Tag: চরাঞ্চল

  • পানি আটকে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, চড়া গোখাদ্যের দামে বিপাকে কৃষক

    পানি আটকে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, চড়া গোখাদ্যের দামে বিপাকে কৃষক

    এবিএনএ:  উত্তরাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় ভয়াবহ কৃষি সংকট তৈরি হয়েছে। জয়পুরহাট, নাটোরের লালপুর ও রংপুরের মিঠাপুকুরে শত শত হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে। ধানক্ষেত, সবজির ক্ষেত, এমনকি চরাঞ্চলের গোচারণভূমিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এর সঙ্গে গোখাদ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

    জয়পুরহাটে ফসল ডুবে বিপদে কৃষক
    কালাই পৌরসভার আঁওড়া এলাকায় ৫০০ একরের বেশি আমন ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। কৃষকরা জানান, রোপণের কয়েক দিন পর ভারী বৃষ্টিতে পানি নামতে না পেরে জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশনের পথ স্থানীয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নামাতে পারলে ফসল কিছুটা রক্ষা পাবে।

    লালপুরে গোখাদ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে
    পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের চার হাজার বিঘা জমি ও গোচারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। খামারিদের হাতে সংরক্ষিত খড় শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে এক আঁটি ধানের খড়ের দাম বেড়ে ৬-৭ টাকা হয়েছে। বড় খড় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৯৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে, যা এক মাস আগেও ছিল প্রায় সাত হাজার টাকা। গবাদিপশুর খাবারের এই সংকট কমতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

    মিঠাপুকুরে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে পানি প্রবাহ বন্ধের অভিযোগ
    রানীপুকুর ইউনিয়নে প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি রাস্তার পানি যাওয়ার মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় ৫০ একরের বেশি সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, নিষেধ করলেও তারা পথ খুলছেন না, বরং হুমকি দিচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—তিন ক্ষেত্রেই এই বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতায় বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা, নতুন এলাকা ঝুঁকিতে

    উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা, নতুন এলাকা ঝুঁকিতে

    এবিএনএ :

    নদ-নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ছে গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে। উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা।

    গাইবান্ধা জেলার ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তিনটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও প্রতিদিনের পানি বৃদ্ধিতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সদর উপজেলার কামারজানি ও ঘাগোয়া ইউনিয়ন এবং ফুলছড়ি উপজেলার এরান্ডাবাড়ি ও ফজলুপুরের মানুষ আশঙ্কায় রয়েছেন যে বন্যা যে কোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ও হরিপুর ইউনিয়নে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মানুষজন, কারণ তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদ ফুলছড়ি পয়েন্টে ৭৪ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদী গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদী গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।

    গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে।

    অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধ (হার্ড পয়েন্ট) এলাকায় ৭৭ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর এলাকায় ৮৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সিরাজগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে আগাম বন্যার শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।

    নিম্নাঞ্চলের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে যমুনা নদীর পানি আরও দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বর্তমানে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    সামগ্রিকভাবে, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জের নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক না হলেও, প্রতিদিনের পরিবর্তন স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।