Tag: চুরি

  • ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ছাত্রীনিবাসে দুঃসাহসিক গণচুরি, নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষোভ

    ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ছাত্রীনিবাসে দুঃসাহসিক গণচুরি, নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষোভ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ফাঁকা পড়ে থাকা একটি ছাত্রীনিবাসে সংঘটিত হয়েছে পরিকল্পিত গণচুরির ঘটনা। শহরের মুণিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস্)-এর আবাসিক ভবনে চোরের দল প্রবেশ করে একাধিক কক্ষ ভেঙে মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, চারতলা বিশিষ্ট এই ছাত্রীনিবাসের অন্তত ১৫টি কক্ষের তালা ভাঙা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জিনিসপত্র, যা থেকে চুরির ব্যাপকতা স্পষ্ট।

    ছাত্রীনিবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নাইমা ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ছাত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় ভবনটি প্রায় খালি ছিল। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা নিচতলার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কক্ষে চুরি চালায়।

    তার দাবি, চোরেরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, জামাকাপড়, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট রাউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে। দূরে অবস্থান করেই তিনি ফোনে এ ঘটনার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

    অন্যদিকে, আবাসিক ছাত্র তন্ময় দাস জয় ও অন্তর শীল জানান, চুরির ঘটনা একদিনে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রথম দিন নিচতলার কয়েকটি কক্ষে চুরি হয়, এরপর পরদিন আবার অন্য তলায় ঢুকে একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল সংকট রয়েছে এবং রাতে কোনো নৈশপ্রহরী দায়িত্ব পালন করেন না। এই নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগ নিয়েই চোরের দল বারবার ভবনে প্রবেশ করতে পেরেছে।

    তারা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থায়ী পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    বাগেরহাট সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিচতলার গ্রিল কেটে চোরেরা ভেতরে ঢুকে কক্ষগুলোতে চুরি চালায়। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

  • আইজিপির বাড়িতেই চুরি! বাগেরহাটে বিদ্যুতের মিটারের তার কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    আইজিপির বাড়িতেই চুরি! বাগেরহাটে বিদ্যুতের মিটারের তার কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: দেশের পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের নিজ বাড়িতে ঘটেছে চুরির ঘটনা। দুর্বৃত্তরা বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে নিয়ে যাওয়ায় পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় চোরেরা বাড়িতে প্রবেশ করে মিটারের সংযোগ তার কেটে নিয়ে যায়।

    মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একই দিন দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এসে পুনরায় সংযোগ চালু করে দেন।

    বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, আইজিপির ওই চারতলা বাড়িটি বর্তমানে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। তিনি বাগেরহাটে গেলে সাধারণত দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিটে অবস্থান করেন।

    চুরির ঘটনায় পুরো বাড়িতে রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে একাধিক টিম কাজ করছে।

  • বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে চাঞ্চল্য: ব্যবসায়ীর ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও

    বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে চাঞ্চল্য: ব্যবসায়ীর ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট শহরের একটি ব্যাংকের লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, পূবালী ব্যাংকের সুরক্ষিত লকারে রাখা তার প্রায় দুইশ ভরি স্বর্ণালংকার আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী সড়কে অবস্থিত পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখায় এ ঘটনা সামনে আসে। খবর পেয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সুমন কুমার দাসের বাড়ি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

    সুমন কুমার দাস জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর তিনি তার মা, খালা, ভাই ও স্ত্রীরসহ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের প্রায় দুইশ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ব্যাংকের লকারে জমা রাখেন। সম্প্রতি বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ব্যাংকে গিয়ে লকার খুললে দেখতে পান ভেতরে কোনো স্বর্ণালংকার নেই।

    তিনি বলেন, লকার খালি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। এরপর বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানাই।

    ঘটনার পর ব্যাংকের অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই ব্যাংকের এক গ্রাহক মাহফুজুর রহমান বলেন, একজন গ্রাহকের লকার থেকে স্বর্ণালংকার হারানোর খবর শুনে আমিও আমার লকার পরীক্ষা করতে ব্যাংকে আসি। সৌভাগ্যক্রমে আমার জিনিসপত্র ঠিকঠাক রয়েছে।

    এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন বলেন, এক গ্রাহক তার লকারে রাখা কিছু মূল্যবান জিনিস দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে।

    বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ব্যাংকে গিয়ে লকার পরিদর্শন করেছে। কীভাবে ব্যাংকের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে এত বড় অঙ্কের স্বর্ণালংকার উধাও হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • ছয় বছরে অপহরণের রেকর্ড: আট মাসেই সর্বাধিক মামলা, বেড়েছে খুন ও দস্যুতা

    ছয় বছরে অপহরণের রেকর্ড: আট মাসেই সর্বাধিক মামলা, বেড়েছে খুন ও দস্যুতা

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও চলতি বছরে অপরাধের হার বেড়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঘটনা রেকর্ড ছুঁয়েছে নতুন মাত্রা। পুলিশি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৭১৬টি অপহরণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বাধিক।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অপহরণের ঘটনা ছিল ৬৪২টি, ২০২৩ সালে ৪৬৩টি, ২০২২ সালে ৪৬০টি, ২০২১ সালে ৪৪৫টি এবং ২০২০ সালে ৪৮৬টি। অর্থাৎ চলতি বছরের আট মাসেই আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে অপহরণের হার বেশি।

    শুধু অপহরণই নয়, অন্যান্য অপরাধেও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের আট মাসে ডাকাতি ঘটেছে ৪৮৮টি, যা ২০২৪ সালের ৪৯০টির কাছাকাছি। দস্যুতার ঘটনাও বেড়েছে—এ বছর ১ হাজার ৩১৪টি রেকর্ড হলেও গত বছর তা ছিল ১ হাজার ৪০৫টি।

    দাঙ্গার চিত্রও জটিল। ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মোট দাঙ্গার ঘটনা ছিল ৭৭টি, ২০২৪ সালে তা হঠাৎ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫টিতে। তবে চলতি বছরের আট মাসে এই সংখ্যা ৫৯।

    অন্যদিকে, চুরির হার কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের আট মাসে ৬ হাজার ৩৪৫টি চুরির ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যেখানে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৫৯১টি চুরির ঘটনা ঘটেছিল।

    পুলিশি পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের আট মাসে ২ হাজার ৬১৬টি খুন এবং ১৫ হাজার ৪৯টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও কমেছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপরাধের হার কিছুটা বেড়েছে মনে হলেও এর একটি বড় কারণ হলো—এখন মানুষ রাজনৈতিক প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ভয় ছাড়াই মামলা করতে পারছে। এছাড়া, গত ১৩ মাসে খুনের হার বেশি মনে হলেও তার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ১৩০টি খুন শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত হলেও মামলা দায়ের হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর।