Tag: জাতীয় ঐক্য

  • একাত্তরের চেতনা ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না: তারেক রহমান

    একাত্তরের চেতনা ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না: তারেক রহমান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। একাত্তরের ইতিহাস ও চেতনাকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে যে নতুন বাস্তবতা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    বৈঠক শেষে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—এই চেতনাকে ধারণ করেই নব্বই ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে।

  • বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান বিজয় দিবসকে দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, এই দিন হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দিন।

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীনতা এবং লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন জাতিসত্তা। এ বিজয় আমাদের দায়িত্ব দেয় দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে স্বাধীনতার আলো স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হলেও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন করে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন উৎখাত হবে, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

    তিনি বলেন, “চলুন, স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিই। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই মিলে হাতে হাত রেখে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাই।”

  • ১৬ ডিসেম্বর: গৌরবের বিজয়, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও জাতির আবেগের মহাকাব্য: তারেক রহমান

    ১৬ ডিসেম্বর: গৌরবের বিজয়, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও জাতির আবেগের মহাকাব্য: তারেক রহমান

    এবিএনএ: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে অহংকার, আনন্দ ও বেদনার এক অনন্য অধ্যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে জাতি বিজয় অর্জন করে। এ উপলক্ষে তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানান এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    তারেক রহমান বলেন, একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রত্যাশা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র সংকুচিত করা হয়েছে এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

    গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ফলে সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বারবার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজয় দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এখন সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বিজয় দিবসে সবাইকে বিভাজন ও সহিংসতা পরিহার করে মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

  • “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন সম্ভব এবং সেই নির্বাচিত সরকারই দেশের নেতৃত্ব দেবে।” তিনি বলেন, উদার গণতন্ত্রে আস্থাশীল বিএনপি সবসময় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ সাংবাদিক পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

    ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন কমিশনকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন—এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ভোটাধিকার রক্ষায় আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।”

    বিএনপির সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের জন্যই সৃষ্টি হয়েছি। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তি দিয়ে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী প্রমাণ করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি জানান, তিনদিন আগে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

    সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “পুশইন কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। ভারতের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধান দরকার।”

    পানি বণ্টনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এখন জাতীয় স্বার্থের বিষয়।” একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে “জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার” আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

  • “গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যের ডাক”—জাতীয় ঐক্য ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার

    “গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যের ডাক”—জাতীয় ঐক্য ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শহীদদের রক্ত বৃথা না যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    খালেদা জিয়া বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র ও জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ লড়াইয়ে নিহতদের ত্যাগ আমাদের পথ দেখায়।” তিনি তাদের জন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।

    তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই দেশে একদলীয় শাসনের ভয়াবহতা চলছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে দমন করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

    বিএনপির চেয়ারপারসন এ সময় গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য তালিকা প্রণয়ন, ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, “এই রক্তের মূল্য দিতে হবে। বীরদের আত্মত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়। আমাদের সবার দায়িত্ব শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়া এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সভার শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও শহীদদের অবদান তুলে ধরা হয়।

    খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করি, জনগণের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করি এবং আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি।”

  • ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং এর পরে সময়ক্ষেপণের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধন ছাড়া যেসব নির্বাচন-সম্পর্কিত সংস্কার দরকার, তা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়নযোগ্য। তাই জাতীয় নির্বাচন পেছানোর মতো কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো সংস্কার দেখছি না যা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে না। বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই ডিসেম্বরের মধ্যেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আমাদের প্রস্তাবও সেটাই।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, “আজকের আলোচনায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়। প্রধান উপদেষ্টা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশাবাদী।”

    জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব দলে সব বিষয়ে একমত হওয়া নাও হতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং ধীরে ধীরে একটি ব্যাপক ভিত্তির ঐক্য তৈরি করা সম্ভব হবে।”

    বিএনপি প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আজাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।


  • জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    এবিএনএ: 

    জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’জনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে নাহিদ ইসলাম দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যুত্থানের শঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইউনূসের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আপনার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া রাষ্ট্র ও জাতির জন্য নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”

    সাক্ষাতের বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে শুধু অনুরোধ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই সময়ে আরও দৃঢ় থাকার প্রস্তাব দেন নাহিদ ইসলাম।

    উল্লেখ্য, এর আগে ড. ইউনূস তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাঁরা সংযত না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তারা সংযত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও ইউনূস নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানান, যা শুনে উপস্থিত উপদেষ্টারা তাকে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন।

    দেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে এমন এক সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন একটানা নেতৃত্ব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই নাহিদ ইসলামের অনুরোধ অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


  • বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    এবিএনএ: 

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অতীতের কিছু মন্তব্য ও শব্দচয়নের জন্য গভীর অনুশোচনার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।

    তিনি লেখেন, “ব্যক্তিগত আদর্শ কিংবা আবেগের চেয়ে দেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে। অতীতের কিছু বক্তব্য যদি বিভাজনের জন্ম দিয়ে থাকে, তবে আমি তা নিয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

    তিনি আরও বলেন, “যতদিন সরকারে আছি, ততদিন সকল মত ও শক্তির প্রতি সম্মান বজায় রেখে সংবেদনশীলভাবে কাজ করতে চাই।” সেইসঙ্গে তিনি অতীতের বিভেদমূলক স্লোগান ও তকমা ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলেন, এসব উপেক্ষা করে আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে, কারণ আক্রমণাত্মকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে দেশের শত্রুরা। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি সেই সব দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একসঙ্গে ছিলেন— “এই মুহূর্তে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঐক্য ও ধৈর্যের। এবং এই পরীক্ষায় আমাদের সফল হতেই হবে।”

    এমন বার্তা দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে— বিভেদের বদলে সংহতির পথেই যে ভবিষ্যত নিরাপদ, সেটিই যেন বোঝাতে চাইলেন উপদেষ্টা মাহফুজ।