Tag: চট্টগ্রাম বিভাগ

  • রমজানে চট্টগ্রামে কখন সাহরি ও ইফতার? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি

    রমজানে চট্টগ্রামে কখন সাহরি ও ইফতার? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ২০২৬ সালের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান শুরু হতে পারে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।

    এ বছর সাহরি ও ফজরের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আগের মতো সতর্কতামূলক তিন মিনিট যোগ বা বিয়োগ না রেখে, সাহরির শেষ সময়কেই সরাসরি ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিসে সতর্কতামূলক সময়ের উল্লেখ না থাকায় বায়তুল মোকাররমের খতিব ও দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতিদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালে ঢাকাসহ দেশের সব ৬৪ জেলার জন্য পৃথক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এবার আর কোনো জেলার রোজাদারকে ঢাকার সময়ের সঙ্গে সময় যোগ বা বিয়োগ করে হিসাব করতে হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত নিজ নিজ জেলার সময়সূচি অনুসরণ করলেই যথাযথভাবে সাহরি ও ইফতার করা যাবে।

    প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রথম রমজানে সাহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে। সাহরির শেষ সময় মূলত ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরুর সময় হিসেবেই ধরা হয়েছে।

    জেলার ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনায় রেখে সময় নির্ধারণে ভারসাম্য আনা হয়েছে। সাহরির সময় জেলার পূর্ব প্রান্ত এবং ইফতারের সময় জেলার পশ্চিম প্রান্তের সময়কে ভিত্তি ধরা হয়েছে, যাতে পুরো জেলার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সময়সূচি কার্যকর থাকে।

    📍 চট্টগ্রাম বিভাগের জেলার সময়সূচি (২০২৬):

    • চট্টগ্রাম জেলা: Chattogram Sehri Iftar Time 2026

    • লক্ষ্মীপুর: Lakshmipur Sehri Iftar Time 2026

    • রাঙামাটি: Rangamati Sehri Iftar Time 2026

    • ব্রাহ্মণবাড়িয়া: Brahmanbaria Sehri Iftar Time 2026

    • বান্দরবান: Bandarban Sehri Iftar Time 2026

    • ফেনী: Feni Sehri Iftar Time 2026

    • নোয়াখালী: Noakhali Sehri Iftar Time 2026

    • চাঁদপুর: Chandpur Sehri Iftar Time 2026

    • খাগড়াছড়ি: Khagrachari Sehri Iftar Time 2026

    • কুমিল্লা: Comilla Sehri Iftar Time 2026

    • কক্সবাজার: Cox’s Bazar Sehri Iftar Time 2026

    সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ

    সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ

    এবিএনএ:  চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ৫নং আমিলাইষ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আমিলাইষের পশ্চিম পাড়া এলাকায় ইকবাল প্রকাশ-সোহেল, মো. মুছা ও সাইফুল্লাহ প্রকাশ- হিরুদের বিরুদ্ধে জমিজমা, চাঁদাবাজি ও ঘরবাড়ি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।

    জানা যায়, উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আবদুল গণীর পুত্র- মোহাম্মদ ইউছুফের খতিয়ানভুক্ত, মৌরশী, পৈত্রিক আমিলাইষ মৌজার ১৬৫ ও ৩৪৭ খতিয়ানের মালিক দখলদার হওয়ার পরও জবর দখলে লিপ্ত আছে প্রতিপক্ষরা। গত ৪ নভেম্বর সকাল ৯ ঘটিকার সময় উক্ত জমি জোর-পূর্বক দখলের জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উক্ত জমি দখল নিতে ট্রেক্টার দিয়ে চাষ শুরু করলে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগে থানা পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তদের চাষ করতে নিষেধ করেন। অতপর ২দিন পর অভিযুক্তরা গত ৮ নভেম্বর পুনরায় চাষ শুরু করলে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউছুফ ৯৯৯ নম্বরে ফোনে সাহায্য চাইলে সাতকানিয়া থানা পুলিশ গিয়ে পুনরায় চাষ করতে নিষেধ করে। এরপরও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে উক্ত অভিযুক্তরাসহ পাশ্ববর্তী চরতী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোজাহেরুল হক কাদেরীর ছেলে-জাহিদ,পশ্চিম আমিলাইষ ১নং ওয়ার্ডের কালুর ছেলে নুর মোহাম্মদসহ ৩/৪ জন লোকজন নিয়ে জমি জবর দখল করে নেয়।

    ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউছুফ মতে, তার পিতা মৌং আবদুল গণীর আমিলাইষ, কাঞ্চনা ও ডলু মৌজায় ৪.৪০২৫ একর জমি আছে। তার পিতা আবদুল গণী মৃত্যু বরণের পর অভিযোগকারী মোহাম্মদ ইউছুফকে পৈতৃক জমি ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেই চলেছে প্রতিপক্ষ “এম.ইকবাল প্রকাশ-সোহেল ও মো. মুছা গং” য়েরা। প্রতিনিয়ত অভিযুক্তরা মামলা হামলা নির্যাতন করেই চলেছে। তার মতে অভিযুক্তরা পৈতৃক ৪.৪০২৫ একর জমির বেশীর ভাগ জমি জবরদখল করে নিলেও তিনি (মো. ইউছুফ) আমিলাইষ মৌজার ১৬৫ ও ৩৪৭ খতিয়ানের এক কোড়া বা এক খন্ড জমি আগে থেকে ভোগ করেছিলেন। সে মতে এখনো আছেন। ঘাতক অভিযুক্তরা পেশী শক্তি ব্যবহার করে তাও জবর দখলে লিপ্ত আছে। তিনি আরো জানান, অভিযুক্তরা পৈতৃক সম্পত্তি ভাই বোনদের ভাগ না দিয়ে তাও জবর দখল করে রাখছে। এবং তার উপার্জিত টাকা দিয়ে নির্মিত ৪ কামড়া বিশিষ্ট পাকা বাড়ি ও দখল কে নিয়েছে।

    তথ্য মতে আরো জানা যায়, শুধু মো. ইউছুফের জমি নয় এলাকার হাফেজ ইদ্রিসের ছেলে শাহ রিয়াজ ও মো. ইলিয়াস গং দের জমিও ” ইকবাল, মুছা” গং য়েরা জবর দখল করে রেখেছে। শাহ রিয়াজ ও মো. ইলিয়াস তাদের ১৬৭৭নং খতিয়াভুক্ত জমি দখল নিতে চাইলে উক্ত ইকবাল, মুছা গং য়েরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ নভেম্বর ইকবাল প্রকাশ সোহেল দিনদুপুরে শাহ রিয়াজের ভাই মো. শাহজাহানের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ৫/৬ সন্ত্রাসী নিয়ে ঢুকে তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে মারধর করে ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে, তার গলায় থাকা ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ১লাখ নব্বই হাজার টাকা) নিয়ে যায়। শাহজাহানের ছেলেরা মা কে রক্ষা করতে আসলে তাদেরকে ও ছোট ভাই মো. ইলিয়াছকে লোহার রড, গাছের লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করে হাত ও পিট থেতলিয়ে দেয়। সন্ত্রাসী ইকবাল গংয়েরা শাহজাহানের ভাই- মো. ইলিয়াসের কাঁধে থাকা বিকাশ ব্যবসার ৫০ হাজার টাকার ব্যাগটিও নিয়ে যায়। পর এলাকাবাসীরা দৌঁড়ে বাঁচাতে আসলে সন্ত্রাসী এম. ইকবাল ও অন্যরা দ্রুত পালাইয়া যায়।

