Tag: ছাত্রশিবির

  • শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    এবিএনএ: রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে কথিত গুপ্ত রাজনীতি এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

    একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এ সময় থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও অবস্থান করছিলেন।

    ঘটনার পর থানার বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • রাবিতে অচলাবস্থা, পিছিয়ে গেল রাকসু নির্বাচন ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত

    রাবিতে অচলাবস্থা, পিছিয়ে গেল রাকসু নির্বাচন ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত

    এবিএনএ, রাজশাহী :

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পিছিয়ে গেলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। পূর্ব নির্ধারিত ২৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে নতুন তারিখ ধরা হয়েছে ১৬ অক্টোবর। সোমবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিশনের জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই নির্বাচনের উপযোগী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, পূজার ছুটি এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক-কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে। তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন নিশ্চিত করতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, “এ মুহূর্তে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘ আলোচনার পর কমিশন ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

    অন্যদিকে, নির্বাচন পেছানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনের দাবি, কমিশন বারবার নির্বাচন স্থগিত করে আস্থা হারাচ্ছে। শিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর ধরে এমন প্রহসন দেখে বিরক্ত। তারা ২৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচন আয়োজন চান।

    এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “তারা চাইছে না, তবে মানতেই হবে। বর্তমান অবস্থায় ভোট সম্ভব নয়।”

    ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি

    পোষ্য কোটাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা ও পূজার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলসহ অন্তত পাঁচটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট স্থগিতের দাবি জানায়। তবে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বরং আগের তারিখেই ভোট চায়।

    রাবি ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা

    এদিকে, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখন অচলাবস্থায়। সকাল থেকে প্রশাসন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তালা ঝুলছে, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ, ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা। খাবার দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

    জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও অফিসার সমিতির ঘোষণার পর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কার্যকর রয়েছে। ফলে আসন্ন রাকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

  • বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    এবিএনএ:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বৃহস্পতিবার নানা বিশৃঙ্খলা, অভিযোগ ও বিরোধিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার পরও বেশ কিছু হলে রাত পর্যন্ত ভোট চলে। বিশেষ করে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট হয়, যেখানে সর্বাধিক ভোটার সংখ্যা ৯৯১।

    তবে দুপুর গড়াতেই নির্বাচন ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানায়। অপরদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে।

    ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় ছবি নেই, কিছু হলে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আবার মেয়েদের হলে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি একে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী স্মরণ এহসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, “শুরু থেকেই প্রার্থিতা বাতিল থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত অনিয়ম চলেছে। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।”

    এদিকে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব জানান, প্রশাসনের প্রস্তুতির অভাবে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি ও ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগও তাদের পক্ষ থেকে তোলা হয়।

    দিন শেষে ছাত্রদল ভোট বর্জন করলেও শিবির সমর্থিত জোটের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি করতে চাই। তারা ফিরলেও আমরা একসাথে থাকব।”

    ভোটগ্রহণ চলাকালে একাধিক হলে সাময়িক সময়ের জন্য ভোট বন্ধ হয়ে যায় বিশৃঙ্খলার কারণে। অভিযোগ ও প্রতিবাদে ঘেরা এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন, তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।

  • ছাত্রদল-শিবিরের বাকযুদ্ধে উত্তেজনা, পুলিশ প্রস্তুত

    ছাত্রদল-শিবিরের বাকযুদ্ধে উত্তেজনা, পুলিশ প্রস্তুত

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলের আগে ঢাবি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভোট গণনার সময় ছাত্রদল ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, বিকেল থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, জামায়াত ও বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে।

    ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের কারণে ঢাবি এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা হচ্ছে।”

    ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, “ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।”

    ছাত্রশিবির সমর্থিত নেতা সাদিক কায়েম বলেন, “ছাত্ররা যাকে ম্যান্ডেট দেবে, তা মেনে নিতে হবে। সকল প্রার্থীকে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের উচিত তা বন্ধ করা।”

    নির্বাচনের ফলাফলের আগে ঢাবি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • নির্বাচন বানচালে নাটক করছে ছাত্রদল, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    নির্বাচন বানচালে নাটক করছে ছাত্রদল, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে ভোট বানচাল করার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নাটক করে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে বহিরাগত জড়ো করার অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী সাদিক কায়েম

    মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় মধুর ক্যান্টিনে সাদিক, ফরহাদ ও মহিউদ্দিনের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ জানান।

    সাদিক বলেন, “ছাত্রদল বিকেল থেকে নানা ধরনের নাটক করছে ভোট প্রভাবিত করার জন্য। রোকেয়া হলে ভয়াবহ জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে তারা নাটক করছে। ইউল্যাব কেন্দ্রে আমাদের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তারা একজন শিক্ষককেও লাঞ্ছনা করেছে। ভিসিকে আঙ্গুল তুলেও কথা বলেছেন। তারা নয়টি পয়েন্টে বিএনপি-যুবদলের লোকজন জড়ো করেছে, যাতে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমরা জামায়াত-শিবিরের লোক আনেছি। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রকৃতপক্ষে তাদেরই লোকজন বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়েছে। আমরা আহ্বান জানাই, ছাত্রলীগের মতো আচরণ করবেন না এবং প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

    সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির নেতারা বললেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।

  • শিবিরের প্রদর্শনীতে রাজাকারদের ছবি! বিতর্কের মুখে ব্যবস্থা নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

    শিবিরের প্রদর্শনীতে রাজাকারদের ছবি! বিতর্কের মুখে ব্যবস্থা নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

    এবিএনএ:  জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে টিএসসির পায়রা চত্বরে তিন দিনব্যাপী একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতের কয়েকজন নেতার ছবি স্থান পায়—যার ফলে ক্যাম্পাসে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যানারটি সরিয়ে নেয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত ছবিটি ছড়িয়ে পড়তেই একাধিক শিক্ষার্থী এবং প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন টিএসসিতে এসে প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম শিবির নেতাদের সাথে কথা বলে ব্যানারটি সরিয়ে নেন।

    ছবিতে দেখা যায়, ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের—যেমন নিজামী, কাদের মোল্লা, মুজাহিদ, সাঈদী প্রমুখের ছবি টাঙানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রমৈত্রী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ মুক্তিযুদ্ধপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা।

    ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে একাত্তরের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তারা ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন চলবে।”

    গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, “শিবির ২০২৪ সালের ঘটনাকে সামনে এনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করছে। এটি ঠেকাতেই হবে।”

    অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই প্রদর্শনী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তারা প্রশাসনের অনুরোধে ছবি সরিয়ে ফেলেছে।

    শিবিরের প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “একটি মহল বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।”

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এটি শুধু প্রশাসনিক নয়, আদর্শিক বিষয় বলেও মনে করছে শিক্ষার্থীরা।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে রাজাকারদের পুনর্বাসনের অভিযোগ, এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজনের তীব্রতা। প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।