Tag: জীবনযাপন

  • বয়স বাড়লে কি প্রোটিনও বাড়বে? কোন বয়সে শরীরের ঠিক কতটা প্রোটিন দরকার জানলে চমকে যাবেন

    বয়স বাড়লে কি প্রোটিনও বাড়বে? কোন বয়সে শরীরের ঠিক কতটা প্রোটিন দরকার জানলে চমকে যাবেন

    এবিএনএ: বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নিয়ে মানুষের আগ্রহ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অনেকেই সুস্থ থাকার আশায় প্রতিদিন ডিমের সাদা অংশ, প্রোটিন শেক কিংবা নানা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শরীরের জন্য কি প্রতিদিন এত বেশি প্রোটিন প্রয়োজন?

    পুষ্টিবিদদের মতে, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে উপকারের বদলে কিডনি ও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    🔹 প্রাপ্তবয়স্কদের প্রোটিন চাহিদা

    সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন শরীরের প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী প্রায় ০.৮ গ্রাম। অর্থাৎ, ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের জন্য দিনে প্রায় ৫৫–৫৬ গ্রাম প্রোটিনই যথেষ্ট।

    🔹 শিশু ও কিশোরদের জন্য কতটা জরুরি

    শিশু ও কিশোর বয়সে শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।

    • ৪–৮ বছর বয়সে প্রতিদিন প্রায় ২০–২৫ গ্রাম

    • ৯–১৩ বছর বয়সে ৩০–৩৫ গ্রাম

    • ১৪–১৮ বছর বয়সে ছেলেদের ৫০–৫৫ গ্রাম এবং মেয়েদের ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
      এই সময়ে ডিম, দুধ, ডাল ও মাছ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

    🔹 কর্মক্ষম বয়সে প্রোটিনের ভূমিকা

    ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সে শারীরিক পরিশ্রম ও কর্মব্যস্ততা বেশি থাকে। এ সময় পুরুষদের গড়ে ৫৫–৬০ গ্রাম এবং নারীদের ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা ভারী কাজ করেন, তাদের প্রয়োজন সামান্য বাড়তে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়।

    🔹 বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    ৬০ বছরের পর ধীরে ধীরে পেশি ক্ষয় শুরু হয়। তাই এই বয়সে শরীরের প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে, যাতে দুর্বলতা ও হাড়ের সমস্যা কমে।

    🔹 প্রোটিনের ভালো উৎস

    ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, পনির, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ প্রাকৃতিক প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস। তবে মনে রাখতে হবে—বেশি প্রোটিন মানেই বেশি সুস্থতা নয়। বয়স ও শরীরের প্রয়োজন বুঝে সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

  • শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমান? জানুন উপকারের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো

    শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমান? জানুন উপকারের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো

    এবিএনএ: শীতের মৌসুম এলেই রাতের বেলা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। অনেক সময় ভারী লেপ বা কম্বল ব্যবহার করেও পায়ের শীত কমে না। এ কারণে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঘুমানোর সময় মোজা পরেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অভ্যাসের ভালো-মন্দ দুই দিকই রয়েছে।

    মোজা পরে ঘুমানোর উপকারিতা

    ঘুম দ্রুত আসতে সহায়ক:
    চিকিৎসকদের মতে, পা উষ্ণ থাকলে শরীরের রক্তনালী প্রসারিত হয়, যা মস্তিষ্ককে বিশ্রামের সংকেত দেয়। ফলে অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের ঘুম দ্রুত আসতে পারে।

    পা ফাটা কমায়:
    শীতকালে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটার প্রবণতা বাড়ে। রাতে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে সুতির মোজা পরলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং পা নরম থাকে।

    রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে:
    ঠান্ডায় অনেকের আঙুল অবশ হয়ে যায় বা রঙ পরিবর্তন হয়। মোজা পরলে পায়ে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে, ফলে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমে।

    মোজা পরে ঘুমানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি

    রক্ত চলাচলে বাধা:
    অতিরিক্ত টাইট মোজা পায়ে চাপ সৃষ্টি করে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে ঝিঁঝিঁ ধরা বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

    সংক্রমণের আশঙ্কা:
    সারাদিন ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সিন্থেটিক মোজায় অতিরিক্ত ঘাম জমে দুর্গন্ধও হতে পারে।

    অতিরিক্ত গরম অনুভূতি:
    বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

    নিরাপদ থাকতে যা করবেন

    • ঢিলেঢালা সুতির বা নরম উলের মোজা ব্যবহার করুন

    • সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো মোজা পরুন

    • ঘুমানোর আগে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন

    • মোজা অস্বস্তিকর হলে কুসুম গরম পানিতে পা ধোয়া বা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে মোজা ব্যবহার করলে শীতে ঘুম হতে পারে আরামদায়ক, তবে অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বিপদ।