Tag: ছাত্রলীগ

  • জামিন মিললেও মুক্তি অনিশ্চিত! যশোর কারাগারে কেন আটকে আছে সাদ্দামের মুক্তি

    জামিন মিললেও মুক্তি অনিশ্চিত! যশোর কারাগারে কেন আটকে আছে সাদ্দামের মুক্তি

    এবিএনএ: হাইকোর্টের আদেশে ছয় মাসের জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কারণ, তার জামিননামা এখনো কারাগারের জেলগেটে পৌঁছায়নি।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ। তিনি জানান, আদালতের জামিন আদেশ থাকলেও আনুষ্ঠানিক জামিননামা হাতে না পাওয়ায় সাদ্দামকে আপাতত মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছানোর পরই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

    মানবিক দিক বিবেচনায় সাদ্দামকে এই জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

    আইনজীবী জানান, বাগেরহাটের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাদ্দাম জামিন পেয়েছেন। অন্য মামলাগুলোতে তিনি আগেই জামিনে ছিলেন। ফলে আইনি দিক থেকে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকার কথা নয়।

    উল্লেখ্য, একাধিক মামলায় কারাবন্দি সাদ্দাম সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে চরম ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হন। গত ২৪ জানুয়ারি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য তাকে মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল মঞ্জুর না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারের সামনে।

    এর আগে, বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী এবং শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় প্যারোল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাদ্দাম। পরে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হন।

  • চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে একটি কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেওয়া কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শরীফ (২৩) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটকে ভাঙচুরের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    জানা গেছে, মোটরসাইকেল উৎপাদক একটি প্রতিষ্ঠান ওই কনসার্টের আয়োজন করেছিল, যেখানে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল পরিবেশনা করছিল। কনসার্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। শুরুতেই একদল দর্শক ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিলে অন্য পক্ষ আপত্তি জানায়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী মো. নাঈম জানান, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে ছাত্রদলের সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি ছোড়ে, এতে কয়েকজন আহত হন।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনীহা দেখাচ্ছেন, ফলে প্রকৃত কারণ জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কনসার্টে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁদের কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    খুলশী থানার ওসি শাহীনুর জামান জানান, প্রতিষ্ঠানটির মোটরসাইকেল প্রদর্শনীর অনুমতি থাকলেও কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি ছিল না। স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। কনসার্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় জামায়াত শিবির বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, ছাত্রলীগের ভোট জামায়াতকে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় প্রয়াত বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “ডাকসুর নির্বাচনে বিএনপি হেরেছে বলা যেতে পারে। কিন্তু আমি বলতে চাই, এত ভোট জামায়াত কোথা থেকে পেল? আসলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমেই ছাত্রলীগের ভোট তারা নিয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডাকসুর নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ২০০৮ সালের মতো আবারও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। তখন যেমন হয়েছিল, এবারও তাই ঘটেছে। জামায়াত একটি ‘মোনাফেকের দল’, অথচ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আঁতাত থেকেই এসব সম্ভব হয়েছে।”

    নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “যেভাবেই হোক তারা জয়ী হয়েছে। আমি এই কমিটিকে স্বাগত জানাই। আশা করি তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”

    আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা সবসময় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে চায়। আজও সেই ষড়যন্ত্র চলছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অথচ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ আছে শুধু বিএনপির হাতেই।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

  • ঢাবিতে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির পরও বহাল ছাত্রদল কমিটি, জানালেন রাকিব

    ঢাবিতে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির পরও বহাল ছাত্রদল কমিটি, জানালেন রাকিব

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও ছাত্রদল ঘোষিত হল কমিটিগুলো বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    রাকিব জানান, বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস ও ডাকসুকে ঘিরে ছাত্র রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে গুপ্ত ছাত্র রাজনীতি ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করবে এবং হল কমিটিগুলো বিদ্যমান থাকবে।

    এর আগে ৯ আগস্ট ছাত্রদল ঢাবির ১৮টি হলের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। একই রাতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

    বিক্ষোভের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা বহাল থাকবে। প্রতিটি হল প্রশাসন নীতিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    রাকিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুপ্ত ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আমরা সচেতন ছাত্র সংগঠন হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে আছি।” ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যেভাবে ছাত্রলীগ হলে দখলদারি করেছে, শিবিরও গুপ্ত রাজনীতি করে একই কাজ করছে।”

    তিনি আরও জানান, শনিবারের মধ্যে প্রশাসন ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ, হলে ছাত্র রাজনীতির ধরন ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে আপডেট দেবে বলে আশা করছেন। তার অভিযোগ, “আমরা মিডিয়া ট্রায়াল ও মিথ্যা প্রচারণার শিকার হচ্ছি।”

