Tag: জুলাই অভ্যুত্থান

  • বরিশালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার, হত্যা মামলার অভিযোগে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে

    বরিশালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার, হত্যা মামলার অভিযোগে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে

    এবিএনএ: জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। রবিবার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল নগরীর বাংলা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সিআইডির গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে থাকা তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উক্ত মামলাটি ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়, যেখানে মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এবং তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর আসামি। একই মামলায় শেখ হাসিনার নামও রয়েছে।

    এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সেই হত্যা মামলায় তৌহিদের বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিল। সংগঠনটির দাবি ছিল, আফ্রিদি কেবল বর্তমান সরকারের সময়েই নয়, ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের প্রচারণায়ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    জেআরএ তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২৬ ঘণ্টার মধ্যে আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অবশেষে আজ রাতে সিআইডির বিশেষ অভিযানে তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত হলো।

  • জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—একটি হলো জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্যটি আগামী নির্বাচনের ঘোষণা। বিএনপি উভয় ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “বিগত এক বছরে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেসব শহীদ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”

    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে দেবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতি একটি দোলাচলের অবসান ঘটাল।”

    বিএনপি নেতার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে এবং তা হবে ইতিহাসের অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা আশা করি, জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।”

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই দিনে ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন হয়েছিল। সেই রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামের যে ফসল, এখন তা গণতন্ত্রের শিকড়ে রোপণ করতে হবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হয়েছে এবং জাতির ভবিষ্যতের কাঠামো কীভাবে হবে তা নিয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সই সম্পন্ন হবে এবং তা বাস্তবায়নে বিএনপি সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে।”

    এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের এই ঘোষণার ফলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং নাগরিক জীবন আবার গতিশীল হবে।”

    এভাবেই জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের প্রস্তুতির মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে একটি নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তের দিকে—এই বার্তাই দিচ্ছে বিএনপি।

  • সংস্কার ছাড়া ভোট মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    সংস্কার ছাড়া ভোট মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে তা জনগণের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ও পল্টনে পৃথক দুই সমাবেশ ও গণমিছিলে এই হুঁশিয়ারি দেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির দাবি

    ঢাকা মহানগর উত্তরের সমাবেশে ডা. তাহের বলেন, “গতানুগতিক পদ্ধতিতে আর কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের রক্তে রঞ্জিত জুলাই বিপ্লবকে যদি অগ্রাহ্য করে কোনো পক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে, তবে তা ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”

    তিনি বলেন, দলটি সংসদ নির্বাচন পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে চায়, যাতে ভোট চুরি, কেন্দ্র দখল কিংবা অর্থের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হয়। তার মতে, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল পিআর ব্যবস্থাতেই সম্ভব।

    বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা

    বিএনপির প্রস্তাবিত নির্বাচন পদ্ধতির বিরোধিতা করে ডা. তাহের বলেন, “যাদের জনগণের সমর্থন নেই, তারাই পিআর ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন। তারা মাস্তানি ও টাকার জোরে নির্বাচনে জিততে চায়।” তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি বা আপনার পরিবার আন্দোলনের অংশ ছিলেন না, তাই দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার মতো সংস্কার আনুন।”

    দক্ষিণে সমাবেশে পরওয়ারের বক্তব্য

    পল্টনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক কিংবা জুনে—প্রথমে দরকার সঠিক সংস্কার ও অতীত গণহত্যার বিচার।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “একটি দল নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক মনে করে সংস্কারকে নিজের মতো চালাতে চায়। তারা এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছে।”

    পরওয়ার আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন, তেমনভাবেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্ভব। তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।”

    মিছিল ও শেষ বক্তব্য

    উত্তরের গণমিছিল মহাখালী থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় মগবাজার চৌরাস্তায় এবং দক্ষিণের মিছিল পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যায়। দুই সমাবেশেই দলীয় নেতারা সরকারের প্রতি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন—সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে না এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।

  • জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকার সম্মাননা, শাহবাগে মশাল মিছিল

    জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকার সম্মাননা, শাহবাগে মশাল মিছিল

    এবিএনএ: ১৯ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকা স্মরণে রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী সংহতির মশাল মিছিল ও সমাবেশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের বলিষ্ঠ উপস্থিতি আন্দোলনের গতি ও চেহারা বদলে দিয়েছিল।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতির সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামলী শীল। তিনি বলেন, “ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং নারী বিদ্বেষ এখনো উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “নারী প্রশ্নকে সামনে রেখে একটিমাত্র রাজনৈতিক শক্তি এ লড়াইকে এগিয়ে নিতে পারবে না, দরকার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।”

    নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ বলেন, “জুলাইয়ে নারীদের রাস্তায় নেমে সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণ স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইকে নতুন মাত্রা দেয়। রাতের শহরে নারীদের দখলই আন্দোলনের চেহারা বদলে দেয়।”

    সহ-সাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা ১৩৫ শিশু ও ১১ নারী শহীদের নাম পাঠ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদদের হত্যার বিচার ও আহতদের পুনর্বাসনের দাবি তোলেন।

    বক্তব্য রাখেন গ্রন্থ প্রবর্তনার পরিচালক সীমা দাস সামু, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী সাইদিয়া গুলরুখ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিন্নাত আরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রুপসী চাকমা, মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মামাচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের অমল ত্রিপুরা এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধি।

    বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালে এসেও নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাঙ্গনে নিষেধাজ্ঞা, সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়তে হবে।

    সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মশাল মিছিলটি শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য হয়ে আবার শাহবাগেই এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও মশাল হাতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দেন।

