Tag: জামায়াতে ইসলামি

  • রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান–এর উদ্যোগে আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    দলের পক্ষে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে বিএনপির মহাসচিবের বাসভবনে যান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াতপত্র হস্তান্তর করেন।

    আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এবং মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।

  • গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা, সেনাসদস্যদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জামায়াত প্রার্থী

    গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা, সেনাসদস্যদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জামায়াত প্রার্থী

    এবিএনএ: গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা প্রার্থীর পরিচয় জানতে চান। তখন তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী। সেনাসদস্যরা দলীয় পরিচয় জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করা হয়।

    এরপর ক্যান্টনমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ—এ কথা জানালে প্রার্থী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। একপর্যায়ে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তার আচরণের কারণে পুরো সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

    ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে সেনাসদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রার্থী নিজেও ফোনে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে গানম্যানসহ যাওয়ার অনুমতি চান।

    এ সময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভিডিও ধারণ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। সেনাসদস্যরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ভেতরে ভিডিও করা নিষিদ্ধ। তবে প্রার্থী দাবি করেন, তার গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

    দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর সেনাসদস্যরা জানান, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রার্থী সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন এবং সেখানে কোনো অস্ত্রধারী ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না—এটাই নিয়ম। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আর এগোয়নি। প্রার্থী গাড়ি ঘুরিয়ে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ত্যাগ করেন।

    ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বিধি, নির্বাচনী সময়ের সংবেদনশীলতা এবং রাজনৈতিক আচরণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

  • রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—পরিবারতন্ত্র ভাঙার ডাক জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

    রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—পরিবারতন্ত্র ভাঙার ডাক জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পরিবারতন্ত্র ও বংশানুক্রমিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা, যেখানে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে একজন রিকশাচালকও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবে।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনীতে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াত কাজ করবে এবং যারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, তাদের প্রথম সিদ্ধান্ত হবে দেশের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলা, দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, পুরোনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি জনগণ আর গ্রহণ করবে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের সম্মানহানির রাজনীতি জামায়াত কখনো মেনে নেবে না।

    বিএনপির প্রস্তাবিত বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ভাতা নির্ভর নয়, বরং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। তার ভাষায়, “আমরা বসে বসে ভাতা নেব না, আমরা কাজ সৃষ্টি করব। ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”

    ফেনীবাসীর উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে জামায়াত আমির জানান, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা নিরসনে কার্যকর বাঁধ নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলার চেষ্টাও করবে জামায়াত।

    জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি বজায় থাকলে মানুষ চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।

    শুক্রবার সকাল থেকেই ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় আমিরে জামায়াত সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। জনসভায় জামায়াত ও জোটভুক্ত দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জামায়াত নেতা নিহতের পর ঝিনাইগাতীতে আতঙ্ক: ফাঁকা সড়ক, বন্ধ বাজার, কড়া নিরাপত্তা

    জামায়াত নেতা নিহতের পর ঝিনাইগাতীতে আতঙ্ক: ফাঁকা সড়ক, বন্ধ বাজার, কড়া নিরাপত্তা

    এবিএনএ: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সুনসান নীরবতা লক্ষ্য করা যায়। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় উপজেলা সদর বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়।

    নিহত রেজাউল করিমের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ শেরপুরের শ্রীবরদীতে নেওয়া হবে। বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল জানান, একইদিন রাত সাড়ে ৮টায় গোপালখিলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    জেলা জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জানাজায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। পাশাপাশি জানাজা শেষে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

    এই সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

    উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই ঝিনাইগাতী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

  • শেরপুরের হত্যাকাণ্ডে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন জনতার পরীক্ষায়

    শেরপুরের হত্যাকাণ্ডে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন জনতার পরীক্ষায়

    এবিএনএ: শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় জনগণ এখন দেখতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং জাতিকে কেমন নির্বাচন উপহার দেয়।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বাক্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে মাওলানা রেজাউল করিম মারা যান।

    এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কোনো ধরনের গড়িমসি জনগণ মেনে নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমেই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি দল। নতুনভাবে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দুই দলের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ সময় এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে তারা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এনসিপি নিজস্ব উদ্যোগে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলেও জানান তিনি।

    জোটের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসন নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি শেষ সময়ে যোগ দেওয়ায় কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে, তবে মনোনয়নপত্র জমার পর আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে জোট কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

    এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি বা গণভোটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নেয় দলগুলো।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হবে, যেখানে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হবে। তবে সেই আলোচনায় ইতিবাচক ফল না এলে আট দলের জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    নেতারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিতে জনগণের প্রত্যাশা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তবে সরকারের নীরবতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও কঠোর হবে।

  • ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: সরকারের কার্যক্রমে স্বাধীনতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার নিজস্ব কোনো শক্তির ওপর নয়, বরং দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে টিকে আছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ আয়োজন করে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “এই সরকার দুই দলের ওপর নির্ভর করে চলছে—একটি তাদের নিজেদের সৃষ্টি, আরেকটি পুরনো দল। এই দুটি দল যা বলে, সরকার তা-ই বাস্তবায়ন করে। নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও এর প্রমাণ আমরা দেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যারা একসময় মুখ খুলতে সাহস পেত না, তারাই আজ চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। এ সাহস তারা কোথা থেকে পেল? তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে বোঝা যেত কার আসল জনসমর্থন কতটুকু।”

    মির্জা আব্বাস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই দলগুলোকে জেতানোর জন্য সরকার হয়তো অবৈধ উপায় অবলম্বন করতে পারে। আগের মতো রাতের ভোট দিনে, দিনের ভোট রাতে হতে পারে। দেশের জনগণ এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দলকে চায় না, তবুও তারা আজ বড় বড় কথা বলছে—এটা বিস্ময়কর।”

    জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতারই বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই শাসনভার চায়! ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, আর এখন ধর্মের নামে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীই দেশের ক্ষতি করেছে।”

    বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কখনো এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না। জাতিকে বিভক্ত করে ফায়দা লুটতে চাওয়া শক্তিকে বিএনপি কখনোই পুনর্বাসনের সুযোগ দেবে না।”

    সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন জটিলতা: বিএনপি-জামায়াত ভোটে রাজি নয়

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন জটিলতা: বিএনপি-জামায়াত ভোটে রাজি নয়

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। তারা বলছে, একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উপদেষ্টা বাছাই করবে, অন্যথায় সাবেক প্রধান বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করা হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংলাপে এই মতামত দেয় দল দুটি। তবে এনসিপিসহ বেশিরভাগ দল ভোটের মাধ্যমে উপদেষ্টা নির্বাচন করতে চায়।

    কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, বিরোধী ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি মিলে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি বিভিন্ন দলের প্রস্তাবিত নামের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে উপদেষ্টা নির্বাচন করবে।

    বিএনপি এই প্রস্তাবে একমত হয়নি। তারা চায়, সর্বসম্মতিতে নির্বাচন হোক, যাতে কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সুবিধা নিতে না পারে। জামায়াতও একই যুক্তি দেখিয়ে বলে, ভোট হলে হর্স ট্রেডিংয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে যেসব দল একমত নয়, তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে যেভাবে সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, এবারও সে রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হোক।

    জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে।

    কমিশনের নতুন একটি প্রস্তাব ছিল, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন। যদিও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এই কমিটির আওতার বাইরে থাকবে।

    সবমিলিয়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও উপদেষ্টা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও পরিষ্কার সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের আপত্তির মুখে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা আপাতত অনিশ্চিত।

  • ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একবার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা একটা লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এবার আরেকটা যুদ্ধ হবে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ, সেই লড়াইটাও আমরা জিতব।”

    তিনি আরও জানান, এই সমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে তিনজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের স্মরণে তিনি আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা কামনা করেন।

    জাতির অতীত সংগ্রামকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যদি আবু সাঈদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা দাঁড়াতেন না, যদি সেই সময় ২৪ জন জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ না গড়তেন, তবে আজ যারা অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের অবস্থান থাকত কোথায়?”

    তিনি আরও বলেন, শহীদদের ত্যাগকে ছোট করে দেখা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো শোভন নয়। যারা এমন করে, তাদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা বাসা বাঁধে।

    সামগ্রিকভাবে সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এই লড়াই কেবল দলের নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপরেখা।