Tag: জাকাত

  • জাকাত কি শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে আদায় করা যায়? ইসলাম কী বলে জানুন বিস্তারিত

    জাকাত কি শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে আদায় করা যায়? ইসলাম কী বলে জানুন বিস্তারিত

    এবিএনএ: ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত হলো জাকাত। এটি কেবল আর্থিক দান নয়; বরং মানুষের সম্পদকে পবিত্র করা এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। জাকাতের মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়, মানুষের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং সম্পদে বরকত আসে।

    পবিত্র কোরআনে নামাজের মতো জাকাতের ওপরও ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে কোরআনে প্রায় ৮২ বার জাকাতের নির্দেশ এসেছে। এর মধ্যে ‘জাকাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ৩০ বার, ‘ইনফাক’ ৪৩ বার এবং ‘সদকা’ শব্দটি এসেছে ৯ বার।

    ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরআনে নির্ধারিত আট শ্রেণির মানুষের মধ্যে দান করে তাদের মালিক বানিয়ে দেওয়াকে জাকাত বলা হয়।

    কোরআনের সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জাকাত মূলত ফকির, মিসকিন, জাকাত সংগ্রহকারীরা, যাদের হৃদয় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস মুক্তির কাজে, ঋণগ্রস্তদের সহায়তায়, আল্লাহর পথে এবং পথিকদের জন্য নির্ধারিত।

    তবে আমাদের সমাজে জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন চিত্র প্রায়ই দেখা যায়। অনেক জায়গায় জাকাতের নামে শাড়ি বা লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। অনেক দোকানেও বিশেষভাবে ‘জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি’ নামে কম মানের পোশাক বিক্রি হতে দেখা যায়।

    এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত প্রদান করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে জাকাত আদায় হয়ে যেতে পারে। তবে এতে জাকাতের মূল উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয় না।

    ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষকে এমনভাবে সহায়তা করা যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। ইসলামের স্বর্ণযুগে জাকাত এমনভাবে বণ্টন করা হতো যে একজন দরিদ্র ব্যক্তি একবার সহায়তা পেলে পরবর্তী সময়ে নিজেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেন।

    কিন্তু কেবল নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি লোক দেখানো বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা হলে তা রিয়া হিসেবে গণ্য হয়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    তাই ইসলামী শিক্ষার আলোকে জাকাত এমনভাবে প্রদান করা উচিত, যাতে দরিদ্র মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে আসে।

  • রমজানে জাকাতের গুরুত্ব: যেসব সম্পদের উপর জাকাত ফরজ, জেনে নিন বিস্তারিত

    রমজানে জাকাতের গুরুত্ব: যেসব সম্পদের উপর জাকাত ফরজ, জেনে নিন বিস্তারিত

    এবিএনএ: ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি হলো জাকাত। এটি কেবল দান নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে জাকাত আদায়ের প্রতি মুসলমানদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। এই সময়ে অনেকেই জানতে চান—কোন কোন সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়।

    ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সব ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত বাধ্যতামূলক নয়। নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ওপরই জাকাত দিতে হয়, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ বা ‘নিসাব’ পূরণ করলে এবং এক বছর অতিক্রম করলে ফরজ হয়ে যায়।

    সোনা ও রুপা
    সোনা ও রুপার ওপর জাকাত দেওয়া ফরজ। তা অলংকার হিসেবে ব্যবহার করা হোক বা না হোক—সব অবস্থাতেই এর জাকাত আদায় করতে হবে। একইভাবে অলংকার ছাড়া অন্য কোনো রূপে থাকা সোনা-রুপার ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য।

    সোনা-রুপার কারুকাজযুক্ত সামগ্রী
    কোনো পোশাক বা অন্যান্য জিনিসে যদি সোনা-রুপার কারুকাজ থাকে, তাহলে সেই অংশের সোনা-রুপার পরিমাণ হিসাব করে জাকাতের আওতায় ধরা হবে। অন্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে এর হিসাব করতে হয়।

    অন্যান্য ধাতু বা রত্নপাথর
    সোনা ও রুপা ছাড়া অন্য ধাতুর তৈরি অলংকার বা সামগ্রীতে সাধারণত জাকাত ফরজ হয় না। তেমনি হিরা, মণি-মুক্তা বা মূল্যবান পাথর যদি ব্যবসার পণ্য না হয়, তবে সেগুলোর ওপর জাকাত দিতে হয় না।

    নগদ অর্থ ও সঞ্চয়
    প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে যে টাকা সঞ্চিত থাকে এবং তা যদি নিসাব পরিমাণে পৌঁছায়, তাহলে এক বছর পূর্ণ হলে সেই অর্থের ওপর জাকাত দিতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড বা সঞ্চয়পত্রও একইভাবে জাকাতের আওতায় পড়ে।

    অব্যবহৃত অর্থ
    কোনো অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে শুধু জমিয়ে রাখা হলেও তার ওপর জাকাত ফরজ হয়, যদি তা নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং এক বছর অতিক্রম করে।

    ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে সঞ্চিত অর্থ
    হজ, বাড়ি নির্মাণ বা সন্তানের বিয়ের মতো ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে জমিয়ে রাখা অর্থও জাকাতের হিসাব থেকে বাদ যায় না। নির্ধারিত নিসাব পূরণ হলে এবং এক বছর অতিবাহিত হলে এর ওপরও জাকাত দিতে হবে।

    ব্যবসায়িক পণ্য
    দোকান বা ব্যবসায় বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সব ধরনের পণ্য—যেমন খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার বা ইলেকট্রনিক পণ্য—বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব পণ্যের বাজারমূল্য যদি নিসাবের সমপরিমাণ হয়, তাহলে সেগুলোর ওপরও জাকাত ফরজ হবে।

    ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, জাকাত শুধু সম্পদের পবিত্রতাই নিশ্চিত করে না, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।