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির রূপরেখা তৈরিতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দেবে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    সর্বমোট মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫০ জনকে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ৩১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

    মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় বাদী হয়েছেন জেলার বাসিন্দা তানিয়া জামান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্ল্যা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০০ থেকে ১,০০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএম নাসির আহম্মেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম জুলকদর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মুনির হিটলার, সাবেক জিপি দেলোয়ার হোসেন সরদার, জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু এবং মুকসুদপুরের সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল।

    এছাড়াও কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও ওড়াকান্দি এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার নামও এজাহারে রয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলা ও উচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতভর মুকসুদপুর ও কাশিয়ানি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ।

    তিনি জানান, কাশিয়ানির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ২৪ জন, মুকসুদপুর এলাকায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জনকে সদর থানার একটি মামলায়, ২০ জনকে কাশিয়ানির মামলায় এবং বাকি ১০ জনকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এদিকে সদর থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, তাঁদের থানার দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির গোপালগঞ্জ সমাবেশ শুরুর আগেই শহরের পৌর পার্কে দলটির মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা চেয়ার ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কড়া নজরদারির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন থানায় নতুন করে আরও মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে নিহত ৩

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত লং মার্চ ও সমাবেশ ঘিরে চরম সহিংসতায় রূপ নেয় পরিস্থিতি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রশাসন জারি করেছে কারফিউ, মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যখন সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে নিহতরা হলেন—ইমন তালুকদার (১৮), রমজান কাজী (২২) ও দীপ্ত সাহা (২৫)। নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল।

    হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শহরের লঞ্চঘাট এলাকা, যেখানে দুপুর তিনটার দিকে গাড়িবহর অবরুদ্ধ করে হামলা হয়। এনসিপির সমাবেশের মঞ্চে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ইউএনওর গাড়িবহরেও হামলা চালানো হয়েছে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী মাঠে নামলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রশাসন সন্ধ্যা ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে এবং শহরজুড়ে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, পুরো গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে চলছে সংঘর্ষ, রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে গাছের গুঁড়ি ও ব্যারিকেড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির শীর্ষ নেতারা আপাতত নিরাপত্তার কারণে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

    উল্লেখ্য, জুলাই মাসজুড়ে পদযাত্রা ও গণসমাবেশের কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে এনসিপি। গোপালগঞ্জ ছিল তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    🔴 সাম্প্রতিক এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

    গোপালগঞ্জে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আজ বুধবার রাত ৮টা থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার পুরো এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যায় প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে এবং জনসাধারণের চলাচলে থাকবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ, হামলা ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ।

    কারফিউ চলাকালীন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।

    এর আগে এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকরা আক্রান্ত হন এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

    এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘গোপালগঞ্জে সংঘটিত হামলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করা তাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।’’

    সরকার আরও জানায়, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে এবং এ ধরনের সহিংসতা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার।


    👉 গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নজরদারিতে। কারফিউ চলাকালীন নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং ঘোষণা করেছে কারফিউ।

    নিহত দুইজন হলেন—উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫) এবং কোটালীপাড়া উপজেলার রমজান কাজী (১৮)। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিকেলে তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং উভয়েই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

    তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের অস্ত্রোপচার চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার দুপুর ২টার দিকে এনসিপির সভা শেষে গাড়িবহর যখন লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছায়। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এর আগে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে পৌর পার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    সমাবেশ কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোসহ ইউএনও’র গাড়িবহরেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরো গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাত ৮টা থেকে পরদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই কারফিউ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি।

    এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না: কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

    গোপালগঞ্জে সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না: কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেওয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। হামলাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, “গোপালগঞ্জে আজ যে সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণ নাগরিকদের একটি শান্তিপূর্ণ বার্ষিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা, তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হামলা চালানো, এটি শুধু মৌলিক অধিকার হরণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর সরাসরি আঘাত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির সদস্যরা ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সরাসরি আক্রমণ চালায়।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “হামলাকারীদের অনেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”

    সরকার সেনাবাহিনী ও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছে, “এই সহিংসতা থামাতে যেভাবে বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি সেই সাহসী তরুণদেরও অভিনন্দন জানাই যারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাদের বার্ষিক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে।”

    সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। আইন নিজের পথে চলবে এবং অপরাধীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য উপযুক্ত শাস্তি পাবেই।”