Tag: জনপ্রশাসন

  • সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: শূন্যপদ পূরণে ৫ লাখ সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় বড় পরিকল্পনা

    সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: শূন্যপদ পূরণে ৫ লাখ সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় বড় পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে বড় আকারের নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

    এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শূন্যপদ পূরণে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোতে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই

    শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হবে।

    এর ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী সহজে ব্যবহার করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইউনিয়ন ও উপজেলায় খেলার মাঠ

    তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। শহর ও গ্রামে মাঠ নির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি কাজ করছে বলে সংসদে জানান সরকার প্রধান।

    বিদেশে পড়তে শিক্ষাঋণের সীমা বাড়ল

    বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ভিসা পাওয়ার আগেই যোগ্যতার প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে এই ঋণ পাওয়া সহজ হবে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাবে।

    বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রমসহ শিক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা—দেশজুড়ে অফিসের নতুন সময়সূচি কার্যকর, জারি প্রজ্ঞাপন

    সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা—দেশজুড়ে অফিসের নতুন সময়সূচি কার্যকর, জারি প্রজ্ঞাপন

    এবিএনএ: দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে Ministry of Public Administration। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের আলোকে এই সময়সূচি কার্যকর করা হবে।

    তবে জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য জরুরি খাত তাদের নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও গ্রাহক সেবার সময় আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে Bangladesh Bank

    অন্যদিকে, আদালতের কার্যক্রম ও অফিস সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে Supreme Court of Bangladesh-কে।

    বেসরকারি শিল্প ও কলকারখানার কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে Ministry of Labour and Employment

    সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে অফিস কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আসবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ডিসি-ইউএনও আর থাকছে না: প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন

    ডিসি-ইউএনও আর থাকছে না: প্রশাসনে আসছে বড় পরিবর্তন

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদের নাম পরিবর্তনসহ ১০টি বড় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গত জুলাইয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়, এবং এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামো ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস’ (এসইএস) গঠন করা হচ্ছে। এতে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত সব পদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারের দক্ষ কর্মকর্তারা এসইএসে যোগ দিতে পারবেন।

    সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নতুন পদবি হবে ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কমিশনার’, আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদবি পরিবর্তন হয়ে হবে ‘উপজেলা কমিশনার’। এসব পদবি পরিবর্তনের কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।

    নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এসইএসে উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে পরের বছরে পুনরায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে, তবে পরপর দুইবার ব্যর্থ হলে আর পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। সফল প্রার্থীদের মেধা অনুযায়ী পদায়ন করা হবে, এবং একবার এসইএসে প্রবেশ করলে আগের সার্ভিসে ফেরত যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

    এসইএস গঠন হলে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর সদস্য হবেন। এছাড়া সচিব ও মুখ্য সচিব নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি।

    সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)’ পদের নামও বদলে হবে ‘অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ভূমি ব্যবস্থাপনা)’। এ ছাড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে দুই শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।

    এতে আশা করা হচ্ছে, নতুন কাঠামো প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে, কর্মকর্তাদের মধ্যে মেধাভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিত করবে এবং সেবামুখী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখবে।

  • রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    এবিএনএ: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। দলটি জানায়, বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ করেছে। তবে কিছু কিছু ইস্যুতে মতানৈক্য রয়ে গেছে, যা কমিশনের কার্যক্রমকে কিছুটা ধীর করেছে।

    রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৬টি সংস্কার কমিশনের আলোচনায় বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

    ফখরুল বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, র‍্যাব বিলুপ্তিসহ অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুদক কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে একমত হলেও একটিতে তারা আদালতের অনুমতির বিধান বহাল রাখতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন কমিশনের ২০৮ প্রস্তাবের মধ্যে ১৮৭টিতে তারা একমত, ১১টিতে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে।

    বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯ সুপারিশের মধ্যে ৬২টিতে একমত হয়ে ৯টিতে আংশিক মত দিয়েছে দলটি। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে ২৪৩ সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে একমত হয়েছে, কিন্তু ২৪টির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানিয়েছে।

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশিরভাগেই বিএনপি একমত হয়েছে। বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়ে ছাড় দিয়েছে দলটি। এমনকি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও সংসদে বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতির পদ দানের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও ঐকমত্য হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    বিএনপির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সংস্কারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, জাতীয় স্বার্থে যেসব বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়, তাতে দল আপসহীন। সেইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।