে চাই না”– আদালতে নিজ বক্তব্য রাখলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

    এবিএনএ: ঢাকায় আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন।

    আদালতে রিমান্ড শুনানিতে আনিস আলমগীর বলেন, “একটি নির্দিষ্ট দল আমাকে তাদের গোলাম বানাতে চায়। কিন্তু আমি তাদের হালুয়া-রুটি খাবো না। সাংবাদিক হিসেবে আমার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। আমি তা করবো।”

    এর আগে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার ইন্সপেক্টর মুনিরুজ্জামান আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে আনিস আলমগীরকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাজির করা হয়। তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও হাতকড়া পরেই আদালতে ওঠেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে আনিস আলমগীর দেশদ্রোহী কার্যক্রম ও উস্কানিমূলক বক্তব্যে জড়িত। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী নাজনীন সুলতানা বলেন, তিনি একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিক্ষক, এবং তার বক্তব্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অংশ।

    আদালতে নিজ বক্তব্যে আনিস আলমগীর বলেন, “যুদ্ধে তালেবানরা আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। মৃত্যু ভয় আমাকে আর তাড়াতে পারে না। খালেদা জিয়ার আমলেও প্রশ্ন করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও করেছি, এখনো করি এবং করবো।”

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরও কিছু গ্রুপ দেশের অবকাঠামো ধ্বংস ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম চালানোর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠন পুনরায় সক্রিয় করার প্রচেষ্টা চলছে।

    আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে রাখার আদেশ দেন।

  • ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে আসা রিকশাচালক আজিজুর এখন কারাগারে

    ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে আসা রিকশাচালক আজিজুর এখন কারাগারে

    এবিএনএ:  রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা রিকশাচালক আজিজুর রহমান শেষ পর্যন্ত কারাগারে গিয়েছেন। গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের আদেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    শনিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত এই নির্দেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

    শুক্রবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাধারণ মানুষের হাতে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। আদালতে তার পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আটকের আগে আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কেবল বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি বলেই হালাল উপার্জনের টাকায় ফুল কিনে এখানে এসেছিলাম। আমার উদ্দেশ্য রাজনীতি নয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা।”

    মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী মো. আরিফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি, পেট্রোল বোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি দীর্ঘ দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এ বছরের ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

    তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুর রহমানকে ওই হত্যাচেষ্টা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।

  • হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পেলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার

    হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পেলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার

    এবিএনএ: উত্তরার হত্যাচেষ্টা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী শমী কায়সার। সোমবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    রোববার (১০ আগস্ট) বিচারপতি এএসএম আবদুল মবিন ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তার আবেদনের শুনানি হয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উত্তরা আজমপুর এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্র জুবায়ের হাসান ইউসুফসহ আরও অনেকে।

    পরবর্তীতে ২২ আগস্ট জুবায়ের থানায় মামলা করেন। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলার আসামিদের তালিকায় ছিলেন শমী কায়সারও।

    গত বছরের ৫ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উত্তরার সেক্টর-৪ এর বাসা থেকে আটক করে। পরদিন তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ নয় মাসের আইনি প্রক্রিয়ার পর এবার হাইকোর্টের আদেশে মুক্তির স্বস্তি পেলেন তিনি।

  • রাজশাহীতে এনসিপি নেতার বিতর্কিত হুমকি: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বক্তব্য

    রাজশাহীতে এনসিপি নেতার বিতর্কিত হুমকি: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বক্তব্য

    এবিএনএ,রাজশাহী :
    রাজশাহীতে এক রাজনৈতিক পদযাত্রা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার রাতে রেলগেট থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হওয়া এনসিপির এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি ওই বক্তব্য দেন।

    জিরো পয়েন্টে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন মিডিয়া যেভাবে খুনি হাসিনার পক্ষ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তা জাতি ভুলে যাবে না। আজ আবারও তারা মাঠে নেমেছে এক-এগারোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে। আমরা সাংবাদিক নামধারী এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করব। জনগণ তাদের ছাড় দেবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলন চলবে জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আমাদের এই লড়াই শেষ হবে তখনই, যখন গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থেই ফিরে আসবে।”

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ ধরনের মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে দেখছেন। তবে এই বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    পদযাত্রা ও সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান, পোস্টার এবং ব্যানার ব্যবহার করা হয়।

    এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং অবিলম্বে দুঃখপ্রকাশ ও ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছে।

    এনসিপি’র এই বক্তব্য শুধু বিতর্কই নয়, রাজনৈতিক পরিবেশকেও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে, মিডিয়া ও রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।