Tag: জাতীয় নাগরিক পার্টি

  • ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বড় চমক: ২৫৩ আসনে ঐকমত্য, জামায়াত পাচ্ছে ১৭৯, এনসিপি ৩০

    ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বড় চমক: ২৫৩ আসনে ঐকমত্য, জামায়াত পাচ্ছে ১৭৯, এনসিপি ৩০

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বাধিক ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩০টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে দেওয়া হয়েছে ২০টি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন।

    তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য এখনো আসন চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও আসন সমঝোতার আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রাথমিক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে বাকি দলগুলোর আসন সমঝোতাও শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।

  • এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যার দিকে দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মাধ্যম এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ডা. তাসনিম জারা জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাঁরা তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন, তাঁদের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কারও অর্থ রাখার নৈতিক অধিকার তাঁর নেই।

    শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জারা লেখেন, সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কোনো দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েই তিনি পদত্যাগ করেন। ঢাকা-৯ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ডা. তাসনিম জারার নাম আলোচনায় থাকলেও পদত্যাগের ফলে সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। বিকল্প হিসেবে হুমায়রা নুরকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে, যদিও ওই আসন জামায়াত ছাড়বে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

    দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নারী নেতা জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এই তালিকায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ দলীয় নেতৃত্বের কাছে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

    ডা. তাসনিম জারা জানান, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষর সংগ্রহের আহ্বানও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তিনি গণচাঁদার মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন তিনি। বিকাশে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য একটি ফর্ম পূরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অনুদানের ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়া জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করে ৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট কিংবা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি নীতিগত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।

    শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, দলের ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে’ সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার আলোচনা দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কৌশলগত সুবিধার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছরে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নারী নেত্রীদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

    এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    নেতারা আরও বলেন, এনসিপি একটি গণঅভ্যুত্থান-উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় বহন করে। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের সমর্থকভিত্তি ক্ষয় হবে।

    চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

    স্মারকলিপির শেষে তারা সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যৎ জোটনীতি নির্ধারণে নীতিগত প্রশ্নগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে।

  • জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বারবার অবহেলিত হলে ভবিষ্যতে আবারও নতুন গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তিনি জানান, বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন এক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতা ছিল লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত ছিল তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

    শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজক ছিল ‘দৈনিক বণিক বার্তা’।

    তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল। তরুণদের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, যা ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য আন্দোলন।

    বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে দুটি বড় সংকট—কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ও শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত এবং তরুণ সমাজের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবায় ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন রাষ্ট্রীয় বিন্যাসে নগর পরিবহন ব্যবস্থা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে চান, কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া তা কখনো স্থায়ী হবে না। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে না।

    তিনি আরও বলেন, সমাজে যদি ফ্যাসিবাদী মনোভাব বজায় থাকে, তাহলে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কার্যক্রম চলছে, এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

  • ধানের শীষের বিপরীতে ‘শাপলা কলি’ নিয়েই মাঠে নামছে এনসিপি

    ধানের শীষের বিপরীতে ‘শাপলা কলি’ নিয়েই মাঠে নামছে এনসিপি

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়েই অংশ নিতে চায়। রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা ইতোমধ্যে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’, ‘শাপলা কলি’ এবং আরও একটি প্রতীকসহ মোট চারটি প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন।

    তিনি জানান, “যদি নির্বাচন কমিশন আমাদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি দেয়, তাহলে এনসিপি সেটিকেই গ্রহণ করবে।” দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এই প্রতীককে স্বাগত জানাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ এবং ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আমরা আশা করছি। এনসিপি জনগণের সমর্থন নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নেমে শক্ত অবস্থান নিতে চায়।

  • “আমলাতন্ত্রই দেশের সবচেয়ে বড় বাধা”— এনসিপির বিপক্ষে কাজের অভিযোগ সামান্তা শারমিনের

    “আমলাতন্ত্রই দেশের সবচেয়ে বড় বাধা”— এনসিপির বিপক্ষে কাজের অভিযোগ সামান্তা শারমিনের

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেছেন, দেশের অনেক আমলা নিয়মিতভাবে এনসিপির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে যুক্ত হতে চাইছে, কিন্তু প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

    রোববার রাজধানীতে বস্তিবাসী ও শহীদ পরিবারের ক্ষতিপূরণ আদায় সংগ্রাম পরিষদের এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুর রহিম।

    সামান্তা শারমিন বলেন, “আমলারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে কাজ করছেন। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এলেও, জনগণের কল্যাণে তারা কতটা কার্যকর, সেটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “একসময় মানুষ তাদের দাবির বিষয়ে শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করত, এখন সেই একই মানুষ প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ কেন সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাবে? রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব তো আমলাদেরই নেওয়া উচিত।”

    এনসিপি নেত্রী মনে করেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আমলাতন্ত্র। তাঁর ভাষায়, “আমলাতন্ত্র এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রেস ক্লাবের সামনে মাদ্রাসার শিক্ষকরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন—এমন ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ। একজন সচিব চাইলে সহজেই এসব সমস্যার সমাধান করতে পারতেন।”

    তিনি আহ্বান জানান, “আমলাদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে, কাগজে নয়—বাস্তবে। জনগণের দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক হলে দেশের প্রতিটি সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।”

  • নিবন্ধন বাতিল ১২১ দলকে ইসির চিঠি, মাঠপর্যায়ে তদন্তে ২২ দল

    নিবন্ধন বাতিল ১২১ দলকে ইসির চিঠি, মাঠপর্যায়ে তদন্তে ২২ দল

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে। এর অংশ হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪৩টি দলের মধ্যে ১২১টি দলকে বাতিলের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন ইসির উপসচিব মাহবুব আলম শাহ।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সব দলকেই শর্ত পূরণের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মাত্র ৮৪টি দল সেই আহ্বানে সাড়া দেয়। এর মধ্যে ৬২টি দল অতিরিক্ত তথ্য জমা দিলেও তা শর্ত পূরণে যথেষ্ট হয়নি।

    বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ২২টি দলের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কোন দলগুলো চূড়ান্ত নিবন্ধন পাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।

  • গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    এবিএনএ,গোপালগঞ্জ :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির পর গোপালগঞ্জে জারি করা কারফিউর সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন করে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।”

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছিল। পরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এবার তা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কারফিউ চলাকালীন জরুরি সেবার বাহন ব্যতীত অন্য সব ধরনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

    এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে গোপালগঞ্জ জুড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে বিতর্কে এনসিপি, ইসিতে আপত্তি তুলল ‘জনস্বার্থে বাংলাদেশ’

    মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে বিতর্কে এনসিপি, ইসিতে আপত্তি তুলল ‘জনস্বার্থে বাংলাদেশ’

    এবিএনএ: নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মোবাইল ফোন প্রতীক চেয়ে আবেদন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে ‘জনস্বার্থে বাংলাদেশ’ নামের একটি দল। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তারা মোবাইল ফোন প্রতীকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন এবং নিবন্ধনের সময়েও এই প্রতীক বরাদ্দ চেয়েছেন।

    সোমবার এক বিবৃতিতে ‘জনস্বার্থে বাংলাদেশ’-এর প্রেসিডেন্ট বাবুল হোসেন জানান, “আমরা নির্বাচন কমিশনের সব নিয়ম মেনেই মোবাইল ফোন প্রতীকের জন্য আবেদন করেছি। অথচ আমাদের আগেভাগে ব্যবহৃত প্রতীকটি এনসিপি দাবী করছে, যা ন্যায়সংগত নয়।”

    এই ইস্যুতে তিনি ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত এনসিপি সম্প্রতি, ২২ জুন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দেয়। প্রস্তাবিত প্রতীক হিসেবে তারা শাপলা চাইলেও বিকল্প প্রতীক হিসেবে চেয়েছে মোবাইল ফোন ও কলম।

    তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় শাপলা প্রতীক তালিকাভুক্ত না থাকায় বিকল্প প্রতীকগুলোকেই মূল বিবেচনায় আনতে পারে নির্বাচন কমিশন। এদিকে মোবাইল ফোন ও কলম প্রতীক চেয়ে ইতিমধ্যে আরও কয়েকটি দল আবেদন জমা দিয়েছে, যার ফলে প্রতীক নিয়ে জটিলতা বাড়ছে।

    ‘জনস্বার্থে বাংলাদেশ’ মনে করে, প্রতীক নিয়ে এই ধরণের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই সবার আগে যার দ্বারা প্রতীকের কার্যকর ব্যবহার প্রমাণিত—তাদের প্রতিই কমিশনের অগ্রাধিকার থাকা উচিত বলে দাবি করেছে দলটি।

  • ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর কোনো ফ্যাসিস্ট মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না: সারজিস

    ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর কোনো ফ্যাসিস্ট মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর কোনো ফ্যাসিস্ট, আর কোন হাসিনা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।’

    আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, ‘খুনীদের বিচারের প্রশ্নে, সংষ্কারের প্রশ্নে আমরা যতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ততদিন ওই খুনী হাসিনা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। যত নেতাই উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করুক না কেন, কেউ পারবে না।’

    সারজিস অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন বিদেশে বসে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে। তাদের কারো প্রপাগাণ্ডায় আমাদের কিছু আসে যায় না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যারা সামনে ছিলাম, তারা এক থাকলে কোনো দল বা ব্যক্তিকে সামনে রেখে কেউ আর দাঁড়াতে পারবে না।’

    এনসিপি নেতা বলেন, ‘জনগণের সামনে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ করব, কিন্তু জনগণের ভোগান্তি যেন না হয়, সেটা মনে রাখতে হবে। আগেও এখানে সমাবেশে হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি সমাবেশ শেষ করে ময়লা পরিস্কার করা হয়েছে। এই বাংলাদেশই আমরা চেয়েছিলাম।’

    আগামী জাতীয় নির্বাচন যেন পিআর পদ্ধতিতে হয়, সেই দাবি নিয়ে জোরেজোরে জাগতে হবে বলেও এসময় উল্লেখ করেন সারজিস।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাইয়েরা যেন টার্গেট কিলিংয়ের শিকার না হন। আগামীর বাংলাদেশে কেউ যেন টার্গেট কিলিংয়ের শিকার না হন। আমরা যতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ততদিন ওই খুনী হাসিনা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’