Tag: চট্টগ্রাম রাজনীতি

  • দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি ও উন্নয়ন ভাবনার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই নগরীকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি অর্থনীতি, কৃষি, শিল্পায়ন ও পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

    রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে সমাবেশে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান।

    বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এবং এই শহরের সঙ্গেই তার পরিবার ও বিএনপির গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ আবারও পরিবর্তন চায়—যে পরিবর্তনে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

    দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত খাল খননের ওপর জোর দেন।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে ইপিজেড গড়ে উঠেছিল, যা লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিএনপি সরকারে এলে অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অতীতে যেমন দলের পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও তা হবে না।

    এর আগে সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, স্টুডেন্ট লোন চালু এবং পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফর ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দুই ব্যাংকের আপিল

    চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দুই ব্যাংকের আপিল

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছে দুটি ব্যাংক। একইসঙ্গে ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীও পৃথকভাবে আপিল করেছেন।

    রোববার নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংক আলাদাভাবে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জমা দিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এসব আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় যাচাই-বাছাই শেষে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। তবে পরে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে।

    জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাবি করেন, আদালতের দেওয়া এক আদেশে আসলাম চৌধুরীকে ঋণখেলাপি ঘোষণা থেকে বিরত রাখা হলেও শর্ত হিসেবে ১৩টি ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওই শর্ত থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ব্যাংক এশিয়ার ঢাকা করপোরেট অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। একই অভিযোগে ট্রাস্ট ব্যাংকও পৃথক আবেদন জমা দিয়েছে।

  • দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বদলে দিচ্ছে রাজনৈতিক স্রোত—চট্টগ্রামে আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে নতুন বার্তা

    দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বদলে দিচ্ছে রাজনৈতিক স্রোত—চট্টগ্রামে আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে নতুন বার্তা

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।
    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ঘিরে জনগণের আগ্রহ ও আস্থা বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষায়, “দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা দাঁড়িপাল্লা আজ পরিবর্তিত বাংলাদেশে নতুন করে গণমানুষের আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।”

    শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ভোটাধিকার থেকে বঞ্চনার অভিযোগ

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। বহু তরুণ একবারও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন,
    “জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে কেউ যেন আবার সাহস না দেখায়। অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ফল ভালো হবে না।”

    জুলুম, ধৈর্য ও প্রশাসনের ভূমিকা

    তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ওপর নানা অত্যাচার হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার বদলের পর তারা প্রতিশোধ নেওয়ার পথ বেছে নেননি। বরং জনগণকে ধৈর্য ধরতে উৎসাহ দিয়েছেন।
    “প্রশাসন ভয় পেয়েছিল, আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি,”—বলেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে মন্তব্য

    আগামী গণভোটকে ঘিরে তিনি বলেন, “যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, তারা পুরোনো অপরিষ্কার রাজনীতি থেকে মুক্ত ভবিষ্যৎ চান। আর যারা ‘না’ বলবেন তারা সেই পুরোনো রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে চায়।”

    চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি

    জামায়াতের আমির জানান, তারা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ চান। অন্য অনেক রাজনৈতিক দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
    তিনি আরও বলেন, “ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। কেউ যেন আর জুলুমের শিকার না হয়।”

    ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে তাদের কোনো এমপি-মন্ত্রী সরকারি বাড়ি বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি নেবেন না বলেও তিনি ঘোষণা দেন। তার ভাষায়, “বিলাসিতা কোনো জনপ্রতিনিধির চরিত্র হতে পারে না।”

    ভোটের নীতি পরিবর্তনের দাবি

    তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
    “‘আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’—এই নীতি আর চলবে না। এবার যার ভোট, সে-ই দেবে।”

    বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

    সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জনগণ এমন একটি দেশ চায় যা স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও লুটপাটমুক্ত হবে। তিনি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের উদাহরণ তুলে ধরে তাদের উত্তরসূরীদের বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

    নগর আমীরের প্রত্যাশা

    চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন,
    “জনগণ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকেই তারা বিজয়ী করবে।”

    অপেক্ষাকৃত বড় উপস্থিতি

    সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরাও অংশ নেন এবং দলের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।