Tag: জাপান

  • জাপানকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়ল ভারত, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে উত্থান

    জাপানকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়ল ভারত, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে উত্থান

    এবিএনএ: বৈশ্বিক অর্থনীতির শক্তির তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ভারত। ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। সরকারি পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার বর্তমানে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পরেই অবস্থান করছে।

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই জার্মানিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের অর্থনীতির আকার বেড়ে ৪ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে জাপানের সম্ভাব্য জিডিপি ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

    ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি। বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, শুল্ক চাপ ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল জনসংখ্যা ও তরুণ কর্মশক্তি ভারতের বড় শক্তি হলেও মাথাপিছু আয় এখনো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৯৪ ডলার, যা জাপান ও জার্মানির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, মুডিস, ওইসিডি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছর ভারত ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে।

    ভারতের সরকার জানিয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাঠামোগত সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দেশটি।

  • বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে—এমন এক নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোর-৫’ নামে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা করছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

    মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নথিতে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত এই জোট কার্যত ইউরোপপ্রধান জি৭ এবং আদর্শভিত্তিক প্রচলিত পশ্চিমা জোটগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কোর-৫ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাকবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। জি৭-এর আদলে নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। প্রাথমিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিকল্প বা গোপন নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে—এই ধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপকে এই জোটের বাইরে রাখার ভাবনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোর-৫ বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত চীন নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।

    সব মিলিয়ে, কোর-৫ জোট আপাতত আলোচনার স্তরেই থাকলেও, এই ধারণা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে আন্তর্জাতিক মহলকে।

  • ভারতে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনার দাবি ১৩০ কোটি রুপি!

    ভারতে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনার দাবি ১৩০ কোটি রুপি!

    এবিএনএ:  বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলকে মাঠে দেখতে হলে এবার ভারতীয় দর্শকদের খরচ করতে হবে আকাশছোঁয়া অর্থ। লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, এমিলিয়ানো মার্টিনেজদের নিয়ে গড়া দলটির প্রীতি ম্যাচ আয়োজনেই খরচ হতে যাচ্ছে শত কোটি টাকা।

    ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, নভেম্বরে কেরালায় নির্ধারিত এক ম্যাচের জন্য আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) দাবি করেছে ১৩০ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৮১ কোটি টাকা। এর সঙ্গে প্রতিপক্ষ দল ও অন্যান্য আয়োজন যোগ করলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি টাকায় ৫৫৬ কোটি)।

    এএফএ নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫ সালের বাকি সময়ে দুটি ফিফা উইন্ডোতে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ম্যাচ এবং নভেম্বরে ভারতের কেরালা ও অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডায় দুটি ম্যাচ খেলবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    কেরালার কোন শহরে ম্যাচ হবে কিংবা প্রতিপক্ষ কে হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মরক্কো, জাপান, কোস্টারিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে অবশ্যই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০–এর মধ্যে থাকতে হবে।

    সবশেষ ২০১১ সালে ভারত সফর করেছিল আর্জেন্টিনা। কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে সেই ম্যাচে খেলেছিলেন তরুণ মেসিও। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও ভারত সফরে আসছেন ফুটবল মহারথী।

    এছাড়া দলীয় সফরের পর ডিসেম্বর মাসে ব্যক্তিগতভাবেও ভারতে আসবেন মেসি। কলকাতা থেকে শুরু হবে তার ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম ট্যুর অব ইন্ডিয়া’, যা পৌঁছাবে আহমেদাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লিতে। সফরে মেসির ভাস্কর্য উন্মোচন, গোট কনসার্ট এবং গোট কাপে অংশগ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাপানের পূর্ণ সহায়তা চান ড. ইউনূস

    নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাপানের পূর্ণ সহায়তা চান ড. ইউনূস

    এবিএনএ, ঢাকা :

    বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক অভিযানে জাপানের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
    জাপানের জেট্রো ও জাইকার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার”-এ বক্তব্যে ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রতি এক গভীর সংকট থেকে উঠে আসছে। গত ১৬ বছর ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো ভূমিকম্প। এখন আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার গড়তে চাই—একটি নতুন বাংলাদেশ।”

    জাপানকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন প্রকৃত বন্ধু কঠিন সময়ে পাশে থাকে, আর জাপান আমাদের সেই বিশ্বস্ত বন্ধু। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে চাই।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ কেবল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি সভ্যতা নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসকে আমরা দেখাতে চাই যে, হ্যাঁ, এটা করা সম্ভব। এবং জাপানের সহায়তায় আমরা সেই বাস্তবতাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”

    মাতারবাড়ি উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। এটি শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে।”

    এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সমুদ্রপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দরজা’ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

    ড. ইউনূস জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু টেক্সটাইল খাত নয়, আরও বহুমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব।”

    জাপানের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার তাকেউচি শিনজিও বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিন্দু। জাপান বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় এবং আমাদের বেসরকারি খাতকে সে অনুযায়ী উৎসাহিত করছে।”

    তিনি যোগ করেন, “অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জাপান সবসময় পাশে থাকবে।”