Tag: জাতিসংঘ প্রতিবেদন

  • যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও থামেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। সংস্থাটির মতে, গত এক বছরে এসব হামলায় অন্তত ১২৭ জন নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-খাতিন বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুধু বেসামরিক মানুষই নয়, লেবাননের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।”

    তিনি আরও জানান, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া ১২৭ জন নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। অনেক ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করে এবং যুদ্ধবিরতি রক্ষা করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি কঠোর আহ্বান জানায়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা থেমে নেই। এ ধরনের হামলা শুধু সংঘাত বৃদ্ধি করবে না, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

  • গাজায় মৃত্যুর মিছিল, অনাহারে প্রাণ হারাল প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি

    গাজায় মৃত্যুর মিছিল, অনাহারে প্রাণ হারাল প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি

    এবিএনএ:  গাজা উপত্যকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে মানবিক বিপর্যয়। ইসরায়েলের অবরোধ ও ক্রমাগত হামলার মধ্যে খাদ্য সংকটে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৭ জন ফিলিস্তিনি। মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৯৬।

    ট্যাক্সিচালক ইব্রাহিম আল নজ্জরের পরিবার এই বিপর্যয়ের করুণ উদাহরণ। সব হারানো ইব্রাহিম বলেন, তার সন্তান সাঈম না খেয়ে এক মাস অচেতন থাকার পর মারা গেছে। “একসময় সে ছিল খুবই সবল”—আক্ষেপের সঙ্গে বলেন তিনি।

    এ ঘটনা গাজার লাখো পরিবারের একটিমাত্র চিত্র। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না, দুর্বল বৃদ্ধদের নিঃসহায়তা ও মায়ের চোখের পানি যেন গাজার প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ইসরায়েলের বোমা হামলায় বৃহস্পতিবারই প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে একাধিক শিশু। অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল নাসির হাসপাতালে এক শিশু, এবং আল মাওয়াসি এলাকায় ২ বছরের এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

    ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপ বা বিক্ষোভ আমলে না নিয়ে যুদ্ধ ও অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন” নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণের নামে হামলা চালাচ্ছে। এই সংগঠন শিশু-বৃদ্ধ কাউকে না দেখে গুলি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    চিকিৎসাসেবী সংস্থা এমএসএফ (Médecins Sans Frontières) এক বিবৃতিতে বলেছে, “৫৪ বছরের ইতিহাসে আমরা এমন নৃশংসতা আগে দেখিনি।” এটি কোনো ত্রাণ সংস্থা নয়—এখানে চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা।

    চাষাবাদের পতন:
    জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় এখন চাষযোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র ১.৫%—যা আগের ৪% থেকে দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। আগে কৃষিনির্ভর গাজায় ফল, সবজি ও বাদাম চাষ হতো।

    ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ:
    ইসরায়েলেই যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘সম্পূর্ণ গাজা দখল’ পরিকল্পনার প্রতিবাদে চলছে আন্দোলন। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় নেতারাও গাজায় যুদ্ধকে “গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছানো” বলে মন্তব্য করেছেন।

    এই মানবিক বিপর্যয়ের অবসান কোথায়, তা আজ কেউ বলতে পারছে না। বিশ্বের দৃষ্টি এড়িয়ে ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডি যেন প্রতিদিন সামনে এগিয়ে চলেছে।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    এবিএনএ: গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—ন্যায়বিচার মানে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রক্ষমতা কখনোই ব্যবহার হবে না।”


    🗓️ ‘জুলাই বিপ্লব’-এর স্মরণে এক প্রতিশ্রুতিশীল বার্তা

    ‘জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে জাতিসংঘ ঢাকা কার্যালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, “গত বছর এই সময় দেশের হাজার হাজার মানুষ—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ত্যাগ গোটা জাতির গর্ব।”


    🕊️ জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট কিংবা গত বছরের সংকটকালেও জাতিসংঘ আমাদের পাশে ছিল। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের সহযোগিতায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হয়েছে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়, যা ছিল পরিকল্পিত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত সহিংসতা


    ⚖️ বিচারের দাবি ও চলমান পদক্ষেপ

    ড. ইউনূস বলেন, “এই সহিংসতা শুধুমাত্র নিন্দনীয় নয়, বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। জাতিসংঘের সুপারিশমালার আলোকে আমরা ইতিমধ্যে গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন, দণ্ডবিধির সংশোধন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।”

    তিনি জানান, ঢাকায় গঠিতব্য সহায়তাকারী মিশন সরকার ও সুশীল সমাজকে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেবে।


    🗳️ একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের প্রত্যাশা

    অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।”


    🔚 ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়

    শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা এই স্বপ্নের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেছে—যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র অটল থাকবে।”

    এই প্রতিশ্রুতি শুধু রাষ্ট্রীয় ভাষণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তবায়নের দিকেও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • সরকারের বিবৃতিতে চমক: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায়

    সরকারের বিবৃতিতে চমক: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায়

    এবিএনএ:  সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার এই দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে জাতিসংঘের যে প্রতিবেদন রয়েছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সরকার আলোচনা করছে, যাতে এই বিষয়ে একটি দ্রুত গণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

    প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা জনগণের মতামতকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সকল সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

    এর আগে, জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে ‘গণতান্ত্রিক চেতনার বিজয়’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    এছাড়াও, সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে সংশোধনী এনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে, নতুন সরকার রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা বজায় রেখে আইনানুগভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এদিকে, আওয়ামী লীগ আমলের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের হঠাৎ করে বিদেশ গমনে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

    উল্লেখ্য, আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনা ঘটার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে বড় ধরনের সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

    এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিবৃতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা ঘটতে পারে।