Tag: জাহাজ চলাচল

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    এবিএনএ:  বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি পুনরায় পুরোপুরি সচল করা তাদের জন্য কঠিন নয়, তবে এতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আর কিছুটা সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারব। তখন এখান থেকে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

    অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এই পথ দিয়ে ১৬টি জাহাজ অতিক্রম করেছে, যা টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    সংস্থাটি আরও জানায়, এসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চলাচল করছে এবং তারা লারাক দ্বীপ সংলগ্ন রুট ব্যবহার করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাহাজ নিরাপদে চালাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল হচ্ছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও অনেক কম।

    বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই রুটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।

  • সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ ফিরল, নতুন ১২ নিয়ম না মানলেই বাতিল ভ্রমণ

    সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ ফিরল, নতুন ১২ নিয়ম না মানলেই বাতিল ভ্রমণ

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফিরল সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পুনরায় চালু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। এবার থাকছে রাত কাটানোর বিশেষ সুবিধা, তবে মানতে হবে সরকারের দেওয়া ১২টি কঠোর নির্দেশনা। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না, এবং সব বুকিং করতে হবে অনলাইনে কিউআর কোড ও ট্রাভেল পাসসহ নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

    কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল সাতটায় যাত্রা শুরু করবে পর্যটকবাহী জাহাজ, এবং পরের দিন বিকেল তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরবে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামে মোট চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এবার টেকনাফ নয়, বরং কক্সবাজার থেকে সরাসরি বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে পর্যটকবাহী জাহাজ।

    সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আগে রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কম ছিল, ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এবার আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপ ভ্রমণে নতুন উদ্যমে শুরু হচ্ছে পর্যটন মৌসুম।

    পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার কঠোর নজরদারি থাকবে। নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে বাড়তি তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ পলিথিন, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, বারবিকিউ, সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, কেয়াবনে প্রবেশ, সামুদ্রিক প্রাণী শিকার বা ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    এছাড়া দ্বীপে কোনো মোটরচালিত যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চলাচল করবে না। নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো যায়।

    সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি সফল ও দৃষ্টান্তমূলক মডেলে পরিণত হবে।