Tag: জনদুর্ভোগ

  • কচুয়ায় ভেঙে পড়া কাঠের সেতুতে যোগাযোগ বিপর্যয়—দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, দ্রুত সমাধানের দাবি

    কচুয়ায় ভেঙে পড়া কাঠের সেতুতে যোগাযোগ বিপর্যয়—দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, দ্রুত সমাধানের দাবি

    এবিএনএ,কচুয়া : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠের পুল ভেঙে পড়ায় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শাখারীকাঠী স্মৃতিসৌধের পাশ দিয়ে দৈবজ্ঞহাটি এলাকায় যাওয়ার এই পুলটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অবশেষে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাধাল ইউনিয়নের এই পুলটি ছিল আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ী এই পথ ব্যবহার করে তাদের গন্তব্যে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে পুলটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলের ভাঙা অংশ পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষ বাধ্য হয়ে চলাচল করছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    এদিকে, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একইসঙ্গে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছে না, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পুলটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতালে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

    রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে খুলনা থেকে মোড়েলগঞ্জগামী মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় যাত্রা শুরু করলেও হরতালের কারণে বারবার গাড়ি বদল করতে হচ্ছে। কাটাখালি থেকে দশানী পর্যন্ত পৌঁছে আর কোনো পরিবহন পাননি। তার অভিযোগ, আন্দোলন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়িয়ে দিয়েছে।

    একই দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। খুলনা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার জানান, সকাল থেকে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তিনি এখনও বাগেরহাটের বাইরে যেতে পারেননি। পরীক্ষার দিন এমন পরিস্থিতি তাকে দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

    মো. মিজান নামের আরেক যাত্রী জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে আটকে যেতে হচ্ছে। রাস্তার উপর গাছ ফেলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুরোধ করলেও পথ অবরোধকারীরা রাস্তা খুলে দেয়নি, তাই মাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

    অঞ্চলজুড়ে একই দৃশ্য। দূরপাল্লার কোনো বাস চলেনি, অটোরিকশা ও ভ্যানও খুব কম সংখ্যায় চলেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    হরতালের বিষয়ে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চার আসনের পরিবর্তে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে আমরা আন্দোলনে নামি। সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। তাই আজ হরতাল ও অবরোধ ডাকতে হয়েছে।”

    তিনি দাবি করেন, জেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের দাবিকে সমর্থন করেছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, মোংলা বন্দর এলাকার বেশিরভাগ অফিসও তালাবদ্ধ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলন ‘সফল’ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই হরতাল আন্দোলন জেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।