  • সরকারই বলুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত迟 কেন: প্রশ্ন তারেক রহমানের

    সরকারই বলুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত迟 কেন: প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে।” শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জুলাই মাসে সংঘটিত অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এ সভায় তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা বারবার বলেছি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন হয়নি, সেটা সরকার ব্যাখ্যা করুক।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “যেসব ইস্যুর কোনো ভিত্তি নেই, সেগুলোকে ঘিরেই এখন অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভেতরেও আগের সরকারের দোসররা রয়ে গেছে, যারা এখনো নানা বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যারা ব্যাহত করতে চায়, তাদের একটি অদৃশ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে। কারা এই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে—আমরা জানি, জনগণও জানে।”

    তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে দায়িত্ব আপনাদের দেওয়া হয়েছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের বিচার—এগুলো কোনো দলের নয়, গোটা দেশের স্বার্থের প্রশ্ন।”

    সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নিহতদের স্বজন ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকলে দ্রুত বিচারের দাবি জানান এবং সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    এবিএনএ: জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি। তবে তারা চায় না এই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। পরিবর্তে দলটি সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে “জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪” উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতিসহ একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১১তম দিনের সংলাপ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ হয় না। ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও মূল সংবিধানে ছিল না, বরং পরে তপশিলে যুক্ত হয়। একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানকেও চতুর্থ তপশিলে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।”

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ়ভাবে চাইছে—জুলাই ঘোষণা যেন সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় জায়গা পায়। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতিমালা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

    ঘোষণাপত্র ও সংবিধান বিতর্ক
    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, “সরকার এনসিপির ইচ্ছায় বিএনপির সঙ্গে ঘোষণাপত্র নিয়ে মধ্যস্থতা করছে। কিছুদিন আগে সরকারের এক উপদেষ্টা বিএনপিকে নতুন একটি খসড়া দিয়েছে, যাতে আগের মতামতের কিছু প্রতিফলন আছে।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি ও জুলাই অভ্যুত্থান একই তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

    এদিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “এই ঘোষণাকে তপশিলে রেখে গুরুত্ব খাটো করা চলবে না। এটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকতে হবে।”

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ভিন্ন মত
    সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন দুটি প্রস্তাব উঠে আসে। একটিতে সংসদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি—তিনটি দলই জানায়, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মত দেবে।

    বিএনপি চায়, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে একটি বিকল্প হিসেবে রাখার সুযোগ রাখা হোক। জামায়াত চায়, অতীতের মতোই সাবেক প্রধান বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের ধারা থাকুক। আর এনসিপি প্রস্তাব করেছে, সংসদের উচ্চকক্ষের ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হোক।

    প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ
    কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। জামায়াত, এনসিপি ও আরও কয়েকটি দল এই প্রস্তাবে একমত। তবে বিএনপি চায়—জ্যেষ্ঠ তিন বিচারপতির মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিন। পরবর্তীতে বিএনপি প্রস্তাব করে, জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্যে থেকেই নিয়োগ দেওয়া হোক।

    কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলবে। সালাহউদ্দিন জানান, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত নেই, তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন—এটাই বিএনপির আপডেট প্রস্তাব।

  • বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে পৃথক সচিবালয়: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে পৃথক সচিবালয়: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    এবিএনএ: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই সম্ভব হবে, যখন একটি পৃথক সচিবালয় গঠিত হবে। এতে বিচার বিভাগ হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে পারবে এবং এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।”

    রবিবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার।

    ড. ইউনূস বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে বিচার বিভাগ প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল। একটি কার্যকর, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা গঠনে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থান আমাদের এমন একটি সুযোগ এনে দিয়েছে, যা আর কখনও আসবে না। এ ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

    তিনি মনে করিয়ে দেন, “জুলাই বিপ্লব কেবলমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্য ছিল না। এটি ছিল ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই বিপ্লবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা জেগেছে, তা পূরণ করতে এখনই সময়।”

    মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে চলমান ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই বিচারে জাতি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তা স্বল্পমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নয়। এটি এমন এক পরিবর্তন, যা বিগত ৫৪ বছরে হয়নি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনও দল এককভাবে কর্তৃত্ব করতে পারবে না।”

  • আশ্রয়ের আড়ালে জীবন রক্ষার গল্প — সেনানিবাসে আশ্রিত ৬২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ

    আশ্রয়ের আড়ালে জীবন রক্ষার গল্প — সেনানিবাসে আশ্রিত ৬২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ

    এবিএনএ: 

    জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের সংকটময় মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে যে ৬২৬ জন নাগরিক আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পরে সৃষ্ট ভয়াবহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বহু সরকারি দপ্তর, থানা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। চুরি, ডাকাতি ও মব জাস্টিসের মতো নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসে।

    এই বিপর্যয়ের মধ্যে, প্রাণ রক্ষার তাগিদে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ নাগরিক সেনানিবাসে আশ্রয়ের আবেদন জানান। মানবিক বিবেচনায়, তৎকালীন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে জীবন রক্ষাকেই গুরুত্ব দেয় সেনাবাহিনী।

    প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়— আশ্রিতদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন রাজনৈতিক নেতা, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন এনএসআই সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন কর্মকর্তা এবং ৫১ জন স্ত্রী ও শিশু। তাদের সবাইকে স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অধিকাংশই এক বা দুই দিনের মধ্যে নিরাপদে ফিরে যান।

    এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, আশ্রয়প্রদান ছিল সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণে এবং তা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আইএসপিআর সকলকে বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানায় এবং পুনরায় দৃঢ়ভাবে জানায় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আস্থার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল রয়েছে।