Tag: চীন সফর

  • সাত বছর পর চীন সফরে নরেন্দ্র মোদি, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

    সাত বছর পর চীন সফরে নরেন্দ্র মোদি, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

    এবিএনএ:  দীর্ঘ সাত বছর পর চীন সফরে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাপান সফর শেষ করে শনিবার তিনি বেইজিং পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।

    এটি মোদির ২০১৮ সালের পর প্রথম চীন সফর। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সম্মেলন উপলক্ষে মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এর আগে জাপান সফরে মোদি টোকিওতে বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক করেন। বাণিজ্য, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, টোকিও থেকে সরাসরি বেইজিং সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

    চীন দীর্ঘদিন ধরেই এসসিওকে পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। ভারত সেখানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে চাইছে। ফলে মোদির এই সফর দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

  • চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

    চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

    এবিএনএ:  সরকারি সফর শেষে বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নয়দিনের এ সফরে তিনি চীনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন।

    ২২ আগস্ট পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদর দপ্তরে পৌঁছালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি পিএলএর স্থল বাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার জেনারেল চেন হুইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামরিক শিল্প উন্নয়নে চীনের সহায়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    ২৩ আগস্ট সেনাপ্রধান চীনের নোরিনকো গ্রুপের প্রেসিডেন্ট চেন ডেফাংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের আধুনিকায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আলাপ হয়।

    চীন সফরের অংশ হিসেবে তিনি বেইজিংয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মির একাডেমি অব আর্মড ফোর্সেস ক্যাম্পাস ও সামরিক গবেষণাগার ঘুরে দেখেন। এ একাডেমিতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তারা কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

    গত ২০ আগস্ট সেনাপ্রধান এ সরকারি সফরে চীন যাত্রা করেন। তার এ সফরকে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। দীর্ঘ ছয় বছর পর তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন এবং এটি হবে ২০১৯ সালের পর তার প্রথম চীন সফর। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতা এতে অংশ নিচ্ছেন না।

    কিম জং উন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তার প্রথম অংশগ্রহণ। যদিও কতদিন তিনি চীনে থাকবেন বা শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—তা নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

    চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ কুচকাওয়াজে ইরান, সার্বিয়া, বেলারুশ, কিউবা, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারাও যোগ দেবেন। সেখানে চীনের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাষণ দেবেন।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকছে। তবে উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সহায়তা এখনো অপরিহার্য, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কিমের এ সফরের মাধ্যমে শুধু চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অতীতে কিমের কয়েক দফা বৈঠক হলেও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছিল। এখন নতুন উদ্যোগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।