    অত:পর স্থানীয়রা আহতদের চিকিৎসার জন্য সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বিষয়টি স্থানীয়রা মিমাংসা করাবে বললেও তিনি তা মেনে নেয়, পর কোন শালিস না হওয়ায় অসহায় শাহজাহানের স্ত্রী রোজিনা বেগম নিরুপায় হয়ে পরে সাতকানিয়া থানায় গিয়ে (মামলা নং ১১, তাং ১২/১১/২৫) মামলা দায়ের করেন। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো, সাতকানিয়া থানা পুলিশ এখনো এজাহারভুক্ত আসামী আনোয়ারা বেগমের পুত্র- এম.ইকবাল ও সন্দেহ ভাজনদের ধরতে পারেনি।  বরং পুনরায় সাতকানিয়া থানায় মিথ্যা মামলা (যার নং – ৯) দায়ের করেছে। সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনা তদন্ত না করে উক্ত ইকবালের মামলা নেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয়দের মতে আবদুল গণীর ছেলে মোহাম্মদ মুছা, ইকবাল প্রকাশ-সোহেল ও আনোয়ার মজিদ মো. সাইফুল্লাহ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধে লিপ্ত আছে।

    তথ্য মতে আরও জানা যায়, “ইকবাল গং” য়েরা ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউছুফ ও শাহ রিয়াজদের বিরুদ্ধে আগেও “ডিজিটাল নিরাপত্তা” আইনে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা নং ০৫(০৯)২০২২ দায়ের করে । কিন্তু উক্ত মামলাটি সাইবার ট্রাইবুনাল চট্টগ্রাম যার নং- ১৪৫/২০২৩ এ রুপান্তরিত হয়ে বিগত ২৬/২/২০২৫ ইং তারিখের আদেশে মিথ্যা, হয়রানিমুলক হওয়ায় এম. ইকবাল প্রকাশ সোহেল গংয়েরা হেরে যাওয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেই চলেছে।

    প্রশ্ন রয়ে যায় ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে দেশ আদৌ কি ২য় স্বাধীন? দেশের আইন এখনো বন্দী নয়কি? একজন নারীর শ্লীলতাহানি ও একজন মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে যাচাই না করে সাতকানিয়া থানা কিভাবে মামলা নিল?

    ভোক্তভূগী উক্ত মোহাম্মদ ইউছুফ একজন বয়োবৃদ্ধ মানবাধিকার কর্মী, অসুস্থ, তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে PLID ( Prolapsed Lumbar Intervertebral Disc), হরমোনসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশ ও বিদেশে চিকিৎসাধীন আছেন। তার স্ত্রী একজন MPO ভুক্ত স্কুলের সহ: শিক্ষিকা হন, ২ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়েটি সরকারী মেডিকেল কলেজে MBBS এ অধ্যয়নরত ও অন্যটি ছেলে, সরকারী কলেজে অধ্যয়নরত আছেন।

    দেশের জনস্বার্থে এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ সকলের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

     

  • টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, ৩ বিভাগে বন্যার আশঙ্কা—ঝুঁকিতে ১০ জেলার নিম্নাঞ্চল

    টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, ৩ বিভাগে বন্যার আশঙ্কা—ঝুঁকিতে ১০ জেলার নিম্নাঞ্চল

    এবিএনএ, ঢাকা :

    টানা বর্ষণের ফলে দেশের তিনটি বিভাগের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এতে ফেনীসহ অন্তত ১০টি জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাজু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়তে পারে। বিশেষ করে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেও এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানকার সারিগোরাইন, যাদুকাটা, মনু, ধলাই, খোয়াই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণার নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

    রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে শনিবার পর্যন্ত বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার দেখা যেতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানায়, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর বেড়েই চলেছে এবং তা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

    এদিকে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানির স্তর বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী শনিবার পর্যন্ত তা একই রকম থাকতে পারে এবং রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তা বাড়তে পারে। যদিও এটি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। তবে আগামী পাঁচ দিন পানির প্রবাহ বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বন্যা ঝুঁকি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।