Tag: জলাবদ্ধতা

  • খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পরিবেশ বন ও জলবায়ু পারিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবে না, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন দীর্ঘ চার দশক পর এই খালগুলো খননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের সুবিধা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন শেষ। মোংলা-রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, স্চ্ছোয় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, শহীদ জিয়ার খাল খনন বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায় এই প্রকল্পের আওতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোংলার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মাদুরপাল্টা খাল, ভোলা নদী খাল, পালেরখন্ড খাল এবং বেনীরখন্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন শুভ উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন।

    শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ঐতিহাসিক খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ খালের উদ্বোধনের মাধ্যমেই সূচিত হলো মোংলা-রামপালের কৃষকদের এক নতুন স্বপ্নযাত্রা।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এই খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানা যায়, মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ও বেনীরখন্ড খালের সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে চলবে এই খনন কাজ। ৪টি খাল থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে। খালগুলোর উপরের প্রস্থ হবে ২৫ ফিট, নিচের প্রস্থ হবে ৫ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট নিশ্চিত করা হবে, যাতে অনায়াসে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করতে পারে। আর এ প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন সহ সিএনআরএস এর প্রতিনিধি সহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের প্রবাহ সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    মাটি কাটার কাজ শুরু হতেই স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ এক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ৪০ বছর পর এই খালে আবার পানির কলকল শব্দ শুনব, এটা ভাবতেই চোখ ভিজে আসছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লোনা পানির অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে বলে বিশ্বাস এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের। তাই দীর্ঘ চার দশক পর অবরুদ্ধ এই খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি কাটা নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক লড়াই, এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেতে সকলেই সহায়তা করবে। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের অধীনে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহাগ এন্টার প্রাইজ-এর কারিগরি সহায়তায় এই কাজ মোংলার মানচিত্র বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন “মোংলা-রামপালের কোনো সরকারি খাল আর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, সব হবে জনগণের। উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন বিপ্লব আজ থেকে এই জনপদে পুনরায় শুরু হলো। কোনো ইজারা নয়, কোনো দখল নয়, প্রতিটি সরকারি খাল হবে উন্মুক্ত। যারা এতদিন সাধারণ মানুষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে পকেট ভরেছে, তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্তা নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি, নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার শঙ্কায় উপকূল ও নিম্নাঞ্চল

    টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি, নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার শঙ্কায় উপকূল ও নিম্নাঞ্চল

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় সারাদেশে টানা বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টি আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, রাজধানীসহ বড় শহরে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে, আর সেন্টমার্টিন দ্বীপে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরে ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ফেনী, মুহুরী, সিলোনিয়া নদী ও উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, নীলফামারী, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষ করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া ও নজরুলপাড়ায় শত শত ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারছে না।

    আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে দেশের আটটি বিভাগেই ভারী বর্ষণ হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের নিম্নাঞ্চল বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

  • শরতের সকালে টানা বৃষ্টিতে অচল রাজধানী, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

    শরতের সকালে টানা বৃষ্টিতে অচল রাজধানী, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

    এবিএনএ:  শরতের সকালে ঢাকার রাস্তায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগের। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহরের বহু সড়ক পানিতে ডুবে যায়। ফলে অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা সবাই ভোগান্তিতে পড়েন। কর্মদিবসের প্রথম দিন হওয়ায় যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

    সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল। বিশেষ করে আগারগাঁও মোড় থেকে মিরপুর-১০, বিমানবন্দর সড়ক, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ও ফার্মগেট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বাস ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।

    ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, কর্মদিবসের কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ আগেই ছিল। এর মধ্যে বৃষ্টিতে খানাখন্দে ভরা রাস্তা ও পানিবদ্ধতার কারণে ধীরগতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠে নামেন।

    যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেন রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। অনেকেই সুযোগ বুঝে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন। ফলে সাধারণ মানুষকে পড়তে হয় দ্বিগুণ বিড়ম্বনায়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় গতকাল ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, বছিলা, কারওয়ান বাজার ও মিরপুরসহ বহু এলাকায় পানি জমে যায়। ফলে অফিসগামী কর্মজীবী থেকে শুরু করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন।

    এক অফিসকর্মী জানান, সাধারণ দিনে আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট পৌঁছাতে যেখানে আধাঘণ্টা লাগে, সেখানে গতকাল লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা। মোহাম্মদপুরের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এক ঘণ্টায় অফিসে পৌঁছালেও এদিন তাঁর সময় লেগেছে দ্বিগুণ।

    পানিবদ্ধ রাস্তায় হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয় অনেককেই। মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, “বাসা থেকে বের হয়ে দেখি পুরো গলি পানিতে তলিয়ে গেছে। রিকশা নেই, শেষমেশ হাঁটুপানি মাড়িয়ে মূল সড়কে যেতে হয়েছে।”

  • পানি আটকে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, চড়া গোখাদ্যের দামে বিপাকে কৃষক

    পানি আটকে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, চড়া গোখাদ্যের দামে বিপাকে কৃষক

    এবিএনএ:  উত্তরাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় ভয়াবহ কৃষি সংকট তৈরি হয়েছে। জয়পুরহাট, নাটোরের লালপুর ও রংপুরের মিঠাপুকুরে শত শত হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে। ধানক্ষেত, সবজির ক্ষেত, এমনকি চরাঞ্চলের গোচারণভূমিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এর সঙ্গে গোখাদ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

    জয়পুরহাটে ফসল ডুবে বিপদে কৃষক
    কালাই পৌরসভার আঁওড়া এলাকায় ৫০০ একরের বেশি আমন ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। কৃষকরা জানান, রোপণের কয়েক দিন পর ভারী বৃষ্টিতে পানি নামতে না পেরে জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশনের পথ স্থানীয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নামাতে পারলে ফসল কিছুটা রক্ষা পাবে।

    লালপুরে গোখাদ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে
    পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের চার হাজার বিঘা জমি ও গোচারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। খামারিদের হাতে সংরক্ষিত খড় শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে এক আঁটি ধানের খড়ের দাম বেড়ে ৬-৭ টাকা হয়েছে। বড় খড় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৯৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে, যা এক মাস আগেও ছিল প্রায় সাত হাজার টাকা। গবাদিপশুর খাবারের এই সংকট কমতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

    মিঠাপুকুরে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে পানি প্রবাহ বন্ধের অভিযোগ
    রানীপুকুর ইউনিয়নে প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি রাস্তার পানি যাওয়ার মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় ৫০ একরের বেশি সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, নিষেধ করলেও তারা পথ খুলছেন না, বরং হুমকি দিচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—তিন ক্ষেত্রেই এই বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতায় বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবে গেছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

    অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবে গেছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

    এবিএনএ:  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোর পানি হঠাৎ করেই বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বরিশাল নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

    নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে আশপাশের বাসাবাড়ি ও সড়কগুলো হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ভাটিখানা, পলাশপুর ও সাগরদি ধান গবেষণা রোডের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টার পর দক্ষিণাঞ্চলের মেঘনা, তেতুলিয়া ও কীর্তনখোলাসহ সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে কীর্তনখোলার পানি ছিল বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে।

    তবে ভাটা শুরু হলে পানি সরে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

    কুয়াকাটা ও বরগুনার পাথরঘাটা থেকেও একই ধরনের প্লাবনের খবর পাওয়া গেছে। সাগরে প্রচণ্ড জোয়ার ও তীব্র বাতাসের কারণে তীরবর্তী এলাকাগুলো তলিয়ে যায়।

    নিম্নচাপের কারণে গতকাল রাত থেকেই বরিশাল ও আশপাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, যা আজ সারাদিন ধরে চলে। ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকলেও দুপুরের পর হঠাৎ দমকা বাতাস শুরু হয়।

    বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, আজ বিকেল ৩টায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে গেছে এবং আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল ও খুলনা বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    বরিশাল নদী বন্দরের কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা জানান, নদীতে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যদিও এখনো লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়নি, তবে গতকাল থেকেই স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার মানুষজন আতঙ্কে রয়েছেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

  • সোমবার থেকে শুরু ভারি বর্ষণের ঝড়, সতর্ক বার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের

    সোমবার থেকে শুরু ভারি বর্ষণের ঝড়, সতর্ক বার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের

    এবিএনএ:

    সোমবার (১৬ জুন) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠায় বর্ষার তীব্রতা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

    শনিবার প্রকাশিত এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, আগামী ৭২ ঘণ্টা ধরে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

    বিশেষ করে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে ভূমিধ্বসের ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া, বৃষ্টির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে দেশের সাতটি অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।